ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শিক্ষা ক্যাডার প্রশিক্ষণে ব্যর্থতার দায় মন্ত্রণালয়ের, বললেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণে যে বড় ঘাটতি রয়েছে, তার জন্য সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়ী করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, অ্যাডমিন ক্যাডারের সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের পার্থক্য হচ্ছে, ফল্ট অব দ্য এডুকেশন মিনিস্ট্রি। সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন এবং শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিশাল বৈষম্য রয়েছে। সাধারণত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়োগের পর চার থেকে পাঁচ মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ পান। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে যোগদানের আগে তেমন কোনো সুসংগঠিত ওরিয়েন্টেশন বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। অ্যাডমিনে চার-পাঁচ মাস ট্রেনিং দিয়ে তারপর আসছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ব্যবস্থার ত্রুটি মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতো শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ না দেওয়ার দায় মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। একই মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে আসার পরেও প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় অনেক সময় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্য ক্যাডারের তুলনায় ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়।

ড. মিলন আরও বলেন, বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী বা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারের ক্ষেত্রে সেটি নেই। অথচ শিক্ষকতায় আসা ব্যক্তিরাও একই বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, নিয়োগের পর কখনো কি তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ ভেবেছে?

অবশ্য সরকারি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ৬৫০ জন শিক্ষককে নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আরও প্রায় ৩৮৪ জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আরও প্রায় ৩৮৪ জনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ জানান ড. মিলন। তার মতে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার সিংহভাগ জুড়ে থাকে কেবল এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ডিগ্রি, অনার্স বা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে সেভাবে কোনো আলোচনা হয় না। শিক্ষার্থীরা নিজেরা পড়ে শিখবে, এই ধারণা থেকে উচ্চশিক্ষার মান যাচাইয়ে কিছুটা অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষার প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা আমাদের গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু এসএসসি-এইচএসসি নিয়েই এত কথা বলে বেড়াচ্ছি। কারণ আমরা মনে করি, তারা নিজে পড়ে নিজে শিখবেই, সময় নষ্ট করবে না। কিন্তু সেখানে কোয়ালিটি আছে কি না, সেটা আমাদের দেখতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলনে নতুন রেকর্ড গড়ল জিটিসি

শিক্ষা ক্যাডার প্রশিক্ষণে ব্যর্থতার দায় মন্ত্রণালয়ের, বললেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:২৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণে যে বড় ঘাটতি রয়েছে, তার জন্য সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়ী করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, অ্যাডমিন ক্যাডারের সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের পার্থক্য হচ্ছে, ফল্ট অব দ্য এডুকেশন মিনিস্ট্রি। সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন এবং শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিশাল বৈষম্য রয়েছে। সাধারণত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়োগের পর চার থেকে পাঁচ মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ পান। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে যোগদানের আগে তেমন কোনো সুসংগঠিত ওরিয়েন্টেশন বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। অ্যাডমিনে চার-পাঁচ মাস ট্রেনিং দিয়ে তারপর আসছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ব্যবস্থার ত্রুটি মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতো শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ না দেওয়ার দায় মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। একই মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে আসার পরেও প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় অনেক সময় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্য ক্যাডারের তুলনায় ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়।

ড. মিলন আরও বলেন, বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী বা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারের ক্ষেত্রে সেটি নেই। অথচ শিক্ষকতায় আসা ব্যক্তিরাও একই বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, নিয়োগের পর কখনো কি তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ ভেবেছে?

অবশ্য সরকারি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ৬৫০ জন শিক্ষককে নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আরও প্রায় ৩৮৪ জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আরও প্রায় ৩৮৪ জনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ জানান ড. মিলন। তার মতে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার সিংহভাগ জুড়ে থাকে কেবল এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ডিগ্রি, অনার্স বা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে সেভাবে কোনো আলোচনা হয় না। শিক্ষার্থীরা নিজেরা পড়ে শিখবে, এই ধারণা থেকে উচ্চশিক্ষার মান যাচাইয়ে কিছুটা অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষার প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা আমাদের গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু এসএসসি-এইচএসসি নিয়েই এত কথা বলে বেড়াচ্ছি। কারণ আমরা মনে করি, তারা নিজে পড়ে নিজে শিখবেই, সময় নষ্ট করবে না। কিন্তু সেখানে কোয়ালিটি আছে কি না, সেটা আমাদের দেখতে হবে।