ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসার জন্য সব দ্বার উন্মুক্ত। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনের জেপি মর্গান সদর দপ্তরে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ সময় ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় তিনি একটি মূল শিক্ষা পেয়েছেন। বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন গভীর আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং ব্যবসার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে এমন এক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।

জেপি মর্গানের আয়োজনে এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, তিনি এখানে ওয়াল স্ট্রিটের কোনো প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এসেছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য মুনাফা ও স্বার্থ রক্ষা, আর সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের উন্নয়ন। তবে উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্যই হলো সাফল্যের নিশ্চয়তা অর্জন করা। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন।

দেশের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য আদর্শ স্থান। বিশ্ব বাংলাদেশকে কেবল তৈরি পোশাকের বড় কেন্দ্র হিসেবে চিনলেও, বর্তমান সরকার এটিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমুখী শিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করতে চায়। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপকল্প প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্য অর্জনে জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার এবং মুনাফা সহজে স্থানান্তর করার মতো সব বাধা দূর করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি সরাসরি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়-এসব তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

পরিশেষে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু স্বল্পমেয়াদী লেনদেনে আগ্রহী নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। তিনি বিনিয়োগকারীদের যেকোনো সমস্যার সমাধানে সরাসরি কথা বলার এবং বাধা দূর করার আশ্বাস দেন।

উক্ত বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরির নতুন পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশে নতুন সাইবার ইউনিট গঠনের নীতিগত অনুমোদন

বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসার জন্য সব দ্বার উন্মুক্ত। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনের জেপি মর্গান সদর দপ্তরে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ সময় ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় তিনি একটি মূল শিক্ষা পেয়েছেন। বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন গভীর আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং ব্যবসার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে এমন এক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।

জেপি মর্গানের আয়োজনে এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, তিনি এখানে ওয়াল স্ট্রিটের কোনো প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এসেছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য মুনাফা ও স্বার্থ রক্ষা, আর সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের উন্নয়ন। তবে উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্যই হলো সাফল্যের নিশ্চয়তা অর্জন করা। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন।

দেশের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য আদর্শ স্থান। বিশ্ব বাংলাদেশকে কেবল তৈরি পোশাকের বড় কেন্দ্র হিসেবে চিনলেও, বর্তমান সরকার এটিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমুখী শিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করতে চায়। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপকল্প প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্য অর্জনে জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার এবং মুনাফা সহজে স্থানান্তর করার মতো সব বাধা দূর করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি সরাসরি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়-এসব তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

পরিশেষে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু স্বল্পমেয়াদী লেনদেনে আগ্রহী নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। তিনি বিনিয়োগকারীদের যেকোনো সমস্যার সমাধানে সরাসরি কথা বলার এবং বাধা দূর করার আশ্বাস দেন।

উক্ত বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরির নতুন পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।