ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের পাঁচ দিনের সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুবাই হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাঁচ দিনের সফর সফলভাবে শেষ করে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ফ্লাইটটি দুবাই পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই ভাষণে তিনি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সহযোগিতার উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বিশ্ব সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও পারস্পরিক কূটনৈতিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ও অর্থবহ সহায়তা কামনা করেন তিনি।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময় কাটে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এর মধ্যে তুরস্ক, পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের অবারিত সুযোগ ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের রূপরেখা তুলে ধরেন।

সফরটির অন্যতম প্রধান অর্জন ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, যথাযথ আর্থিক সহায়তা এবং বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান। পাঁচ দিনের এই সফর জাতিসংঘের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ০২:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাঁচ দিনের সফর সফলভাবে শেষ করে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ফ্লাইটটি দুবাই পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই ভাষণে তিনি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সহযোগিতার উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বিশ্ব সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও পারস্পরিক কূটনৈতিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ও অর্থবহ সহায়তা কামনা করেন তিনি।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময় কাটে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এর মধ্যে তুরস্ক, পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের অবারিত সুযোগ ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের রূপরেখা তুলে ধরেন।

সফরটির অন্যতম প্রধান অর্জন ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, যথাযথ আর্থিক সহায়তা এবং বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান। পাঁচ দিনের এই সফর জাতিসংঘের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।