আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আর্থ্রাইটিস বা বাতব্যথা একটি বহুল পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজস্ব জোড়াগুলোকে আক্রমণ করে। সাধারণত হাত ও পায়ের ছোট জোড়াগুলো প্রথমে আক্রান্ত হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীরের দুই পাশের একই জোড়ায় সমানভাবে ব্যথা দেখা যায়।
রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে আক্রান্ত জোড়ায় ব্যথা, ফোলা এবং শক্ত ভাব অনুভূত হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জোড়াগুলো শক্ত হয়ে থাকে এবং এই শক্ত ভাব এক ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। নড়াচড়া করলে কিছুটা উপশম হয়। কনুই, হাঁটু, কাঁধ ও গোড়ালির মতো বড় জোড়াগুলোও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ঘাড়েও ব্যথা দেখা যায়।
এই রোগে ব্যথা সাধারণত কাজ করলে কমে এবং বিশ্রামে বাড়ে। দীর্ঘদিন রোগটি চলতে থাকলে জোড়ার আকৃতি বিকৃত হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে অক্ষমতা দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে জ্বর, ওজন হ্রাস, রক্তস্বল্পতা, পেশি ক্ষয়, প্লিহা বড় হওয়া, চোখ লাল হওয়া এবং হৃৎপিণ্ড ও শ্বাসযন্ত্রের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জোড়ার ক্ষতি কমানো।
রোগীকে রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। কারণ, এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়; তবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ব্যথা কমাতে নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রোগের অগ্রগতি রোধে ডিএমআরডি জাতীয় ওষুধ প্রয়োজন হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হতে পারে।
চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, ওয়াক্স বাথ, হাইড্রোথেরাপি ও সাউন্ডথেরাপি উপকারী। রোগীকে দৈনন্দিন কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতাল (নিনস)
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















