ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পুলিশ থাকতে কেন লাঠিসোঁটা হাতে বিএনপির কর্মীরা, প্রশ্ন এবি পার্টির

শ্রমিক অসন্তোষ সামাল দিতে সরকারের ব্যর্থতা দেশের শিল্প খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, দেশে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক কর্মীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানতে চান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা কি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কাজ? তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিক তৌফিক শেখের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনার পেছনে কারা দায়ী, হামলাকারীদের পরিচয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সঠিক দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, তা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, শ্রমিকের অধিকার এবং পোশাকশিল্পের স্বার্থ একে অপরের পরিপন্থী নয়। শ্রমিকদের জীবনমান রক্ষায় ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাও সমান জরুরি। তবে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

পোশাকশিল্পের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের কার্যপদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, ১৫ অক্টোবর মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে। এমনকি প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ নভেম্বর। শ্রমিক অসন্তোষের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কার্যকর আলোচনা ও সমাধানের পথে এই বিলম্ব সরকারের সংকটের প্রস্তুতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু সতর্ক করে বলেন, শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের নামে রাজনৈতিক ক্যাডারদের মাঠে নামানো কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দুর্বল করছে না, বরং নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারও এমন ভুল করেছিল, যার কুফল জাতি দেখেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই কেন রাজনৈতিক কর্মীরা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন? সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্যোগ ঋণের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

পুলিশ থাকতে কেন লাঠিসোঁটা হাতে বিএনপির কর্মীরা, প্রশ্ন এবি পার্টির

আপডেট সময় ০৫:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক অসন্তোষ সামাল দিতে সরকারের ব্যর্থতা দেশের শিল্প খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, দেশে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক কর্মীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানতে চান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা কি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কাজ? তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিক তৌফিক শেখের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনার পেছনে কারা দায়ী, হামলাকারীদের পরিচয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সঠিক দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, তা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, শ্রমিকের অধিকার এবং পোশাকশিল্পের স্বার্থ একে অপরের পরিপন্থী নয়। শ্রমিকদের জীবনমান রক্ষায় ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাও সমান জরুরি। তবে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

পোশাকশিল্পের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের কার্যপদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, ১৫ অক্টোবর মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে। এমনকি প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ নভেম্বর। শ্রমিক অসন্তোষের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কার্যকর আলোচনা ও সমাধানের পথে এই বিলম্ব সরকারের সংকটের প্রস্তুতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু সতর্ক করে বলেন, শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের নামে রাজনৈতিক ক্যাডারদের মাঠে নামানো কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দুর্বল করছে না, বরং নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারও এমন ভুল করেছিল, যার কুফল জাতি দেখেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই কেন রাজনৈতিক কর্মীরা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন? সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন।