ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজার: এইচআরএসএসের প্রতিবেদন ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেবে জামায়াত: মিন্টু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে মাঠ পর্যায় পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক আমরা বসন্তের কোকিল নই, জুলুম-নির্যাতনের পরও দেশ ছাড়িনি: শফিকুর রহমান ‘শুধু একদিন আমার হাঁসটাকে পাহারা দেন, নির্বাচিত হলে ৫ বছর আপনাদেরকে পাহারা দেব’:রুমিন ফারহানা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ রুখতে ছাত্র-জনতাকে রাজপথে থাকতে হবে: মামুনুল হক সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য জনমুখী নীতিমালার আহ্বান বাংলাদেশের অনলাইন গেমে আসক্তি, নবম তলা থেকে লাফিয়ে তিন বোনের আত্মহত্যা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন যুবলীগ নেতা

বালুর দানায় জমে থাকা গ্যাস বলবে ‘ভূমি কত পুরোনো’

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পৃথিবীর মাটি, পাহাড় আর সমুদ্রতট সব সময় এক রকম থাকে না। কোথাও ধীরে ধীরে মাটি ক্ষয় হয়, কোথাও আবার বালু জমে নতুন ভূমি তৈরি হয়। কিন্তু এসব পরিবর্তন ঘটে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। তাই প্রশ্ন ওঠে—এত পুরোনো ইতিহাস বিজ্ঞানীরা জানেন কীভাবে?

এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন উপায় পেয়েছেন, যা দিয়ে বোঝা যাবে—একটি বালুর দানা কতদিন পৃথিবীর পৃষ্ঠে ছিল।

তারা বলেছেন, এই কাজটি সম্ভব হচ্ছে জিরকন নামের খুব ছোট স্ফটিকের কারণে। জিরকন অনেক শক্ত খনিজ। এটি সহজে ভাঙে না। অনেক সময় বালুর মধ্যেও জিরকনের ক্ষুদ্র কণা থাকে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রে (মহাজাগতিক রশ্মি—মহাকাশের শক্তিশালী কণা) পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে। এতে কিছু গ্যাস তৈরি হয়। এর মধ্যে ক্রিপ্টন নামে একটি গ্যাস জিরকন স্ফটিকের ভেতর আটকে থাকে এবং অনেক বছর ধরে জমতে থাকে।

সহজভাবে বললে—জিরকনের ভেতরে যত বেশি ক্রিপ্টন, বুঝতে হবে ওই কণা তত বেশি সময় পৃথিবীর উপরিভাগে ছিল।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নুলারবর সমভূমি থেকে সৈকতের বালু সংগ্রহ করেন। এরপর লেজার দিয়ে জিরকনের কণা গলিয়ে তার ভেতরের গ্যাস বের করে মাপেন।

ফলাফলে দেখা গেছে—প্রায় ৪ কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলের ভূমি খুব ধীরে বদলেছে। ক্ষয়ের হার ছিল প্রতি ১০ লাখ বছরে ১ মিটারেরও কম। অর্থাৎ ভূমি প্রায় স্থির ছিল বলা যায়। আরও জানা গেছে, বালু উৎসস্থান থেকে সৈকতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ১৬ লাখ বছর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দুর্বল খনিজ নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু শক্ত খনিজ যেমন জিরকন টিকে গেছে। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়ার কিছু সৈকতে ভারী খনিজ বেশি দেখা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজার: এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

বালুর দানায় জমে থাকা গ্যাস বলবে ‘ভূমি কত পুরোনো’

আপডেট সময় ১১:২০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পৃথিবীর মাটি, পাহাড় আর সমুদ্রতট সব সময় এক রকম থাকে না। কোথাও ধীরে ধীরে মাটি ক্ষয় হয়, কোথাও আবার বালু জমে নতুন ভূমি তৈরি হয়। কিন্তু এসব পরিবর্তন ঘটে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। তাই প্রশ্ন ওঠে—এত পুরোনো ইতিহাস বিজ্ঞানীরা জানেন কীভাবে?

এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন উপায় পেয়েছেন, যা দিয়ে বোঝা যাবে—একটি বালুর দানা কতদিন পৃথিবীর পৃষ্ঠে ছিল।

তারা বলেছেন, এই কাজটি সম্ভব হচ্ছে জিরকন নামের খুব ছোট স্ফটিকের কারণে। জিরকন অনেক শক্ত খনিজ। এটি সহজে ভাঙে না। অনেক সময় বালুর মধ্যেও জিরকনের ক্ষুদ্র কণা থাকে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রে (মহাজাগতিক রশ্মি—মহাকাশের শক্তিশালী কণা) পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে। এতে কিছু গ্যাস তৈরি হয়। এর মধ্যে ক্রিপ্টন নামে একটি গ্যাস জিরকন স্ফটিকের ভেতর আটকে থাকে এবং অনেক বছর ধরে জমতে থাকে।

সহজভাবে বললে—জিরকনের ভেতরে যত বেশি ক্রিপ্টন, বুঝতে হবে ওই কণা তত বেশি সময় পৃথিবীর উপরিভাগে ছিল।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নুলারবর সমভূমি থেকে সৈকতের বালু সংগ্রহ করেন। এরপর লেজার দিয়ে জিরকনের কণা গলিয়ে তার ভেতরের গ্যাস বের করে মাপেন।

ফলাফলে দেখা গেছে—প্রায় ৪ কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলের ভূমি খুব ধীরে বদলেছে। ক্ষয়ের হার ছিল প্রতি ১০ লাখ বছরে ১ মিটারেরও কম। অর্থাৎ ভূমি প্রায় স্থির ছিল বলা যায়। আরও জানা গেছে, বালু উৎসস্থান থেকে সৈকতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ১৬ লাখ বছর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দুর্বল খনিজ নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু শক্ত খনিজ যেমন জিরকন টিকে গেছে। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়ার কিছু সৈকতে ভারী খনিজ বেশি দেখা যায়।