ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এপিবিএনের কার্যপদ্ধতির বিবরণ তলব

আসন্ন আইকাও নিরাপত্তা অডিটকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় দায়িত্বরত এপিবিএন সদস্যদের কাজের সুনির্দিষ্ট লিখিত বিবরণ চেয়েছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা বা আইকাওয়ের আসন্ন নিরাপত্তা অডিটকে সামনে রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড বা বহিরাঙ্গন এলাকায় নিয়োজিত এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের দায়িত্ব ও কার্যপদ্ধতির লিখিত বিবরণ তলব করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদের সই করা চিঠিতে ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চূড়ান্ত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হলেও ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এপিবিএনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করতে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ জাতীয় বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচি ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে একটি সুনির্দিষ্ট এসওপি তৈরির সুপারিশ করেছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই এসওপি জমা হলে তা বেসামরিক বিমান চলাচল সদরদফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার আশফাক ওয়ালী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে ল্যান্ডসাইড নিরাপত্তার দায়িত্ব ও কার্যপদ্ধতি স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ থাকা জরুরি। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিমানবন্দরে আইকাওয়ের অন-সাইট নিরাপত্তা অডিট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অডিটের সময় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্বের সীমানা ও সমন্বয় পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতেও এপিবিএনের কাছে তাদের দায়িত্বের লিখিত বিবরণ চাওয়া হয়েছিল, তবে তা দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়া যায়নি। কেবল এপিবিএন মোতায়েনের শুরুতে একবার এমন তথ্য দেওয়া হয়েছিল। আইন অনুযায়ী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসংক্রান্ত একক তদারককারী সংস্থা হিসেবে সব সংস্থার কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী ল্যান্ডসাইড নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব এপিবিএনের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। পরে অনুমোদন শেষে তা আবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আসবে।

সাম্প্রতিক সময়ে এপিবিএন সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব বিষয় বিমানবন্দর সংক্রান্ত জাতীয় কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে এবং এপিবিএনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডসাইড এলাকার নিরাপত্তা আরও সুসংহত, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক করতেই এই এসওপি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে এপিবিএনের অধিনায়ক শেখ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি অবগত আছেন এবং কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জবাব বা এসওপি জমা দেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ছেলের হাতে বাবা আহত, পরে মৃত্যু

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এপিবিএনের কার্যপদ্ধতির বিবরণ তলব

আপডেট সময় ১১:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা বা আইকাওয়ের আসন্ন নিরাপত্তা অডিটকে সামনে রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড বা বহিরাঙ্গন এলাকায় নিয়োজিত এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের দায়িত্ব ও কার্যপদ্ধতির লিখিত বিবরণ তলব করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদের সই করা চিঠিতে ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চূড়ান্ত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হলেও ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এপিবিএনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করতে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ জাতীয় বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচি ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে একটি সুনির্দিষ্ট এসওপি তৈরির সুপারিশ করেছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই এসওপি জমা হলে তা বেসামরিক বিমান চলাচল সদরদফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার আশফাক ওয়ালী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে ল্যান্ডসাইড নিরাপত্তার দায়িত্ব ও কার্যপদ্ধতি স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ থাকা জরুরি। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিমানবন্দরে আইকাওয়ের অন-সাইট নিরাপত্তা অডিট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অডিটের সময় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্বের সীমানা ও সমন্বয় পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতেও এপিবিএনের কাছে তাদের দায়িত্বের লিখিত বিবরণ চাওয়া হয়েছিল, তবে তা দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়া যায়নি। কেবল এপিবিএন মোতায়েনের শুরুতে একবার এমন তথ্য দেওয়া হয়েছিল। আইন অনুযায়ী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসংক্রান্ত একক তদারককারী সংস্থা হিসেবে সব সংস্থার কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী ল্যান্ডসাইড নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব এপিবিএনের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। পরে অনুমোদন শেষে তা আবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আসবে।

সাম্প্রতিক সময়ে এপিবিএন সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব বিষয় বিমানবন্দর সংক্রান্ত জাতীয় কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে এবং এপিবিএনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডসাইড এলাকার নিরাপত্তা আরও সুসংহত, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক করতেই এই এসওপি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে এপিবিএনের অধিনায়ক শেখ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি অবগত আছেন এবং কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জবাব বা এসওপি জমা দেওয়া হবে।