ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

আমাকে থামাতে হলে হত্যা করতে হবে: মমতা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সংকটের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, তাকে বা তৃণমূল কংগ্রেসকে স্তব্ধ করতে চাইলে ‘তাকে হত্যা করতে হবে’।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সাম্প্রতিক দলীয় বিদ্রোহ এবং টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেন মমতা।

মমতা বলেন, আমাকে চুপ করাতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে এবং হ্যাঁ, সে চেষ্টায় আপনাদের যেনো কোনো ঘাটতি না থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, টিএমসির একাধিক নেতা হামলা, অপমান ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মহুয়া মৈত্র, অভিষেক ব্যানার্জি ও কল্যাণ ব্যানার্জির নাম উল্লেখ করেন।

মমতা বলেন, কাকে আক্রমণ করেননি? মহুয়াকে আক্রমণ করেছেন, অভিষেককে আক্রমণ করেছেন, কল্যাণকে আক্রমণ করেছেন। এমনকি আমার বাড়িতেও হামলা করেছেন।

এমন সময়ে তার এই মন্তব্য এল, যখন টিএমসি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ত্রিপুরাভিত্তিক ছোট রাজনৈতিক দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় মমতা আরও অভিযোগ করেন, আমার অনেক সহকর্মী লকআপে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারও কোমরে দড়ি বেঁধে, পায়ে শিকল পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। কারও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে, আবার কারও গায়ে নোংরা পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছে। এসব বলতেও লজ্জা লাগে।

তিনি দাবি করেন, এসব দমন-পীড়ন সত্ত্বেও টিএমসি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কিছু সরকারি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মধ্যাহ্নভোজে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ বিকল্প চালুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মমতা। তার অভিযোগ, সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ব্যস্ত।

তিনি বলেন, স্কুলের শিশুদের মধ্যাহ্নভোজে ডিম দেওয়া হচ্ছে না। অথচ এসব অদ্ভুত কাজ নিয়েই সরকার ব্যস্ত। এটি কখনোই বাংলার সংস্কৃতি ছিল না। আমরা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম, কিন্তু কখনো পুলিশকে এ ধরনের কাজ করাইনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমাকে থামাতে হলে হত্যা করতে হবে: মমতা

আপডেট সময় ১২:১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সংকটের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, তাকে বা তৃণমূল কংগ্রেসকে স্তব্ধ করতে চাইলে ‘তাকে হত্যা করতে হবে’।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সাম্প্রতিক দলীয় বিদ্রোহ এবং টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেন মমতা।

মমতা বলেন, আমাকে চুপ করাতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে এবং হ্যাঁ, সে চেষ্টায় আপনাদের যেনো কোনো ঘাটতি না থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, টিএমসির একাধিক নেতা হামলা, অপমান ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মহুয়া মৈত্র, অভিষেক ব্যানার্জি ও কল্যাণ ব্যানার্জির নাম উল্লেখ করেন।

মমতা বলেন, কাকে আক্রমণ করেননি? মহুয়াকে আক্রমণ করেছেন, অভিষেককে আক্রমণ করেছেন, কল্যাণকে আক্রমণ করেছেন। এমনকি আমার বাড়িতেও হামলা করেছেন।

এমন সময়ে তার এই মন্তব্য এল, যখন টিএমসি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ত্রিপুরাভিত্তিক ছোট রাজনৈতিক দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় মমতা আরও অভিযোগ করেন, আমার অনেক সহকর্মী লকআপে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারও কোমরে দড়ি বেঁধে, পায়ে শিকল পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। কারও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে, আবার কারও গায়ে নোংরা পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছে। এসব বলতেও লজ্জা লাগে।

তিনি দাবি করেন, এসব দমন-পীড়ন সত্ত্বেও টিএমসি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কিছু সরকারি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মধ্যাহ্নভোজে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ বিকল্প চালুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মমতা। তার অভিযোগ, সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ব্যস্ত।

তিনি বলেন, স্কুলের শিশুদের মধ্যাহ্নভোজে ডিম দেওয়া হচ্ছে না। অথচ এসব অদ্ভুত কাজ নিয়েই সরকার ব্যস্ত। এটি কখনোই বাংলার সংস্কৃতি ছিল না। আমরা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম, কিন্তু কখনো পুলিশকে এ ধরনের কাজ করাইনি।