ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে ফখরুল মুন্সীগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রলির নিচে ঢুকে পড়ল বাইক, তিন বন্ধু নিহত বিএনপি ক্ষমতায় এলে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ ‘তদন্তকারী কর্মকর্তাকে টাকা দিতে পারিনি, তাই আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে’ যারা চাঁদাবাজি ধান্দাবাজি-মামলাবাজি করে তাদেরকে ভোট দেবেন না: মান্না এবার বাবরের গণসংযোগে নেমেছেন তৃতীয় লিঙ্গরা মানুষ অনেক কষ্টে রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে ভোটের অধিকার অর্জন করেছে : মির্জা আব্বাস বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকারের রেদওয়ান রাজাকারদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেওয়া যাবে না : আমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান

ইচ্ছে হলেই দত্তক নিতে পারি, কিন্তু জগতের সবার মা হয়ে থাকতে চাই: জয়া আহসান

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বর্তমার্নে কলকাতায় অবস্থান করছেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে আগামী সিনেমা, আট ঘণ্টার কাজ নিয়ে তার বক্তব্য। সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শিশুদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের প্রসঙ্গও। মাতৃত্ব নিয়ে তার একান্ত ভাবনা ঠিক কী, সে বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

অনেকটা লম্বা সময় কলকাতায় থাকা প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, হ্যাঁ, মাঝে একটু বেশি সময় ঢাকায় ছিলাম। এবার নিজের আসন্ন সিনেমা ‘ওসিডি’-র জন্য কলকাতায় এলাম। আমার অভিনীত এটি অন্যতম প্রিয় কাজ বলতে পারেন।

‘বাতিক’-এর জ্বালায় নাজেহাল অভিনেত্রী বলেন, এ সিনেমাটি করতে করতে আমি খুঁজতে শুরু করি— আমার মধ্যে কীসের বাতিক রয়েছে। সিনেমাটি করার সময় আমাদের পরিচালক সৌকর্যকে একাধিকবার জিজ্ঞেস করতাম— আমার কীসে ওসিডি আছে?

সেটি কি আপনি খুঁজে পেলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ আমি বুঝতে পেরেছি। নিখুঁত অভিনয় নিয়ে আমার ‘ওসিডি’ রয়েছে। খালি মনে হয় সব অভিনয় যেন এক রকম হয়ে যাচ্ছে। তারপর নিজেকেই যেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে ফেলি। আবার বিরক্ত হয়ে যাই নিজের ওপরেই। নিজেকে বলি— আরে বাবা, আমি তো মানুষ! কিন্তু মন বোঝে না। খালি মনে হয়, আমি কি ভালো করতে পারছি? এটা ভাবতে ভাবতে মানসিক অসুস্থতার জায়গায় চলে যাই। আরও নিখুঁত, আরও নিখুঁত হতে গিয়ে নিজের ওপর বাড়তি চাপ দিয়ে ফেলি।

কোনো চরিত্র হয়ে ওঠার জন্য জয়া আহসান কীভাবে তৈরি করেন নিজেকে?—এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, আমি যখন যে বিষয়ে কাজ করি, সেটা নিয়ে কিছুটা পড়াশোনা করি। ‘ওসিডি’ সিনেমাটা করার সময় ‘পিডোফিলিয়া’ নিয়ে রীতিমতো চর্চা করেছি। শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কোন মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ, কী থেকে হয়— এগুলো না জানলে এমন বিষয় নিয়ে কাজ করা ভীষণ মুশকিল। এ সিনেমা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তাই প্রস্তুতিটা জরুরি ছিল। আসলে যেখানে শিশুরা জড়িয়ে থাকে, দায়িত্বটা অনেক বেড়ে যায়, তাই না?

এ মুহূর্তে সারা বিশ্বে ‘এপস্টিন ফাইল’ নিয়ে আলোচনা চলছে। বড় বড় রথী-মহারথীদের বিচরণ, তাদের নাম উঠে আসছে বিতর্কে। উত্তরে জয়া আহসান বলেন, আসলে এটা তো একটা মানসিক ব্যাধি। একটা বাচ্চা দেখলে সাধারণ মানুষের মনে মায়া জন্মায়, স্নেহ জন্মায়। কিন্তু কিছু মানুষ আছে, তাদের মনে শিশুদের দেখলে যৌন আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। তারা ওই শরীরের ভেতরটা দেখতে চায়। আসলে এটা তো একটা অসুস্থতা। এই ‘পিডোফিলিয়া’ বিষয়টি নিয়ে কিন্তু বাংলা সিনেমায় এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। সেটিও খুব দুর্ভাগ্যজনক।

বাস্তবজীবনে জয়ার সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি?—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি আসলে শুনেছি। এ ধরনের যৌন শোষণের ঘটনা পরিবারের মধ্যেই বেশি হয়। তাই এ বিষয়টি সব সময়ে ঢাকাচাপা দিয়ে রাখতেই দেখেছি। আমি আমার অনেক ঘনিষ্ঠ মানুষের মধ্যে ‘ওসিডি’ও দেখেছি।

শিশুদের প্রতি মায়া প্রসঙ্গে মনে হলো— জয়া আহসান কখনো মা হতে চাননি? অভিনেত্রী বলেন, আমি তো নিজেকে মা-ই মনে করি। হয়তো আমি কাউকে জন্ম দিইনি। কিন্তু আমার সঙ্গে আমার পোষ্যদের যে সম্পর্ক কিংবা আমার বাড়ির গাছেদের, তাতে আমি নিজেকে মা বলেই ভাবি। ওদের সঙ্গে আমি কথা বলি। আমার সঙ্গে সময় না কাটালে গাছেরা মরে যায়, পোষ্যেরা কষ্ট পায়।

তিনি বলেন, আমি ওদের কথা বুঝতে পারি। আমার কলকাতার বাড়িতে এলে গাছগুলোর নতুন পাতা গজাতে দেখেছি। ওরা আমাকে দেখলে খুশিতে ঝলমল করে। জন্ম দিতে পারলেই কি সন্তানরা মায়ের কাছে থাকে? আমি জগতের সবার মা হয়ে থাকতে চাই, তার মধ্যেই আনন্দ — সারদাদেবীর মতো।

শিশুদের জন্য কতটা নিরাপদ এ প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, অসম্ভব অনিরাপদ। আমি চাইলে সন্তান দত্তক নিতে পারি। তার জন্য সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু বাধা একটাই— একটা শিশুকে পৃথিবীতে আনলে তার জন্য একটা নিরাপদ জায়গা করে দিতে হবে। কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়ত ‘আমি আমি’ করে চলছে।

অনেক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন, ৮ ঘণ্টার কাজের দাবির সঙ্গে আপনি একমত কিনা? অভিনেত্রী বলেন, দেখুন, অভিনয়টা শুধু শারীরিক নয়। এই পেশায় শরীর ও মনকে সঙ্গে নিয়ে একাগ্রচিত্তে কাজটা করতে হয়। আর এই কাজটা কিন্তু সহজ নয়। আমি মনে করি, কাজের একটা নির্ধারিত সময় থাকা দরকার। ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য থাকলে তবেই একজন অভিনেতার কর্মজীবন সফল হয়। আর এই আট ঘণ্টার মধ্যে ভালো কাজ করা সম্ভব। আট ঘণ্টা কাজ করা মানে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা নয়।

জয়া বলেন, আমার কাজের শিফট আট ঘণ্টার। আবার যখন প্রয়োজন হয়, তখন আট ঘণ্টার বেশিও কাজ করি। আমি কখনই প্রযোজক, পরিচালককে বিপদে ফেলি না। আমি কাজের ক্ষেত্রে জেদাজেদিতে বিশ্বাসী নই। বরং গুণগত মানের দিকটা বজায় থাকল কিনা, সেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

সবার তো জয়া আহসানের বয়স নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই, আপনি কী বলবেন? উত্তরে তিনি বলেন, কেউ বলে আমার বয়স ৪০, কারও কাছে আমি ৫০, আবার কেউ পৌঁছে দিয়েছে ষাটের দরজায়। আসলে আমি ছোট বয়স থেকে কাজ করছি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি, খুব ভারি ভারি চরিত্রে কাজ করেছি, আর অনেক বছর ধরে কাজ করছি। তাই যে যার মতো করে আমার বয়স ধরে নিয়েছে।

সমাজে সফল নারীদের বিড়ম্বনা কি বেশি?—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, আসলে মানুষ আজকাল মন্তব্য করতে ভালোবাসে। আর সামাজিক মাধ্যম তো প্রতিদিন যেন হাস্যকর জায়গায় চলে গেছে। তবে ‘সফল’ শব্দটা বড্ড স্বার্থপর মনে হয়। আমি সার্থকতায় বিশ্বাসী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে ফখরুল

ইচ্ছে হলেই দত্তক নিতে পারি, কিন্তু জগতের সবার মা হয়ে থাকতে চাই: জয়া আহসান

আপডেট সময় ০৯:৫৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বর্তমার্নে কলকাতায় অবস্থান করছেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে আগামী সিনেমা, আট ঘণ্টার কাজ নিয়ে তার বক্তব্য। সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শিশুদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের প্রসঙ্গও। মাতৃত্ব নিয়ে তার একান্ত ভাবনা ঠিক কী, সে বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

অনেকটা লম্বা সময় কলকাতায় থাকা প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, হ্যাঁ, মাঝে একটু বেশি সময় ঢাকায় ছিলাম। এবার নিজের আসন্ন সিনেমা ‘ওসিডি’-র জন্য কলকাতায় এলাম। আমার অভিনীত এটি অন্যতম প্রিয় কাজ বলতে পারেন।

‘বাতিক’-এর জ্বালায় নাজেহাল অভিনেত্রী বলেন, এ সিনেমাটি করতে করতে আমি খুঁজতে শুরু করি— আমার মধ্যে কীসের বাতিক রয়েছে। সিনেমাটি করার সময় আমাদের পরিচালক সৌকর্যকে একাধিকবার জিজ্ঞেস করতাম— আমার কীসে ওসিডি আছে?

সেটি কি আপনি খুঁজে পেলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ আমি বুঝতে পেরেছি। নিখুঁত অভিনয় নিয়ে আমার ‘ওসিডি’ রয়েছে। খালি মনে হয় সব অভিনয় যেন এক রকম হয়ে যাচ্ছে। তারপর নিজেকেই যেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে ফেলি। আবার বিরক্ত হয়ে যাই নিজের ওপরেই। নিজেকে বলি— আরে বাবা, আমি তো মানুষ! কিন্তু মন বোঝে না। খালি মনে হয়, আমি কি ভালো করতে পারছি? এটা ভাবতে ভাবতে মানসিক অসুস্থতার জায়গায় চলে যাই। আরও নিখুঁত, আরও নিখুঁত হতে গিয়ে নিজের ওপর বাড়তি চাপ দিয়ে ফেলি।

কোনো চরিত্র হয়ে ওঠার জন্য জয়া আহসান কীভাবে তৈরি করেন নিজেকে?—এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, আমি যখন যে বিষয়ে কাজ করি, সেটা নিয়ে কিছুটা পড়াশোনা করি। ‘ওসিডি’ সিনেমাটা করার সময় ‘পিডোফিলিয়া’ নিয়ে রীতিমতো চর্চা করেছি। শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কোন মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ, কী থেকে হয়— এগুলো না জানলে এমন বিষয় নিয়ে কাজ করা ভীষণ মুশকিল। এ সিনেমা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তাই প্রস্তুতিটা জরুরি ছিল। আসলে যেখানে শিশুরা জড়িয়ে থাকে, দায়িত্বটা অনেক বেড়ে যায়, তাই না?

এ মুহূর্তে সারা বিশ্বে ‘এপস্টিন ফাইল’ নিয়ে আলোচনা চলছে। বড় বড় রথী-মহারথীদের বিচরণ, তাদের নাম উঠে আসছে বিতর্কে। উত্তরে জয়া আহসান বলেন, আসলে এটা তো একটা মানসিক ব্যাধি। একটা বাচ্চা দেখলে সাধারণ মানুষের মনে মায়া জন্মায়, স্নেহ জন্মায়। কিন্তু কিছু মানুষ আছে, তাদের মনে শিশুদের দেখলে যৌন আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। তারা ওই শরীরের ভেতরটা দেখতে চায়। আসলে এটা তো একটা অসুস্থতা। এই ‘পিডোফিলিয়া’ বিষয়টি নিয়ে কিন্তু বাংলা সিনেমায় এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। সেটিও খুব দুর্ভাগ্যজনক।

বাস্তবজীবনে জয়ার সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি?—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি আসলে শুনেছি। এ ধরনের যৌন শোষণের ঘটনা পরিবারের মধ্যেই বেশি হয়। তাই এ বিষয়টি সব সময়ে ঢাকাচাপা দিয়ে রাখতেই দেখেছি। আমি আমার অনেক ঘনিষ্ঠ মানুষের মধ্যে ‘ওসিডি’ও দেখেছি।

শিশুদের প্রতি মায়া প্রসঙ্গে মনে হলো— জয়া আহসান কখনো মা হতে চাননি? অভিনেত্রী বলেন, আমি তো নিজেকে মা-ই মনে করি। হয়তো আমি কাউকে জন্ম দিইনি। কিন্তু আমার সঙ্গে আমার পোষ্যদের যে সম্পর্ক কিংবা আমার বাড়ির গাছেদের, তাতে আমি নিজেকে মা বলেই ভাবি। ওদের সঙ্গে আমি কথা বলি। আমার সঙ্গে সময় না কাটালে গাছেরা মরে যায়, পোষ্যেরা কষ্ট পায়।

তিনি বলেন, আমি ওদের কথা বুঝতে পারি। আমার কলকাতার বাড়িতে এলে গাছগুলোর নতুন পাতা গজাতে দেখেছি। ওরা আমাকে দেখলে খুশিতে ঝলমল করে। জন্ম দিতে পারলেই কি সন্তানরা মায়ের কাছে থাকে? আমি জগতের সবার মা হয়ে থাকতে চাই, তার মধ্যেই আনন্দ — সারদাদেবীর মতো।

শিশুদের জন্য কতটা নিরাপদ এ প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, অসম্ভব অনিরাপদ। আমি চাইলে সন্তান দত্তক নিতে পারি। তার জন্য সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু বাধা একটাই— একটা শিশুকে পৃথিবীতে আনলে তার জন্য একটা নিরাপদ জায়গা করে দিতে হবে। কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়ত ‘আমি আমি’ করে চলছে।

অনেক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন, ৮ ঘণ্টার কাজের দাবির সঙ্গে আপনি একমত কিনা? অভিনেত্রী বলেন, দেখুন, অভিনয়টা শুধু শারীরিক নয়। এই পেশায় শরীর ও মনকে সঙ্গে নিয়ে একাগ্রচিত্তে কাজটা করতে হয়। আর এই কাজটা কিন্তু সহজ নয়। আমি মনে করি, কাজের একটা নির্ধারিত সময় থাকা দরকার। ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য থাকলে তবেই একজন অভিনেতার কর্মজীবন সফল হয়। আর এই আট ঘণ্টার মধ্যে ভালো কাজ করা সম্ভব। আট ঘণ্টা কাজ করা মানে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা নয়।

জয়া বলেন, আমার কাজের শিফট আট ঘণ্টার। আবার যখন প্রয়োজন হয়, তখন আট ঘণ্টার বেশিও কাজ করি। আমি কখনই প্রযোজক, পরিচালককে বিপদে ফেলি না। আমি কাজের ক্ষেত্রে জেদাজেদিতে বিশ্বাসী নই। বরং গুণগত মানের দিকটা বজায় থাকল কিনা, সেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

সবার তো জয়া আহসানের বয়স নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই, আপনি কী বলবেন? উত্তরে তিনি বলেন, কেউ বলে আমার বয়স ৪০, কারও কাছে আমি ৫০, আবার কেউ পৌঁছে দিয়েছে ষাটের দরজায়। আসলে আমি ছোট বয়স থেকে কাজ করছি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি, খুব ভারি ভারি চরিত্রে কাজ করেছি, আর অনেক বছর ধরে কাজ করছি। তাই যে যার মতো করে আমার বয়স ধরে নিয়েছে।

সমাজে সফল নারীদের বিড়ম্বনা কি বেশি?—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, আসলে মানুষ আজকাল মন্তব্য করতে ভালোবাসে। আর সামাজিক মাধ্যম তো প্রতিদিন যেন হাস্যকর জায়গায় চলে গেছে। তবে ‘সফল’ শব্দটা বড্ড স্বার্থপর মনে হয়। আমি সার্থকতায় বিশ্বাসী।