ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারল ট্রাম্পের দল, দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলকে পরাজিত করে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের ডিসিশন ডেসকের পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের এই ঐতিহাসিক জয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৫০ বছরে একই নির্বাচনি চক্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে অন্য দলের হাতে স্থানান্তরিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুবার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রেকর্ড পরিমাণ অজনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা এ সাফল্য অর্জন করেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ফলে প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের শেষ দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজরদারি, জবাবদিহিতা ও নীতি বাস্তবায়নে বাড়তি ক্ষমতা পাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক শিবির। সিএনএনের ভোটার জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি ভোটার ট্রাম্পের সার্বিক কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার অভিমত দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের নীতির কারণে মার্কিন অর্থনীতি আরও খারাপের দিকে গেছে।

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন ও ইতিহাস

এই নির্বাচনে জয় পেতে ডেমোক্র্যাটদের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে দুই অঙ্কের ব্যবধানে হেরে যাওয়া একাধিক অঙ্গরাজ্যে সাফল্য পেতে হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজ্যে বড় ধরনের আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

  • সাউথ ক্যারোলাইনা২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে যাওয়া সাউথ ক্যারোলাইনায় সিনেট আসন জিতেছে ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে ১৯৯৪ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি।
  • কানসাসকানসাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এই রাজ্যটিতে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
  • অন্যান্য রাজ্যসাউথ ক্যারোলাইনা ও কানসাস ছাড়াও টেক্সাস, ওহাইও এবং আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেছে দলটি।

প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়া মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্পের আরোপিত বিভিন্ন শুল্ক, অনাকাঙ্ক্ষিত ইরান যুদ্ধ এবং তার ব্যক্তিগত আচরণ ও পারিবারিক সম্পদ বাড়ানোর বিষয়ে সাধারণ মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ রিপাবলিকান পার্টির এই বড় পরাজয়ের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল, কারণ সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র তিনটি বাড়তি আসন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারিয়ে থাকে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নতুন ক্ষমতা ও আইনি সীমাবদ্ধতা

ভোটের পূর্ণাঙ্গ গণনাকার্য শেষ না হওয়ায় দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের মোট আসনের ব্যবধান এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে উভয় কক্ষেই স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে তারা। দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের সুযোগ বাড়বে। এসব তদন্ত জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরাসরি তলব করার আইনি সমন জারির বিশেষ ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। তাছাড়া সিনেট ডেমোক্র্যাটদের অধীনে থাকায় ট্রাম্পের পছন্দের বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টে শূন্য পদে তার মনোনীত বিচারক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করলেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে নিজেদের ইচ্ছামতো সব আইন সহজে পাস করা সম্ভব হবে না। কারণ মার্কিন আইনের বিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের যেকোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা বহাল রয়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সিনেটে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা দলটির পথকে চ্যালেঞ্জিং রাখবে। এ ছাড়া সিনেটে অধিকাংশ আইন পাসের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় অনুমোদনহীন ৯ ইটভাটা, চলছে অবৈধ ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারল ট্রাম্পের দল, দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের

আপডেট সময় ১১:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলকে পরাজিত করে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের ডিসিশন ডেসকের পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের এই ঐতিহাসিক জয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৫০ বছরে একই নির্বাচনি চক্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে অন্য দলের হাতে স্থানান্তরিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুবার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রেকর্ড পরিমাণ অজনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা এ সাফল্য অর্জন করেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ফলে প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের শেষ দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজরদারি, জবাবদিহিতা ও নীতি বাস্তবায়নে বাড়তি ক্ষমতা পাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক শিবির। সিএনএনের ভোটার জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি ভোটার ট্রাম্পের সার্বিক কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার অভিমত দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের নীতির কারণে মার্কিন অর্থনীতি আরও খারাপের দিকে গেছে।

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন ও ইতিহাস

এই নির্বাচনে জয় পেতে ডেমোক্র্যাটদের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে দুই অঙ্কের ব্যবধানে হেরে যাওয়া একাধিক অঙ্গরাজ্যে সাফল্য পেতে হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজ্যে বড় ধরনের আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

  • সাউথ ক্যারোলাইনা২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে যাওয়া সাউথ ক্যারোলাইনায় সিনেট আসন জিতেছে ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে ১৯৯৪ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি।
  • কানসাসকানসাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এই রাজ্যটিতে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
  • অন্যান্য রাজ্যসাউথ ক্যারোলাইনা ও কানসাস ছাড়াও টেক্সাস, ওহাইও এবং আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেছে দলটি।

প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়া মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্পের আরোপিত বিভিন্ন শুল্ক, অনাকাঙ্ক্ষিত ইরান যুদ্ধ এবং তার ব্যক্তিগত আচরণ ও পারিবারিক সম্পদ বাড়ানোর বিষয়ে সাধারণ মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ রিপাবলিকান পার্টির এই বড় পরাজয়ের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল, কারণ সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র তিনটি বাড়তি আসন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারিয়ে থাকে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নতুন ক্ষমতা ও আইনি সীমাবদ্ধতা

ভোটের পূর্ণাঙ্গ গণনাকার্য শেষ না হওয়ায় দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের মোট আসনের ব্যবধান এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে উভয় কক্ষেই স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে তারা। দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের সুযোগ বাড়বে। এসব তদন্ত জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরাসরি তলব করার আইনি সমন জারির বিশেষ ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। তাছাড়া সিনেট ডেমোক্র্যাটদের অধীনে থাকায় ট্রাম্পের পছন্দের বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টে শূন্য পদে তার মনোনীত বিচারক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করলেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে নিজেদের ইচ্ছামতো সব আইন সহজে পাস করা সম্ভব হবে না। কারণ মার্কিন আইনের বিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের যেকোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা বহাল রয়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সিনেটে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা দলটির পথকে চ্যালেঞ্জিং রাখবে। এ ছাড়া সিনেটে অধিকাংশ আইন পাসের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন হয়।