ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বালুর দানায় জমে থাকা গ্যাস বলবে ‘ভূমি কত পুরোনো’

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পৃথিবীর মাটি, পাহাড় আর সমুদ্রতট সব সময় এক রকম থাকে না। কোথাও ধীরে ধীরে মাটি ক্ষয় হয়, কোথাও আবার বালু জমে নতুন ভূমি তৈরি হয়। কিন্তু এসব পরিবর্তন ঘটে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। তাই প্রশ্ন ওঠে—এত পুরোনো ইতিহাস বিজ্ঞানীরা জানেন কীভাবে?

এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন উপায় পেয়েছেন, যা দিয়ে বোঝা যাবে—একটি বালুর দানা কতদিন পৃথিবীর পৃষ্ঠে ছিল।

তারা বলেছেন, এই কাজটি সম্ভব হচ্ছে জিরকন নামের খুব ছোট স্ফটিকের কারণে। জিরকন অনেক শক্ত খনিজ। এটি সহজে ভাঙে না। অনেক সময় বালুর মধ্যেও জিরকনের ক্ষুদ্র কণা থাকে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রে (মহাজাগতিক রশ্মি—মহাকাশের শক্তিশালী কণা) পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে। এতে কিছু গ্যাস তৈরি হয়। এর মধ্যে ক্রিপ্টন নামে একটি গ্যাস জিরকন স্ফটিকের ভেতর আটকে থাকে এবং অনেক বছর ধরে জমতে থাকে।

সহজভাবে বললে—জিরকনের ভেতরে যত বেশি ক্রিপ্টন, বুঝতে হবে ওই কণা তত বেশি সময় পৃথিবীর উপরিভাগে ছিল।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নুলারবর সমভূমি থেকে সৈকতের বালু সংগ্রহ করেন। এরপর লেজার দিয়ে জিরকনের কণা গলিয়ে তার ভেতরের গ্যাস বের করে মাপেন।

ফলাফলে দেখা গেছে—প্রায় ৪ কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলের ভূমি খুব ধীরে বদলেছে। ক্ষয়ের হার ছিল প্রতি ১০ লাখ বছরে ১ মিটারেরও কম। অর্থাৎ ভূমি প্রায় স্থির ছিল বলা যায়। আরও জানা গেছে, বালু উৎসস্থান থেকে সৈকতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ১৬ লাখ বছর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দুর্বল খনিজ নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু শক্ত খনিজ যেমন জিরকন টিকে গেছে। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়ার কিছু সৈকতে ভারী খনিজ বেশি দেখা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বালুর দানায় জমে থাকা গ্যাস বলবে ‘ভূমি কত পুরোনো’

আপডেট সময় ১১:২০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পৃথিবীর মাটি, পাহাড় আর সমুদ্রতট সব সময় এক রকম থাকে না। কোথাও ধীরে ধীরে মাটি ক্ষয় হয়, কোথাও আবার বালু জমে নতুন ভূমি তৈরি হয়। কিন্তু এসব পরিবর্তন ঘটে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। তাই প্রশ্ন ওঠে—এত পুরোনো ইতিহাস বিজ্ঞানীরা জানেন কীভাবে?

এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন উপায় পেয়েছেন, যা দিয়ে বোঝা যাবে—একটি বালুর দানা কতদিন পৃথিবীর পৃষ্ঠে ছিল।

তারা বলেছেন, এই কাজটি সম্ভব হচ্ছে জিরকন নামের খুব ছোট স্ফটিকের কারণে। জিরকন অনেক শক্ত খনিজ। এটি সহজে ভাঙে না। অনেক সময় বালুর মধ্যেও জিরকনের ক্ষুদ্র কণা থাকে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রে (মহাজাগতিক রশ্মি—মহাকাশের শক্তিশালী কণা) পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে। এতে কিছু গ্যাস তৈরি হয়। এর মধ্যে ক্রিপ্টন নামে একটি গ্যাস জিরকন স্ফটিকের ভেতর আটকে থাকে এবং অনেক বছর ধরে জমতে থাকে।

সহজভাবে বললে—জিরকনের ভেতরে যত বেশি ক্রিপ্টন, বুঝতে হবে ওই কণা তত বেশি সময় পৃথিবীর উপরিভাগে ছিল।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নুলারবর সমভূমি থেকে সৈকতের বালু সংগ্রহ করেন। এরপর লেজার দিয়ে জিরকনের কণা গলিয়ে তার ভেতরের গ্যাস বের করে মাপেন।

ফলাফলে দেখা গেছে—প্রায় ৪ কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলের ভূমি খুব ধীরে বদলেছে। ক্ষয়ের হার ছিল প্রতি ১০ লাখ বছরে ১ মিটারেরও কম। অর্থাৎ ভূমি প্রায় স্থির ছিল বলা যায়। আরও জানা গেছে, বালু উৎসস্থান থেকে সৈকতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ১৬ লাখ বছর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দুর্বল খনিজ নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু শক্ত খনিজ যেমন জিরকন টিকে গেছে। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়ার কিছু সৈকতে ভারী খনিজ বেশি দেখা যায়।