ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না, সবাই সহযোগিতা করলে শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’,বক্তব্যের অন্তর্নিহিত গোমর ফাঁস করলেন হামিম গোপালগঞ্জে মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, যে ভারতে ঝুঁকি আছে: আসিফ নজরুল বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন

মহাকাশে পাওয়া গেল পানির বিশাল ভাণ্ডার

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মহাবিশ্বের এক দূরবর্তী কোণে এক বিশালাকার ‘পানি ভাণ্ডার’ আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কোয়াসার APM 08279+5255-এর চারপাশে অবস্থিত এই পানির ভাণ্ডার পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের পানির ১৪০ ট্রিলিয়ন গুণ বেশি। এই কোয়াসারটি পৃথিবী থেকে ১২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে, যার অর্থ এই আলো আমাদের কাছে পৌঁছতে মহাবিশ্বের জন্মের পরপরই যাত্রা শুরু করেছিল।

এই কোয়াসারটির কেন্দ্রস্থলে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল রয়েছে, যা সূর্যের ভরের প্রায় ২০ বিলিয়ন গুণ। ব্ল্যাকহোলটি আশপাশের পদার্থকে নিজের দিকে টানার সময় তীব্র তাপ উৎপন্ন করে, যার ফলে চারপাশের গ্যাস এবং ধূলিকণায় বিশেষ প্রকারের অণু সৃষ্টি হয়।

কোয়াসার APM 08279+5255 থেকে এক হাজার ট্রিলিয়ন সূর্যের সমতুল্য শক্তি নির্গত হয়। কোয়াসারগুলো সাধারণ তারার মতো নয়। এগুলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং সমস্ত তারা মিলেও এতটা আলো উৎপন্ন করতে পারে না। এর কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের কারণে আশপাশের গ্যাস ও ধূলিকণা প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে শক্তি নির্গত করে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোয়াসারের চারপাশে পাওয়া পানির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের শুরুর সময়েও পানি ছিল। এছাড়া, পানি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোও তখন থেকেই মহাবিশ্বে বিদ্যমান ছিল।

পানির উপস্থিতি মানে কোয়াসারটি এমন বিকিরণ ছড়াচ্ছে যা আশপাশের গ্যাসকে তুলনামূলক উষ্ণ রাখছে। এখানে পাওয়া কার্বন মনোক্সাইডসহ অন্যান্য অণুর উপস্থিতি ইঙ্গিত করে, ব্ল্যাকহোলটি আরও বড় হতে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে।

এই গ্যাস থেকে নতুন তারা গঠিত হতে পারে বা এটি মহাকাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে, এই পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের প্রাচীন অবস্থার বিষয়ে নতুন তথ্য দেয়।

জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য। এই দূরবর্তী কোয়াসারে পানির সন্ধান পাওয়া প্রমাণ করে যে, জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মহাবিশ্বের প্রথম দিক থেকেই ছিল। এছাড়া, পানি তারাগুলোর গঠন এবং গ্যালাক্সির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদিকালের গ্যালাক্সির গঠন এবং বিকাশ সম্পর্কে গবেষকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া

মহাকাশে পাওয়া গেল পানির বিশাল ভাণ্ডার

আপডেট সময় ১০:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মহাবিশ্বের এক দূরবর্তী কোণে এক বিশালাকার ‘পানি ভাণ্ডার’ আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কোয়াসার APM 08279+5255-এর চারপাশে অবস্থিত এই পানির ভাণ্ডার পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের পানির ১৪০ ট্রিলিয়ন গুণ বেশি। এই কোয়াসারটি পৃথিবী থেকে ১২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে, যার অর্থ এই আলো আমাদের কাছে পৌঁছতে মহাবিশ্বের জন্মের পরপরই যাত্রা শুরু করেছিল।

এই কোয়াসারটির কেন্দ্রস্থলে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল রয়েছে, যা সূর্যের ভরের প্রায় ২০ বিলিয়ন গুণ। ব্ল্যাকহোলটি আশপাশের পদার্থকে নিজের দিকে টানার সময় তীব্র তাপ উৎপন্ন করে, যার ফলে চারপাশের গ্যাস এবং ধূলিকণায় বিশেষ প্রকারের অণু সৃষ্টি হয়।

কোয়াসার APM 08279+5255 থেকে এক হাজার ট্রিলিয়ন সূর্যের সমতুল্য শক্তি নির্গত হয়। কোয়াসারগুলো সাধারণ তারার মতো নয়। এগুলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং সমস্ত তারা মিলেও এতটা আলো উৎপন্ন করতে পারে না। এর কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের কারণে আশপাশের গ্যাস ও ধূলিকণা প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে শক্তি নির্গত করে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোয়াসারের চারপাশে পাওয়া পানির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের শুরুর সময়েও পানি ছিল। এছাড়া, পানি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোও তখন থেকেই মহাবিশ্বে বিদ্যমান ছিল।

পানির উপস্থিতি মানে কোয়াসারটি এমন বিকিরণ ছড়াচ্ছে যা আশপাশের গ্যাসকে তুলনামূলক উষ্ণ রাখছে। এখানে পাওয়া কার্বন মনোক্সাইডসহ অন্যান্য অণুর উপস্থিতি ইঙ্গিত করে, ব্ল্যাকহোলটি আরও বড় হতে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে।

এই গ্যাস থেকে নতুন তারা গঠিত হতে পারে বা এটি মহাকাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে, এই পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের প্রাচীন অবস্থার বিষয়ে নতুন তথ্য দেয়।

জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য। এই দূরবর্তী কোয়াসারে পানির সন্ধান পাওয়া প্রমাণ করে যে, জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মহাবিশ্বের প্রথম দিক থেকেই ছিল। এছাড়া, পানি তারাগুলোর গঠন এবং গ্যালাক্সির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদিকালের গ্যালাক্সির গঠন এবং বিকাশ সম্পর্কে গবেষকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।