ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আমাদের তারুণ্য

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

বর্তমানে গবেষণার ধরন ও গতি আমূল বদলে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের জন্য এআই হয়ে উঠেছে এক শক্তিশালী হাতিয়ার। আগে যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হতো, সেখানে এআই ব্যবহার করে অনেক কাজ এখন তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু আমরা কীভাবে করছি এর ব্যবহার; তা নিয়েই লিখেছেন আলাউদ্দিন আলাদিন

বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা, শিল্প ও ব্যবসা–সবক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এআই হয়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সহায়ক, যা জটিল কাজকে সহজ করছে এবং চিন্তার পরিধিকে বিস্তৃত করছে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও, যা সচেতনভাবে বিবেচনা করা জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী, তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীরা কীভাবে এটি কাজে লাগাতে পারে, বিশ্বে যুগান্তকারী গবেষণায় এর ব্যবহার, পাশাপাশি এর ইতিবাচক এবং নেতিবাচক বিষয় দেখে নিই, চলুন–

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে কী?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো এমন এক ধরনের প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কম্পিউটার বা যন্ত্রকে মানুষের মতো চিন্তা করতে, শিখতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলা হয়। সহজভাবে বলা যায়, যে প্রযুক্তি যন্ত্রকে ‘বুদ্ধিমান’ করে তোলে, সেটিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। মানুষের মস্তিষ্ক যেমন অভিজ্ঞতা থেকে শেখে, তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় এআইও তেমনি বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেকে উন্নত করে।

যেভাবে কাজ করে:
এআই মূলত বিভিন্ন অ্যালগরিদম ও গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো মেশিন লার্নিং, যেখানে কম্পিউটারকে সরাসরি সব নির্দেশনা না দিয়ে উদাহরণ ও তথ্যের মাধ্যমে শেখানো হয়। আরও উন্নত পর্যায়ে রয়েছে ডিপ লার্নিং, যা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের আদলে তৈরি কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে।

তরুণ গবেষকদের বড় সুযোগ:
দেশের তরুণ গবেষকদের জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বড় সুযোগ। সীমিত সম্পদ ও সুযোগের মধ্যেও এআই ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সঠিক জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার। সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তরুণ গবেষকদের বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পড়াশোনায় ভূমিকা:
শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আরও সহজ, কার্যকর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তুলতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এআইভিত্তিক শিক্ষাসহায়ক টুল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা কঠিন বিষয়গুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা পেতে পারে, উদাহরণসহ সমস্যার সমাধান বুঝতে এবং নিজের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করতে পারে। গণিত, বিজ্ঞান বা প্রোগ্রামিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে এআই ধাপে ধাপে সমাধান দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ায়। বিশেষ করে অনলাইন শিক্ষায় এআই শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি দূর করে ইন্টার‌্যাকটিভ শেখার পরিবেশ তৈরি করছে।

যুগান্তকারী দুই গবেষণায় এর ব্যবহার-

আলফাফোল্ড গবেষণা: জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত আলফাফোল্ড গবেষণা। মানুষের শরীরে হাজার হাজার প্রোটিন রয়েছে, যেগুলোর ত্রিমাত্রিক গঠন জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রোটিনের গঠন বুঝতে পারলেই জানা যায়, কোনো রোগ কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং সেটির চিকিৎসা কী হতে পারে। এআই ব্যবহার করে এটি অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রোটিনের গঠন নির্ণয় করতে সক্ষম হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে ওষুধ আবিষ্কার ও জেনেটিক রোগ চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

কভিড-১৯ সংক্রমণ পূর্বাভাস ও চিকিৎসায়: কভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বব্যাপী গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে সংক্রমণের গতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং হাসপাতালের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় এআই ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন ও ওষুধ গবেষণায় সম্ভাব্য কার্যকর উপাদান শনাক্ত করতেও এআই ব্যবহৃত হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক সমাজে নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় সুফল দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। বিপুল পরিমাণ তথ্য অল্প সময়ে বিশ্লেষণ করে এআই এমন সব সিদ্ধান্ত বা পূর্বাভাস দিতে পারে, যা মানুষের পক্ষে একা করা কঠিন। ফলে চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কার্যকর হচ্ছে। এআই ব্যবহারের আরেকটি বড় সুবিধা হলো সময় ও শ্রম সাশ্রয়।

ব্যবহারে ঝুঁকি:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও সামনে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো চাকরি হারানোর শঙ্কা। অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা মানুষের কাজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় কিছু পেশা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে নিয়োজিত কর্মীরা এ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

নির্ভরযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত টুল–
 ChatGPT: লেখালেখি, পড়াশোনা, গবেষণা সহায়তা ও প্রশ্নোত্তরের জন্য বহুল ব্যবহৃত এটি।
Google Gemini: তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং সৃজনশীল কাজে গুগলের উন্নত এআই সেবা।
Microsoft Copilot: অফিস ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত টুল।
DeepL: একাডেমিক লেখা ও গবেষণাপত্র অনুবাদে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
Wolfram Alpha: গণিত, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ক সমস্যার সমাধানে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।

প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ:
তরুণ জনগোষ্ঠী ও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের কারণে বাংলাদেশ এআই গ্রহণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ডেটা অ্যানালিটিক্স, মেশিন লার্নিং ও এআইভিত্তিক গবেষণার সুযোগ বাড়ানো গেলে এবং একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতে এআই দক্ষতা তরুণদের বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এআই বিষয়ে মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তথ্যের নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নও জরুরি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আমাদের তারুণ্য

আপডেট সময় ১১:২৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

বর্তমানে গবেষণার ধরন ও গতি আমূল বদলে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের জন্য এআই হয়ে উঠেছে এক শক্তিশালী হাতিয়ার। আগে যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হতো, সেখানে এআই ব্যবহার করে অনেক কাজ এখন তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু আমরা কীভাবে করছি এর ব্যবহার; তা নিয়েই লিখেছেন আলাউদ্দিন আলাদিন

বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা, শিল্প ও ব্যবসা–সবক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এআই হয়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সহায়ক, যা জটিল কাজকে সহজ করছে এবং চিন্তার পরিধিকে বিস্তৃত করছে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও, যা সচেতনভাবে বিবেচনা করা জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী, তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীরা কীভাবে এটি কাজে লাগাতে পারে, বিশ্বে যুগান্তকারী গবেষণায় এর ব্যবহার, পাশাপাশি এর ইতিবাচক এবং নেতিবাচক বিষয় দেখে নিই, চলুন–

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে কী?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো এমন এক ধরনের প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কম্পিউটার বা যন্ত্রকে মানুষের মতো চিন্তা করতে, শিখতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলা হয়। সহজভাবে বলা যায়, যে প্রযুক্তি যন্ত্রকে ‘বুদ্ধিমান’ করে তোলে, সেটিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। মানুষের মস্তিষ্ক যেমন অভিজ্ঞতা থেকে শেখে, তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় এআইও তেমনি বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেকে উন্নত করে।

যেভাবে কাজ করে:
এআই মূলত বিভিন্ন অ্যালগরিদম ও গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো মেশিন লার্নিং, যেখানে কম্পিউটারকে সরাসরি সব নির্দেশনা না দিয়ে উদাহরণ ও তথ্যের মাধ্যমে শেখানো হয়। আরও উন্নত পর্যায়ে রয়েছে ডিপ লার্নিং, যা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের আদলে তৈরি কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে।

তরুণ গবেষকদের বড় সুযোগ:
দেশের তরুণ গবেষকদের জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বড় সুযোগ। সীমিত সম্পদ ও সুযোগের মধ্যেও এআই ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সঠিক জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার। সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তরুণ গবেষকদের বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পড়াশোনায় ভূমিকা:
শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আরও সহজ, কার্যকর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তুলতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এআইভিত্তিক শিক্ষাসহায়ক টুল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা কঠিন বিষয়গুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা পেতে পারে, উদাহরণসহ সমস্যার সমাধান বুঝতে এবং নিজের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করতে পারে। গণিত, বিজ্ঞান বা প্রোগ্রামিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে এআই ধাপে ধাপে সমাধান দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ায়। বিশেষ করে অনলাইন শিক্ষায় এআই শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি দূর করে ইন্টার‌্যাকটিভ শেখার পরিবেশ তৈরি করছে।

যুগান্তকারী দুই গবেষণায় এর ব্যবহার-

আলফাফোল্ড গবেষণা: জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত আলফাফোল্ড গবেষণা। মানুষের শরীরে হাজার হাজার প্রোটিন রয়েছে, যেগুলোর ত্রিমাত্রিক গঠন জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রোটিনের গঠন বুঝতে পারলেই জানা যায়, কোনো রোগ কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং সেটির চিকিৎসা কী হতে পারে। এআই ব্যবহার করে এটি অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রোটিনের গঠন নির্ণয় করতে সক্ষম হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে ওষুধ আবিষ্কার ও জেনেটিক রোগ চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

কভিড-১৯ সংক্রমণ পূর্বাভাস ও চিকিৎসায়: কভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বব্যাপী গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে সংক্রমণের গতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং হাসপাতালের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় এআই ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন ও ওষুধ গবেষণায় সম্ভাব্য কার্যকর উপাদান শনাক্ত করতেও এআই ব্যবহৃত হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক সমাজে নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় সুফল দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। বিপুল পরিমাণ তথ্য অল্প সময়ে বিশ্লেষণ করে এআই এমন সব সিদ্ধান্ত বা পূর্বাভাস দিতে পারে, যা মানুষের পক্ষে একা করা কঠিন। ফলে চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কার্যকর হচ্ছে। এআই ব্যবহারের আরেকটি বড় সুবিধা হলো সময় ও শ্রম সাশ্রয়।

ব্যবহারে ঝুঁকি:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও সামনে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো চাকরি হারানোর শঙ্কা। অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা মানুষের কাজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় কিছু পেশা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে নিয়োজিত কর্মীরা এ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

নির্ভরযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত টুল–
 ChatGPT: লেখালেখি, পড়াশোনা, গবেষণা সহায়তা ও প্রশ্নোত্তরের জন্য বহুল ব্যবহৃত এটি।
Google Gemini: তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং সৃজনশীল কাজে গুগলের উন্নত এআই সেবা।
Microsoft Copilot: অফিস ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত টুল।
DeepL: একাডেমিক লেখা ও গবেষণাপত্র অনুবাদে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
Wolfram Alpha: গণিত, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ক সমস্যার সমাধানে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।

প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ:
তরুণ জনগোষ্ঠী ও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের কারণে বাংলাদেশ এআই গ্রহণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ডেটা অ্যানালিটিক্স, মেশিন লার্নিং ও এআইভিত্তিক গবেষণার সুযোগ বাড়ানো গেলে এবং একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতে এআই দক্ষতা তরুণদের বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এআই বিষয়ে মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তথ্যের নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নও জরুরি।