ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট, বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে ওঠেন, তখন অনেক দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধি দল প্রতিবাদস্বরূপ কক্ষ ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অধিবেশনের সভাপতিকে বারবার উপস্থিত সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানাতে হয়। কক্ষের ভেতরে যেখানে একদল প্রতিনিধি ওয়াকআউট করছিলেন, ঠিক সেখানেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

বক্তব্য প্রদানের সময় নেতানিয়াহু এই ওয়াকআউটের তীব্র সমালোচনা করে উপস্থিত প্রতিনিধিদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই অন্যান্য রাষ্ট্রকে এই ভাষণ যৌথভাবে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারক দেওয়া হয়েছিল, যা এএফপির হাতে এসেছে।

অধিবেশনস্থলের বাইরেও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি ছিল, ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন, গাজাকে বাঁচতে দিন’। এ সময় অনেকে রাস্তায় যান চলাচল বাধাগ্রস্ত করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে।

যুক্তরাষ্ট্রে এই সংক্ষিপ্ত সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো বৈঠকের কর্মসূচি ছিল না। তবে ভাষণের সময় তিনি ট্রাম্পের সাহসী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বর্বরতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্পকে নিজেদের সবচেয়ে বড় বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে ধন্যবাদ জানান।

গত তিন বছর ধরে গাজায় যুদ্ধের ফলে ইসরায়েল ক্রমশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও তাঁর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যার ফলে অনেক দেশে তাঁর সফর সীমিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া ফ্রান্স, ব্রিটেন ও কানাডার মতো ঐতিহাসিক মিত্র দেশগুলোও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

নেতানিয়াহু এসব পশ্চিমা দেশের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নেতারা ইহুদিবিদ্বেষী জনতার চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তোষণের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি ব্রিটিশ ও ফরাসি ঔপনিবেশিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তাদের কর্মকাণ্ডকে দুর্বলতা বলে অভিহিত করেন। এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন যে, পশ্চিম তীরে হামাসের অস্তিত্ব নেই। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল ক্ষোভ প্রকাশ করে।

ইরানের বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, সেখানে একটি ‘খুনে স্বৈরশাসন’ বিদ্যমান এবং তাদের নেতৃত্বের পতন খুব বেশি দূরে নয়। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। কুদস ফোর্সের নিহত কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির ছবির বিষয়টিও তিনি ভাষণে তুলে ধরেন। যদিও আন্তর্জাতিক চাপ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো পদক্ষেপের পরও ইরান সরকার তাদের অবস্থান অটুট রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেতানিয়াহু মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের একাংশ তাঁকে উদ্দেশ করে দুয়ো দিতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেতানিয়াহু বলেন, ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ যেসব ব্যক্তি এখনো এই কক্ষ থেকে বের হয়ে যাননি, তারাও দয়া করে বের হয়ে যান।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এএফপির হাতে আসা একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে অন্য রাষ্ট্রগুলোকে নেতানিয়াহুর ভাষণ যৌথভাবে বর্জন ও ওয়াকআউট করার অনুরোধ জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করে যাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি মাসের শুরুতে একসময় ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাকিব খানকে ঢালিউডের ‘রাজা’ বললেন শাহরিয়ার নাজিম জয়

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট, বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০৯:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে ওঠেন, তখন অনেক দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধি দল প্রতিবাদস্বরূপ কক্ষ ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অধিবেশনের সভাপতিকে বারবার উপস্থিত সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানাতে হয়। কক্ষের ভেতরে যেখানে একদল প্রতিনিধি ওয়াকআউট করছিলেন, ঠিক সেখানেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

বক্তব্য প্রদানের সময় নেতানিয়াহু এই ওয়াকআউটের তীব্র সমালোচনা করে উপস্থিত প্রতিনিধিদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই অন্যান্য রাষ্ট্রকে এই ভাষণ যৌথভাবে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারক দেওয়া হয়েছিল, যা এএফপির হাতে এসেছে।

অধিবেশনস্থলের বাইরেও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি ছিল, ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন, গাজাকে বাঁচতে দিন’। এ সময় অনেকে রাস্তায় যান চলাচল বাধাগ্রস্ত করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে।

যুক্তরাষ্ট্রে এই সংক্ষিপ্ত সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো বৈঠকের কর্মসূচি ছিল না। তবে ভাষণের সময় তিনি ট্রাম্পের সাহসী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বর্বরতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্পকে নিজেদের সবচেয়ে বড় বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে ধন্যবাদ জানান।

গত তিন বছর ধরে গাজায় যুদ্ধের ফলে ইসরায়েল ক্রমশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও তাঁর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যার ফলে অনেক দেশে তাঁর সফর সীমিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া ফ্রান্স, ব্রিটেন ও কানাডার মতো ঐতিহাসিক মিত্র দেশগুলোও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

নেতানিয়াহু এসব পশ্চিমা দেশের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নেতারা ইহুদিবিদ্বেষী জনতার চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তোষণের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি ব্রিটিশ ও ফরাসি ঔপনিবেশিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তাদের কর্মকাণ্ডকে দুর্বলতা বলে অভিহিত করেন। এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন যে, পশ্চিম তীরে হামাসের অস্তিত্ব নেই। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল ক্ষোভ প্রকাশ করে।

ইরানের বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, সেখানে একটি ‘খুনে স্বৈরশাসন’ বিদ্যমান এবং তাদের নেতৃত্বের পতন খুব বেশি দূরে নয়। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। কুদস ফোর্সের নিহত কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির ছবির বিষয়টিও তিনি ভাষণে তুলে ধরেন। যদিও আন্তর্জাতিক চাপ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো পদক্ষেপের পরও ইরান সরকার তাদের অবস্থান অটুট রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেতানিয়াহু মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের একাংশ তাঁকে উদ্দেশ করে দুয়ো দিতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেতানিয়াহু বলেন, ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ যেসব ব্যক্তি এখনো এই কক্ষ থেকে বের হয়ে যাননি, তারাও দয়া করে বের হয়ে যান।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এএফপির হাতে আসা একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে অন্য রাষ্ট্রগুলোকে নেতানিয়াহুর ভাষণ যৌথভাবে বর্জন ও ওয়াকআউট করার অনুরোধ জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করে যাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি মাসের শুরুতে একসময় ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দেয়।