ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বন্ধ মেট্রোরেল

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে রাস্তায় নামা পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়া ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা পুনরায় সড়ক অবরোধ করলে এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, অন্যদিকে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বকেয়া ও নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে শুরু হওয়া এই শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। পোশাক বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, রাজপথের অসন্তোষ ও নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, আশুলিয়া এবং জিরানী এলাকার মোট ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় কাজ না করেই এসব কারখানার ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের মুখে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে চরম শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোমবার বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শিল্পাঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি কারখানার ৫৩ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক কাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী অঞ্চলে, যেখানে ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টির উৎপাদন বন্ধ থাকে এবং এতে সাড়াতিন লাখেরও বেশি বা সাত লাখ ৪৩ হাজার শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করেন। এর বাইরে নারায়াণগঞ্জের ১৯৯টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৯টিতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হন। তবে চট্টগ্রাম এলাকার ৩৪০টি কারখানায় এমন কোনো গোলযোগ ঘটেনি এবং সেখানে উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল। কাজ না করে চলে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৪০ জন।

সংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠন বিজিএমইএ-র হিসাব অনুযায়ী, সার্বিকভাবে দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত মোট দুই হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে এক হাজার ৪৫৫টি কারখানা খোলা রাখতে সক্ষম হয়েছেন মালিকরা। উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চলগুলোতে থমথমে আবহাওয়া বজায় রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার সদস্যসহ আটক ছয়

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বন্ধ মেট্রোরেল

আপডেট সময় ১০:৪২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে রাস্তায় নামা পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়া ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা পুনরায় সড়ক অবরোধ করলে এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, অন্যদিকে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বকেয়া ও নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে শুরু হওয়া এই শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। পোশাক বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, রাজপথের অসন্তোষ ও নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, আশুলিয়া এবং জিরানী এলাকার মোট ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় কাজ না করেই এসব কারখানার ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের মুখে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে চরম শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোমবার বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শিল্পাঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি কারখানার ৫৩ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক কাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী অঞ্চলে, যেখানে ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টির উৎপাদন বন্ধ থাকে এবং এতে সাড়াতিন লাখেরও বেশি বা সাত লাখ ৪৩ হাজার শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করেন। এর বাইরে নারায়াণগঞ্জের ১৯৯টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৯টিতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হন। তবে চট্টগ্রাম এলাকার ৩৪০টি কারখানায় এমন কোনো গোলযোগ ঘটেনি এবং সেখানে উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল। কাজ না করে চলে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৪০ জন।

সংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠন বিজিএমইএ-র হিসাব অনুযায়ী, সার্বিকভাবে দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত মোট দুই হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে এক হাজার ৪৫৫টি কারখানা খোলা রাখতে সক্ষম হয়েছেন মালিকরা। উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চলগুলোতে থমথমে আবহাওয়া বজায় রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।