ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

জাপানি বিনিয়োগে ২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য বাংলাদেশ-জাপানের

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ও জাপান। এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর, কার্যকর ও অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ অংশীদারত্বে উন্নীত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু এবং রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে জাপানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উভয় পক্ষ। জাপানের ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তার জন্য জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যতে জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সহযোগিতার লক্ষ্যে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ একটি আগ্রহপত্র স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে যৌথ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া দুই প্রধানমন্ত্রীই বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রটিও এই বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি সই ও কার্যকর হওয়ার বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের উন্নয়ন সহায়তায় একটি টহল জাহাজ প্রদান এবং নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহল নৌযান দেওয়ার বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গঠন, শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়েও উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষ কর্মী উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় মানুষের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

সবশেষে, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে টোকিও ও ঢাকা। এই বিনিয়োগ ও সহযোগিতার লক্ষ্য বাস্তবায়ন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকর সম্পাদনের ওপর নির্ভর করছে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামের মুরাদপুরে নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় খুলল শান্তা লাইফ ইনস্যুরেন্স

জাপানি বিনিয়োগে ২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য বাংলাদেশ-জাপানের

আপডেট সময় ০৫:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ও জাপান। এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর, কার্যকর ও অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ অংশীদারত্বে উন্নীত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু এবং রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে জাপানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উভয় পক্ষ। জাপানের ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তার জন্য জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যতে জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সহযোগিতার লক্ষ্যে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ একটি আগ্রহপত্র স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে যৌথ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া দুই প্রধানমন্ত্রীই বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রটিও এই বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি সই ও কার্যকর হওয়ার বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের উন্নয়ন সহায়তায় একটি টহল জাহাজ প্রদান এবং নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহল নৌযান দেওয়ার বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গঠন, শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়েও উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষ কর্মী উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় মানুষের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

সবশেষে, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে টোকিও ও ঢাকা। এই বিনিয়োগ ও সহযোগিতার লক্ষ্য বাস্তবায়ন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকর সম্পাদনের ওপর নির্ভর করছে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।