ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তালিকায় ১ নম্বরে আমার নাম, আমি মরলে তোমরাও মরবে: ট্রাম্প সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের দুইদিন পর যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার স্পেনে ভয়াবহ দাবানল : মৃত বেড়ে ১২, তাপপ্রবাহে বাড়ছে ইউরোপজুড়ে বিপর্যয় পাকিস্তানে পিপিপি নেতার বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ১৭ রাজধানীতে গোডাউনে বিস্ফোরণ, ব্যবসায়ী নিহত বন্যাকবলিত চট্টগ্রামে জামায়াত আমির, দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ আমাকে থামাতে হলে হত্যা করতে হবে: মমতা রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত কক্সবাজারে বন্যায় ৪০টি ইউনিয়ন প্লাবিত, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

আমাকে থামাতে হলে হত্যা করতে হবে: মমতা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সংকটের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, তাকে বা তৃণমূল কংগ্রেসকে স্তব্ধ করতে চাইলে ‘তাকে হত্যা করতে হবে’।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সাম্প্রতিক দলীয় বিদ্রোহ এবং টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেন মমতা।

মমতা বলেন, আমাকে চুপ করাতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে এবং হ্যাঁ, সে চেষ্টায় আপনাদের যেনো কোনো ঘাটতি না থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, টিএমসির একাধিক নেতা হামলা, অপমান ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মহুয়া মৈত্র, অভিষেক ব্যানার্জি ও কল্যাণ ব্যানার্জির নাম উল্লেখ করেন।

মমতা বলেন, কাকে আক্রমণ করেননি? মহুয়াকে আক্রমণ করেছেন, অভিষেককে আক্রমণ করেছেন, কল্যাণকে আক্রমণ করেছেন। এমনকি আমার বাড়িতেও হামলা করেছেন।

এমন সময়ে তার এই মন্তব্য এল, যখন টিএমসি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ত্রিপুরাভিত্তিক ছোট রাজনৈতিক দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় মমতা আরও অভিযোগ করেন, আমার অনেক সহকর্মী লকআপে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারও কোমরে দড়ি বেঁধে, পায়ে শিকল পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। কারও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে, আবার কারও গায়ে নোংরা পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছে। এসব বলতেও লজ্জা লাগে।

তিনি দাবি করেন, এসব দমন-পীড়ন সত্ত্বেও টিএমসি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কিছু সরকারি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মধ্যাহ্নভোজে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ বিকল্প চালুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মমতা। তার অভিযোগ, সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ব্যস্ত।

তিনি বলেন, স্কুলের শিশুদের মধ্যাহ্নভোজে ডিম দেওয়া হচ্ছে না। অথচ এসব অদ্ভুত কাজ নিয়েই সরকার ব্যস্ত। এটি কখনোই বাংলার সংস্কৃতি ছিল না। আমরা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম, কিন্তু কখনো পুলিশকে এ ধরনের কাজ করাইনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তালিকায় ১ নম্বরে আমার নাম, আমি মরলে তোমরাও মরবে: ট্রাম্প

আমাকে থামাতে হলে হত্যা করতে হবে: মমতা

আপডেট সময় ১২:১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সংকটের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, তাকে বা তৃণমূল কংগ্রেসকে স্তব্ধ করতে চাইলে ‘তাকে হত্যা করতে হবে’।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সাম্প্রতিক দলীয় বিদ্রোহ এবং টিএমসি নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেন মমতা।

মমতা বলেন, আমাকে চুপ করাতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে এবং হ্যাঁ, সে চেষ্টায় আপনাদের যেনো কোনো ঘাটতি না থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, টিএমসির একাধিক নেতা হামলা, অপমান ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মহুয়া মৈত্র, অভিষেক ব্যানার্জি ও কল্যাণ ব্যানার্জির নাম উল্লেখ করেন।

মমতা বলেন, কাকে আক্রমণ করেননি? মহুয়াকে আক্রমণ করেছেন, অভিষেককে আক্রমণ করেছেন, কল্যাণকে আক্রমণ করেছেন। এমনকি আমার বাড়িতেও হামলা করেছেন।

এমন সময়ে তার এই মন্তব্য এল, যখন টিএমসি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ত্রিপুরাভিত্তিক ছোট রাজনৈতিক দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় মমতা আরও অভিযোগ করেন, আমার অনেক সহকর্মী লকআপে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারও কোমরে দড়ি বেঁধে, পায়ে শিকল পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। কারও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে, আবার কারও গায়ে নোংরা পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছে। এসব বলতেও লজ্জা লাগে।

তিনি দাবি করেন, এসব দমন-পীড়ন সত্ত্বেও টিএমসি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কিছু সরকারি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মধ্যাহ্নভোজে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ বিকল্প চালুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মমতা। তার অভিযোগ, সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ব্যস্ত।

তিনি বলেন, স্কুলের শিশুদের মধ্যাহ্নভোজে ডিম দেওয়া হচ্ছে না। অথচ এসব অদ্ভুত কাজ নিয়েই সরকার ব্যস্ত। এটি কখনোই বাংলার সংস্কৃতি ছিল না। আমরা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম, কিন্তু কখনো পুলিশকে এ ধরনের কাজ করাইনি।