ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

অ্যান্টার্কটিকা থেকে আসছে দুঃসংবাদ

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই উদ্বেগকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ কেবল উপরিভাগ থেকেই নয় বরং সমুদ্রের তলদেশে থাকা বরফের তাকগুলোর নীচ থেকেও আশঙ্কাজনক হারে গলতে শুরু করেছে। এর ফলে আগে যা অনুমান করা হয়েছিল, সমুদ্রের পানির স্তর তার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ডের হিমবাহগুলোকে সমুদ্রের সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এই বিশালাকার ভাসমান আইস শেল্‌ফগুলো। এগুলো অনেকটা প্রাকৃতিক বাঁধের মতো কাজ করে। সম্প্রতি নরওয়ের আইসি৩ পোলার রিসার্চ হাবের বিজ্ঞানী টোর হ্যাটারম্যান এবং আকভাপ্লান-নিভা সংস্থার গবেষক কিন ঝোউয়ের একটি যৌথ গবেষণা ‘নেচার কমিউনিকেশন্‌স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, এই বরফের তাকগুলোর নীচে থাকা ছোট-বড় বিভিন্ন প্রণালি বা চ্যানেলের ভেতর দিয়ে সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ জল প্রবাহিত হচ্ছে। এই উষ্ণ জলরাশি প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে বরফ গলার হারকে প্রায় দশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পূর্ব আন্টার্কটিকার ফিম্বুলিসেন আইস শেল্‌ফে চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের সামান্য উষ্ণতাও আইস শেল্‌ফকে ভেতর থেকে দ্রুত ক্ষয় করে দিচ্ছে। এর ফলে বরফের স্তরগুলো অসমভাবে পাতলা হয়ে পড়ছে এবং তাদের গঠনগত শক্তি হারিয়ে ফেলছে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই আইস শেল্‌ফগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে পিছনের মূল হিমবাহগুলো বাঁধহীনভাবে সমুদ্রে এসে মিশবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ওপর। বর্তমানে যেখানে প্রতি বছর প্রায় তিন মিলিমিটার করে জলস্তর বাড়ছে, ভবিষ্যতে এই গতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। গবেষকদের মতে, অ্যান্টার্কটিকার এই লুকানো বিপদ মোকাবিলায় এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির সঠিক পূর্বাভাস পেতে এখন আরও নিবিড় ও বিশদ গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

অ্যান্টার্কটিকা থেকে আসছে দুঃসংবাদ

আপডেট সময় ০৯:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই উদ্বেগকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ কেবল উপরিভাগ থেকেই নয় বরং সমুদ্রের তলদেশে থাকা বরফের তাকগুলোর নীচ থেকেও আশঙ্কাজনক হারে গলতে শুরু করেছে। এর ফলে আগে যা অনুমান করা হয়েছিল, সমুদ্রের পানির স্তর তার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ডের হিমবাহগুলোকে সমুদ্রের সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এই বিশালাকার ভাসমান আইস শেল্‌ফগুলো। এগুলো অনেকটা প্রাকৃতিক বাঁধের মতো কাজ করে। সম্প্রতি নরওয়ের আইসি৩ পোলার রিসার্চ হাবের বিজ্ঞানী টোর হ্যাটারম্যান এবং আকভাপ্লান-নিভা সংস্থার গবেষক কিন ঝোউয়ের একটি যৌথ গবেষণা ‘নেচার কমিউনিকেশন্‌স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, এই বরফের তাকগুলোর নীচে থাকা ছোট-বড় বিভিন্ন প্রণালি বা চ্যানেলের ভেতর দিয়ে সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ জল প্রবাহিত হচ্ছে। এই উষ্ণ জলরাশি প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে বরফ গলার হারকে প্রায় দশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পূর্ব আন্টার্কটিকার ফিম্বুলিসেন আইস শেল্‌ফে চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের সামান্য উষ্ণতাও আইস শেল্‌ফকে ভেতর থেকে দ্রুত ক্ষয় করে দিচ্ছে। এর ফলে বরফের স্তরগুলো অসমভাবে পাতলা হয়ে পড়ছে এবং তাদের গঠনগত শক্তি হারিয়ে ফেলছে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই আইস শেল্‌ফগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে পিছনের মূল হিমবাহগুলো বাঁধহীনভাবে সমুদ্রে এসে মিশবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ওপর। বর্তমানে যেখানে প্রতি বছর প্রায় তিন মিলিমিটার করে জলস্তর বাড়ছে, ভবিষ্যতে এই গতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। গবেষকদের মতে, অ্যান্টার্কটিকার এই লুকানো বিপদ মোকাবিলায় এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির সঠিক পূর্বাভাস পেতে এখন আরও নিবিড় ও বিশদ গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।