ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

অ্যান্টার্কটিকা থেকে আসছে দুঃসংবাদ

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই উদ্বেগকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ কেবল উপরিভাগ থেকেই নয় বরং সমুদ্রের তলদেশে থাকা বরফের তাকগুলোর নীচ থেকেও আশঙ্কাজনক হারে গলতে শুরু করেছে। এর ফলে আগে যা অনুমান করা হয়েছিল, সমুদ্রের পানির স্তর তার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ডের হিমবাহগুলোকে সমুদ্রের সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এই বিশালাকার ভাসমান আইস শেল্‌ফগুলো। এগুলো অনেকটা প্রাকৃতিক বাঁধের মতো কাজ করে। সম্প্রতি নরওয়ের আইসি৩ পোলার রিসার্চ হাবের বিজ্ঞানী টোর হ্যাটারম্যান এবং আকভাপ্লান-নিভা সংস্থার গবেষক কিন ঝোউয়ের একটি যৌথ গবেষণা ‘নেচার কমিউনিকেশন্‌স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, এই বরফের তাকগুলোর নীচে থাকা ছোট-বড় বিভিন্ন প্রণালি বা চ্যানেলের ভেতর দিয়ে সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ জল প্রবাহিত হচ্ছে। এই উষ্ণ জলরাশি প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে বরফ গলার হারকে প্রায় দশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পূর্ব আন্টার্কটিকার ফিম্বুলিসেন আইস শেল্‌ফে চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের সামান্য উষ্ণতাও আইস শেল্‌ফকে ভেতর থেকে দ্রুত ক্ষয় করে দিচ্ছে। এর ফলে বরফের স্তরগুলো অসমভাবে পাতলা হয়ে পড়ছে এবং তাদের গঠনগত শক্তি হারিয়ে ফেলছে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই আইস শেল্‌ফগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে পিছনের মূল হিমবাহগুলো বাঁধহীনভাবে সমুদ্রে এসে মিশবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ওপর। বর্তমানে যেখানে প্রতি বছর প্রায় তিন মিলিমিটার করে জলস্তর বাড়ছে, ভবিষ্যতে এই গতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। গবেষকদের মতে, অ্যান্টার্কটিকার এই লুকানো বিপদ মোকাবিলায় এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির সঠিক পূর্বাভাস পেতে এখন আরও নিবিড় ও বিশদ গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

অ্যান্টার্কটিকা থেকে আসছে দুঃসংবাদ

আপডেট সময় ০৯:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই উদ্বেগকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ কেবল উপরিভাগ থেকেই নয় বরং সমুদ্রের তলদেশে থাকা বরফের তাকগুলোর নীচ থেকেও আশঙ্কাজনক হারে গলতে শুরু করেছে। এর ফলে আগে যা অনুমান করা হয়েছিল, সমুদ্রের পানির স্তর তার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ডের হিমবাহগুলোকে সমুদ্রের সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এই বিশালাকার ভাসমান আইস শেল্‌ফগুলো। এগুলো অনেকটা প্রাকৃতিক বাঁধের মতো কাজ করে। সম্প্রতি নরওয়ের আইসি৩ পোলার রিসার্চ হাবের বিজ্ঞানী টোর হ্যাটারম্যান এবং আকভাপ্লান-নিভা সংস্থার গবেষক কিন ঝোউয়ের একটি যৌথ গবেষণা ‘নেচার কমিউনিকেশন্‌স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, এই বরফের তাকগুলোর নীচে থাকা ছোট-বড় বিভিন্ন প্রণালি বা চ্যানেলের ভেতর দিয়ে সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ জল প্রবাহিত হচ্ছে। এই উষ্ণ জলরাশি প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে বরফ গলার হারকে প্রায় দশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পূর্ব আন্টার্কটিকার ফিম্বুলিসেন আইস শেল্‌ফে চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের সামান্য উষ্ণতাও আইস শেল্‌ফকে ভেতর থেকে দ্রুত ক্ষয় করে দিচ্ছে। এর ফলে বরফের স্তরগুলো অসমভাবে পাতলা হয়ে পড়ছে এবং তাদের গঠনগত শক্তি হারিয়ে ফেলছে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই আইস শেল্‌ফগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে পিছনের মূল হিমবাহগুলো বাঁধহীনভাবে সমুদ্রে এসে মিশবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ওপর। বর্তমানে যেখানে প্রতি বছর প্রায় তিন মিলিমিটার করে জলস্তর বাড়ছে, ভবিষ্যতে এই গতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। গবেষকদের মতে, অ্যান্টার্কটিকার এই লুকানো বিপদ মোকাবিলায় এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির সঠিক পূর্বাভাস পেতে এখন আরও নিবিড় ও বিশদ গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।