ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ডার্ক এনার্জি নিয়ে নতুন গবেষণায় বড় প্রশ্ন

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

আমরা এতদিন জেনে এসেছি, মহাবিশ্ব ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং এই প্রসারণ কখনো থামবে না। কিন্তু নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেই ধারণায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষকের মতে, মহাবিশ্বের প্রসারণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। ভবিষ্যতে এটি উল্টো সংকুচিতও হতে পারে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-তে। গবেষণার প্রধান, সিউলের ইয়োনসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং উক লি জানান, ডার্ক এনার্জি (মহাবিশ্বকে প্রসারিত করে বলে ধারণা করা এক রহস্যময় শক্তি) আগের মতো স্থির নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর শক্তি বদলাচ্ছে এবং দুর্বল হয়ে আসছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে ‘বিগ ব্যাং’-এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের জন্ম হয়। দীর্ঘদিন ধারণা ছিল, মহাবিশ্বের প্রসারণ ধীরে হলেও চলমান থাকবে। ১৯৯৮ সালে ডার্ক এনার্জি আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন, এই শক্তির কারণে মহাবিশ্ব আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি একসময় ‘বিগ রিপ’ (সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ধ্বংস) ঘটতে পারে বলেও ধারণা ছিল।

নতুন এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা টাইপ-১এ সুপারনোভা (তারার ভয়াবহ বিস্ফোরণ) বিশ্লেষণ করেন। আগে এসব বিস্ফোরণের আলো দেখে দূরত্ব মাপা হতো। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারনোভার উজ্জ্বলতা দূরত্বের চেয়ে তারার বয়সের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। বয়স্ক তারার বিস্ফোরণ বেশি উজ্জ্বল হয়।

এই তথ্য ইঙ্গিত দেয়, ডার্ক এনার্জি সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে। গবেষকদের মতে, মহাবিশ্ব এখনই ধীরগতিতে প্রসারিত হচ্ছে। তবে এতে তাৎক্ষণিক কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাবিশ্বের সম্ভাব্য শেষ এখনও প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন বছর দূরে।

এই গবেষণা মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের ধারণায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ডার্ক এনার্জি নিয়ে নতুন গবেষণায় বড় প্রশ্ন

আপডেট সময় ১০:১৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

আমরা এতদিন জেনে এসেছি, মহাবিশ্ব ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং এই প্রসারণ কখনো থামবে না। কিন্তু নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেই ধারণায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষকের মতে, মহাবিশ্বের প্রসারণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। ভবিষ্যতে এটি উল্টো সংকুচিতও হতে পারে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-তে। গবেষণার প্রধান, সিউলের ইয়োনসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং উক লি জানান, ডার্ক এনার্জি (মহাবিশ্বকে প্রসারিত করে বলে ধারণা করা এক রহস্যময় শক্তি) আগের মতো স্থির নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর শক্তি বদলাচ্ছে এবং দুর্বল হয়ে আসছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে ‘বিগ ব্যাং’-এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের জন্ম হয়। দীর্ঘদিন ধারণা ছিল, মহাবিশ্বের প্রসারণ ধীরে হলেও চলমান থাকবে। ১৯৯৮ সালে ডার্ক এনার্জি আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন, এই শক্তির কারণে মহাবিশ্ব আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি একসময় ‘বিগ রিপ’ (সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ধ্বংস) ঘটতে পারে বলেও ধারণা ছিল।

নতুন এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা টাইপ-১এ সুপারনোভা (তারার ভয়াবহ বিস্ফোরণ) বিশ্লেষণ করেন। আগে এসব বিস্ফোরণের আলো দেখে দূরত্ব মাপা হতো। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারনোভার উজ্জ্বলতা দূরত্বের চেয়ে তারার বয়সের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। বয়স্ক তারার বিস্ফোরণ বেশি উজ্জ্বল হয়।

এই তথ্য ইঙ্গিত দেয়, ডার্ক এনার্জি সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে। গবেষকদের মতে, মহাবিশ্ব এখনই ধীরগতিতে প্রসারিত হচ্ছে। তবে এতে তাৎক্ষণিক কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাবিশ্বের সম্ভাব্য শেষ এখনও প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন বছর দূরে।

এই গবেষণা মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের ধারণায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।