ঢাকা ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস উপসর্গ, জটিলতা ও চিকিৎসা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আর্থ্রাইটিস বা বাতব্যথা একটি বহুল পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজস্ব জোড়াগুলোকে আক্রমণ করে। সাধারণত হাত ও পায়ের ছোট জোড়াগুলো প্রথমে আক্রান্ত হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীরের দুই পাশের একই জোড়ায় সমানভাবে ব্যথা দেখা যায়।

রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে আক্রান্ত জোড়ায় ব্যথা, ফোলা এবং শক্ত ভাব অনুভূত হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জোড়াগুলো শক্ত হয়ে থাকে এবং এই শক্ত ভাব এক ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। নড়াচড়া করলে কিছুটা উপশম হয়। কনুই, হাঁটু, কাঁধ ও গোড়ালির মতো বড় জোড়াগুলোও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ঘাড়েও ব্যথা দেখা যায়।

এই রোগে ব্যথা সাধারণত কাজ করলে কমে এবং বিশ্রামে বাড়ে। দীর্ঘদিন রোগটি চলতে থাকলে জোড়ার আকৃতি বিকৃত হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে অক্ষমতা দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে জ্বর, ওজন হ্রাস, রক্তস্বল্পতা, পেশি ক্ষয়, প্লিহা বড় হওয়া, চোখ লাল হওয়া এবং হৃৎপিণ্ড ও শ্বাসযন্ত্রের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জোড়ার ক্ষতি কমানো।

রোগীকে রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। কারণ, এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়; তবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ব্যথা কমাতে নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রোগের অগ্রগতি রোধে ডিএমআরডি জাতীয় ওষুধ প্রয়োজন হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হতে পারে।

চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, ওয়াক্স বাথ, হাইড্রোথেরাপি ও সাউন্ডথেরাপি উপকারী। রোগীকে দৈনন্দিন কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতাল (নিনস)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নানা পাটেকরের মৃত্যু: তনুশ্রীর ‘শয়তানের মৃত্যু’ মন্তব্যে পুরোনো বিতর্ক

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস উপসর্গ, জটিলতা ও চিকিৎসা

আপডেট সময় ১০:৫০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আর্থ্রাইটিস বা বাতব্যথা একটি বহুল পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজস্ব জোড়াগুলোকে আক্রমণ করে। সাধারণত হাত ও পায়ের ছোট জোড়াগুলো প্রথমে আক্রান্ত হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীরের দুই পাশের একই জোড়ায় সমানভাবে ব্যথা দেখা যায়।

রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে আক্রান্ত জোড়ায় ব্যথা, ফোলা এবং শক্ত ভাব অনুভূত হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জোড়াগুলো শক্ত হয়ে থাকে এবং এই শক্ত ভাব এক ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। নড়াচড়া করলে কিছুটা উপশম হয়। কনুই, হাঁটু, কাঁধ ও গোড়ালির মতো বড় জোড়াগুলোও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ঘাড়েও ব্যথা দেখা যায়।

এই রোগে ব্যথা সাধারণত কাজ করলে কমে এবং বিশ্রামে বাড়ে। দীর্ঘদিন রোগটি চলতে থাকলে জোড়ার আকৃতি বিকৃত হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে অক্ষমতা দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে জ্বর, ওজন হ্রাস, রক্তস্বল্পতা, পেশি ক্ষয়, প্লিহা বড় হওয়া, চোখ লাল হওয়া এবং হৃৎপিণ্ড ও শ্বাসযন্ত্রের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জোড়ার ক্ষতি কমানো।

রোগীকে রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। কারণ, এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়; তবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ব্যথা কমাতে নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রোগের অগ্রগতি রোধে ডিএমআরডি জাতীয় ওষুধ প্রয়োজন হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হতে পারে।

চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, ওয়াক্স বাথ, হাইড্রোথেরাপি ও সাউন্ডথেরাপি উপকারী। রোগীকে দৈনন্দিন কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতাল (নিনস)