ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ১ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্প খাতে ২০৩৫ সালের মধ্যে এক লাখ কোটি রুপি বা এক ট্রিলিয়ন রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এই বড় বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া ভারতের সামগ্রিক বিকাশ সম্ভব নয়। এই বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে বন্দর, লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন, সড়ক, সেতু, রোপওয়ে, গ্রিন সিমেন্ট এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া, রাজ্যের রাইটার্স বিল্ডিংস সংস্কার এবং কলকাতার দুর্গাপূজায় ‘আদানি পুজো প্রিভিউ’-এর মাধ্যমে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গভীর সমুদ্রবন্দর ও ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে দুর্গাপূজা—পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন আদানি গোষ্ঠীর ছাপ পড়তে চলেছে। আদানি বলেছেন, “আমরা ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ কোটি রুপিরও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছি। তিনি গুজরাটের মুন্দ্রার সঙ্গে এর তুলনা টানেন, যা বর্তমানে তার গোষ্ঠীর বিশাল সব প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

গৌতম আদানি মনে করেন, ভারতের বিশাল শিল্প-বলয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি অত্যন্ত কার্যকর সামুদ্রিক ও লজিস্টিকস সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এ রাজ্য। আদানি উল্লেখ করেন, তিন দশক আগে গুজরাটের মুন্দ্রায় প্রথম কর্মভূমি গড়ে তুলেছিলেন তারা, এবার পশ্চিমবঙ্গকে তাদের দ্বিতীয় কর্মভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এই বাংলা(পশ্চিমবঙ্গ) থেকে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি উঠেছিল। পাশাপাশি, আদানি গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কালীঘাটে প্রার্থনা করার সময় আমি মায়ের আশীর্বাদ চেয়েছি, যাতে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের দ্বিতীয় ‘কর্মভূমি’ হয়ে ওঠে—এবার পূর্বাঞ্চলে।

বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কলকাতার নিউটাউনে ৫১ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে দুই হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’। ভারতের এইমস হাসপাতালের আদলে নির্মিত এই বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে প্রায় চার হাজার কোটি রুপি ব্যয় হবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, একটি শক্তিশালী বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ধরনের বড় মাপের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। একটি শক্তিশালী বাংলা(পশ্চিমবঙ্গ) গড়ে তোলার লক্ষ্য কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, আমার কাছে পশ্চিমবঙ্গ কেবল বিনিয়োগের একটি গন্তব্য নয়।

প্রস্তাবিত এই বিশাল চিকিৎসা কেন্দ্রে গবেষণাগার, মেডিক্যাল কলেজ, নার্সিং স্কুল ও আউটডোর চিকিৎসাসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। বিশেষ করে, হাসপাতালের মোট শয্যার অর্ধেক অংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প নয়, বরং রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি বড় অংশ হিসেবে দেখছে আদানি গোষ্ঠী।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি শিল্পীদের পেছনে বিপুল ব্যয়

পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ১ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা

আপডেট সময় ০২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্প খাতে ২০৩৫ সালের মধ্যে এক লাখ কোটি রুপি বা এক ট্রিলিয়ন রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এই বড় বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া ভারতের সামগ্রিক বিকাশ সম্ভব নয়। এই বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে বন্দর, লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন, সড়ক, সেতু, রোপওয়ে, গ্রিন সিমেন্ট এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া, রাজ্যের রাইটার্স বিল্ডিংস সংস্কার এবং কলকাতার দুর্গাপূজায় ‘আদানি পুজো প্রিভিউ’-এর মাধ্যমে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গভীর সমুদ্রবন্দর ও ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে দুর্গাপূজা—পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন আদানি গোষ্ঠীর ছাপ পড়তে চলেছে। আদানি বলেছেন, “আমরা ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ কোটি রুপিরও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছি। তিনি গুজরাটের মুন্দ্রার সঙ্গে এর তুলনা টানেন, যা বর্তমানে তার গোষ্ঠীর বিশাল সব প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

গৌতম আদানি মনে করেন, ভারতের বিশাল শিল্প-বলয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি অত্যন্ত কার্যকর সামুদ্রিক ও লজিস্টিকস সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এ রাজ্য। আদানি উল্লেখ করেন, তিন দশক আগে গুজরাটের মুন্দ্রায় প্রথম কর্মভূমি গড়ে তুলেছিলেন তারা, এবার পশ্চিমবঙ্গকে তাদের দ্বিতীয় কর্মভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এই বাংলা(পশ্চিমবঙ্গ) থেকে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি উঠেছিল। পাশাপাশি, আদানি গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কালীঘাটে প্রার্থনা করার সময় আমি মায়ের আশীর্বাদ চেয়েছি, যাতে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের দ্বিতীয় ‘কর্মভূমি’ হয়ে ওঠে—এবার পূর্বাঞ্চলে।

বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কলকাতার নিউটাউনে ৫১ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে দুই হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’। ভারতের এইমস হাসপাতালের আদলে নির্মিত এই বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে প্রায় চার হাজার কোটি রুপি ব্যয় হবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, একটি শক্তিশালী বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ধরনের বড় মাপের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। একটি শক্তিশালী বাংলা(পশ্চিমবঙ্গ) গড়ে তোলার লক্ষ্য কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, আমার কাছে পশ্চিমবঙ্গ কেবল বিনিয়োগের একটি গন্তব্য নয়।

প্রস্তাবিত এই বিশাল চিকিৎসা কেন্দ্রে গবেষণাগার, মেডিক্যাল কলেজ, নার্সিং স্কুল ও আউটডোর চিকিৎসাসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। বিশেষ করে, হাসপাতালের মোট শয্যার অর্ধেক অংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প নয়, বরং রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি বড় অংশ হিসেবে দেখছে আদানি গোষ্ঠী।