ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় হামলা

ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে এসব বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

আমেরিকান সামরিক অবস্থান ও ট্রাম্পের মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে এমন সামরিক অভিযানের খবর প্রকাশ্যে এল। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে কিছুটা খাটো করে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো বা হুমকি তৈরির সক্ষমতা বিনষ্ট করতে বেশ কিছুদিন ধরে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক পরিবহন নিরাপদ রাখতেই মার্কিন বাহিনী মূলত প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও স্থানীয় পরিস্থিতি

ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মঙ্গলবার ভোরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে

  • ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
  • আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স (Fars) জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে এসেছে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পূর্ববর্তী সংঘাতের বিবরণ

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হলেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান বজায় রেখেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাতারের মধ্যস্থতায় সংলাপে অংশ নিতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল ইরান। পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা তদারকি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় মতবিরোধের জেরে চুক্তিটির পূর্ণ বাস্তবায়ন স্থগিত থাকে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে লড়াই ৪৭০ আসনে

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় হামলা

আপডেট সময় ০৯:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে এসব বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

আমেরিকান সামরিক অবস্থান ও ট্রাম্পের মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে এমন সামরিক অভিযানের খবর প্রকাশ্যে এল। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে কিছুটা খাটো করে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো বা হুমকি তৈরির সক্ষমতা বিনষ্ট করতে বেশ কিছুদিন ধরে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক পরিবহন নিরাপদ রাখতেই মার্কিন বাহিনী মূলত প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও স্থানীয় পরিস্থিতি

ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মঙ্গলবার ভোরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে

  • ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
  • আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স (Fars) জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে এসেছে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পূর্ববর্তী সংঘাতের বিবরণ

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হলেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান বজায় রেখেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাতারের মধ্যস্থতায় সংলাপে অংশ নিতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল ইরান। পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা তদারকি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় মতবিরোধের জেরে চুক্তিটির পূর্ণ বাস্তবায়ন স্থগিত থাকে।