ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংস্কৃতিচর্চা না থাকলে জাতি ইতিহাস ভুলে যাবে: রিজভী লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর একইদিনে ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংগীত বেশ অসুস্থ অবস্থায় আছে, সবাই দোয়া করবেন: ওমর সানী রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল শীতলক্ষ্যায় ফেরি থেকে নদীতে প্রাইভেটকার ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় পলকের নির্দেশেই: ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা বাড়ি ফেরার পথে স্বামীর কাছ থেকে গৃহবধূকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়, সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিন: প্রধানমন্ত্রী

পাহাড়ের ভেতর দিয়ে নদী

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পাহাড় মানেই নদীর পথে বড় বাধা—এমনটাই আমরা সাধারণত ভাবি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে একটি নদী আছে, যা পাহাড় ঘুরে না গিয়ে সোজা পাহাড় কেটে নিজের পথ তৈরি করেছে। এই অদ্ভুত ঘটনা বিজ্ঞানীদের প্রায় দেড়শ বছর ধরে ভাবিয়ে রেখেছিল। এবার সেই রহস্যের সহজ ব্যাখ্যা মিলেছে।

নদীটির নাম গ্রিন নদী। এটি কলোরাডো নদীর সবচেয়ে বড় শাখা। গ্রিন নদী উটাহর উঁচু উইনটা পর্বতমালার মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই পাহাড় প্রায় ৫ কোটি বছর পুরোনো। অথচ নদীটি এই পথে বইছে মাত্র ৮০ লাখ বছরেরও কম সময় ধরে। প্রশ্ন ছিল—পাহাড় আগে থাকলে নদী ভেতর দিয়ে গেল কীভাবে?

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, এর পেছনে কাজ করেছে একটি বিশেষ ভূগর্ভস্থ প্রক্রিয়া। এর নাম লিথোস্ফেরিক ড্রিপ (পৃথিবীর ভূত্বকের নিচে ভারী অংশ ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাওয়া)।

গবেষকদের মতে, বহু লাখ বছর আগে পাহাড়ের নিচে ভারী খনিজ পদার্থ জমে যায়। একসময় সেগুলো এত ভারী হয় যে নিচের দিকে দেবে যেতে শুরু করে। এতে ওপরের ভূমি ধীরে ধীরে নিচে বসে যায়। ঠিক সেই সময় গ্রিন নদী পাহাড়ের ওপর দিয়ে নয়, বরং ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ পায়।

এই অবস্থায় নদী ধীরে ধীরে শক্ত পাথর কেটে নিজের পথ তৈরি করে। এই পথেই আজকের বিখ্যাত ক্যানিয়ন অব লোডোর তৈরি হয়েছে। পরে এই পথ ধরেই গ্রিন নদী কলোরাডো নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়।

গবেষকরা ধারণা করছেন, এই ভূগর্ভস্থ ‘ড্রিপ’ ভেঙে আলাদা হয়ে যায় প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ বছর আগে। এই সময়ের হিসাব আগের গবেষণার সঙ্গেও মিলে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু একটি নদীর গল্প নয়। এটি উত্তর আমেরিকার ভূপ্রকৃতি, নদীর সীমানা এবং এমনকি প্রাণীর বসবাসের এলাকাও কীভাবে বদলেছে—তা বুঝতে বড় ভূমিকা রাখবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রোদে গেলেই ত্বক কালচে হয়ে যায়? সমাধান জানুন

পাহাড়ের ভেতর দিয়ে নদী

আপডেট সময় ১১:১৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পাহাড় মানেই নদীর পথে বড় বাধা—এমনটাই আমরা সাধারণত ভাবি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে একটি নদী আছে, যা পাহাড় ঘুরে না গিয়ে সোজা পাহাড় কেটে নিজের পথ তৈরি করেছে। এই অদ্ভুত ঘটনা বিজ্ঞানীদের প্রায় দেড়শ বছর ধরে ভাবিয়ে রেখেছিল। এবার সেই রহস্যের সহজ ব্যাখ্যা মিলেছে।

নদীটির নাম গ্রিন নদী। এটি কলোরাডো নদীর সবচেয়ে বড় শাখা। গ্রিন নদী উটাহর উঁচু উইনটা পর্বতমালার মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই পাহাড় প্রায় ৫ কোটি বছর পুরোনো। অথচ নদীটি এই পথে বইছে মাত্র ৮০ লাখ বছরেরও কম সময় ধরে। প্রশ্ন ছিল—পাহাড় আগে থাকলে নদী ভেতর দিয়ে গেল কীভাবে?

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, এর পেছনে কাজ করেছে একটি বিশেষ ভূগর্ভস্থ প্রক্রিয়া। এর নাম লিথোস্ফেরিক ড্রিপ (পৃথিবীর ভূত্বকের নিচে ভারী অংশ ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাওয়া)।

গবেষকদের মতে, বহু লাখ বছর আগে পাহাড়ের নিচে ভারী খনিজ পদার্থ জমে যায়। একসময় সেগুলো এত ভারী হয় যে নিচের দিকে দেবে যেতে শুরু করে। এতে ওপরের ভূমি ধীরে ধীরে নিচে বসে যায়। ঠিক সেই সময় গ্রিন নদী পাহাড়ের ওপর দিয়ে নয়, বরং ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ পায়।

এই অবস্থায় নদী ধীরে ধীরে শক্ত পাথর কেটে নিজের পথ তৈরি করে। এই পথেই আজকের বিখ্যাত ক্যানিয়ন অব লোডোর তৈরি হয়েছে। পরে এই পথ ধরেই গ্রিন নদী কলোরাডো নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়।

গবেষকরা ধারণা করছেন, এই ভূগর্ভস্থ ‘ড্রিপ’ ভেঙে আলাদা হয়ে যায় প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ বছর আগে। এই সময়ের হিসাব আগের গবেষণার সঙ্গেও মিলে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু একটি নদীর গল্প নয়। এটি উত্তর আমেরিকার ভূপ্রকৃতি, নদীর সীমানা এবং এমনকি প্রাণীর বসবাসের এলাকাও কীভাবে বদলেছে—তা বুঝতে বড় ভূমিকা রাখবে।