ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা ও দ্রুত চিকিৎসায় গুরুত্ব

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যা হঠাৎ করে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ বা রক্তক্ষরণের কারণে ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্ট্রোক স্থায়ী পঙ্গুত্ব, এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আগাম সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে– হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা। অনেক সময় হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা বা তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ধূমপান স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব রোগ বা জীবনপ্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে অনেক রোগীকে স্থায়ী অক্ষমতা থেকে রক্ষা করা যায়। সে কারণে স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তই স্ট্রোক মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা ‘FAST’ সূত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এখানে F (Face) বা মুখ বেঁকে যাওয়া, A (Arm) বা হাত অবশ হওয়া, S (Speech) বা কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং T (Time) বা দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোকে বোঝায়। মনে রাখতে হবে, স্ট্রোকের প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময়কে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়। এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে মরে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। অনেকে স্ট্রোককে সাধারণ প্যারালাইসিস মনে করে অপচিকিৎসা বা কবিরাজি ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেন; যা রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। এ ছাড়া যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের নিয়মিত চেকআপ এবং লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোক-পরবর্তী জীবনে সঠিক ফিজিওথেরাপি রোগীকে পুনরায় কর্মক্ষম করে তুলতে জাদুর মতো কাজ করে।

লেখক: নিউরোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত রোনালদোর গোল, জয় পেল আল নাসর

স্ট্রোকের আগাম সতর্কতা ও দ্রুত চিকিৎসায় গুরুত্ব

আপডেট সময় ১০:১৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যা হঠাৎ করে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ বা রক্তক্ষরণের কারণে ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্ট্রোক স্থায়ী পঙ্গুত্ব, এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আগাম সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে– হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা। অনেক সময় হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা বা তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ধূমপান স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব রোগ বা জীবনপ্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে অনেক রোগীকে স্থায়ী অক্ষমতা থেকে রক্ষা করা যায়। সে কারণে স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তই স্ট্রোক মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা ‘FAST’ সূত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এখানে F (Face) বা মুখ বেঁকে যাওয়া, A (Arm) বা হাত অবশ হওয়া, S (Speech) বা কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং T (Time) বা দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোকে বোঝায়। মনে রাখতে হবে, স্ট্রোকের প্রথম সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময়কে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়। এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে মরে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। অনেকে স্ট্রোককে সাধারণ প্যারালাইসিস মনে করে অপচিকিৎসা বা কবিরাজি ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেন; যা রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। এ ছাড়া যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের নিয়মিত চেকআপ এবং লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোক-পরবর্তী জীবনে সঠিক ফিজিওথেরাপি রোগীকে পুনরায় কর্মক্ষম করে তুলতে জাদুর মতো কাজ করে।

লেখক: নিউরোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ