ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

মহাকাশে পাওয়া গেল পানির বিশাল ভাণ্ডার

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মহাবিশ্বের এক দূরবর্তী কোণে এক বিশালাকার ‘পানি ভাণ্ডার’ আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কোয়াসার APM 08279+5255-এর চারপাশে অবস্থিত এই পানির ভাণ্ডার পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের পানির ১৪০ ট্রিলিয়ন গুণ বেশি। এই কোয়াসারটি পৃথিবী থেকে ১২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে, যার অর্থ এই আলো আমাদের কাছে পৌঁছতে মহাবিশ্বের জন্মের পরপরই যাত্রা শুরু করেছিল।

এই কোয়াসারটির কেন্দ্রস্থলে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল রয়েছে, যা সূর্যের ভরের প্রায় ২০ বিলিয়ন গুণ। ব্ল্যাকহোলটি আশপাশের পদার্থকে নিজের দিকে টানার সময় তীব্র তাপ উৎপন্ন করে, যার ফলে চারপাশের গ্যাস এবং ধূলিকণায় বিশেষ প্রকারের অণু সৃষ্টি হয়।

কোয়াসার APM 08279+5255 থেকে এক হাজার ট্রিলিয়ন সূর্যের সমতুল্য শক্তি নির্গত হয়। কোয়াসারগুলো সাধারণ তারার মতো নয়। এগুলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং সমস্ত তারা মিলেও এতটা আলো উৎপন্ন করতে পারে না। এর কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের কারণে আশপাশের গ্যাস ও ধূলিকণা প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে শক্তি নির্গত করে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোয়াসারের চারপাশে পাওয়া পানির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের শুরুর সময়েও পানি ছিল। এছাড়া, পানি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোও তখন থেকেই মহাবিশ্বে বিদ্যমান ছিল।

পানির উপস্থিতি মানে কোয়াসারটি এমন বিকিরণ ছড়াচ্ছে যা আশপাশের গ্যাসকে তুলনামূলক উষ্ণ রাখছে। এখানে পাওয়া কার্বন মনোক্সাইডসহ অন্যান্য অণুর উপস্থিতি ইঙ্গিত করে, ব্ল্যাকহোলটি আরও বড় হতে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে।

এই গ্যাস থেকে নতুন তারা গঠিত হতে পারে বা এটি মহাকাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে, এই পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের প্রাচীন অবস্থার বিষয়ে নতুন তথ্য দেয়।

জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য। এই দূরবর্তী কোয়াসারে পানির সন্ধান পাওয়া প্রমাণ করে যে, জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মহাবিশ্বের প্রথম দিক থেকেই ছিল। এছাড়া, পানি তারাগুলোর গঠন এবং গ্যালাক্সির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদিকালের গ্যালাক্সির গঠন এবং বিকাশ সম্পর্কে গবেষকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

মহাকাশে পাওয়া গেল পানির বিশাল ভাণ্ডার

আপডেট সময় ১০:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মহাবিশ্বের এক দূরবর্তী কোণে এক বিশালাকার ‘পানি ভাণ্ডার’ আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কোয়াসার APM 08279+5255-এর চারপাশে অবস্থিত এই পানির ভাণ্ডার পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের পানির ১৪০ ট্রিলিয়ন গুণ বেশি। এই কোয়াসারটি পৃথিবী থেকে ১২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে, যার অর্থ এই আলো আমাদের কাছে পৌঁছতে মহাবিশ্বের জন্মের পরপরই যাত্রা শুরু করেছিল।

এই কোয়াসারটির কেন্দ্রস্থলে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল রয়েছে, যা সূর্যের ভরের প্রায় ২০ বিলিয়ন গুণ। ব্ল্যাকহোলটি আশপাশের পদার্থকে নিজের দিকে টানার সময় তীব্র তাপ উৎপন্ন করে, যার ফলে চারপাশের গ্যাস এবং ধূলিকণায় বিশেষ প্রকারের অণু সৃষ্টি হয়।

কোয়াসার APM 08279+5255 থেকে এক হাজার ট্রিলিয়ন সূর্যের সমতুল্য শক্তি নির্গত হয়। কোয়াসারগুলো সাধারণ তারার মতো নয়। এগুলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং সমস্ত তারা মিলেও এতটা আলো উৎপন্ন করতে পারে না। এর কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের কারণে আশপাশের গ্যাস ও ধূলিকণা প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে শক্তি নির্গত করে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোয়াসারের চারপাশে পাওয়া পানির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের শুরুর সময়েও পানি ছিল। এছাড়া, পানি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোও তখন থেকেই মহাবিশ্বে বিদ্যমান ছিল।

পানির উপস্থিতি মানে কোয়াসারটি এমন বিকিরণ ছড়াচ্ছে যা আশপাশের গ্যাসকে তুলনামূলক উষ্ণ রাখছে। এখানে পাওয়া কার্বন মনোক্সাইডসহ অন্যান্য অণুর উপস্থিতি ইঙ্গিত করে, ব্ল্যাকহোলটি আরও বড় হতে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে।

এই গ্যাস থেকে নতুন তারা গঠিত হতে পারে বা এটি মহাকাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে, এই পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের প্রাচীন অবস্থার বিষয়ে নতুন তথ্য দেয়।

জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য। এই দূরবর্তী কোয়াসারে পানির সন্ধান পাওয়া প্রমাণ করে যে, জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মহাবিশ্বের প্রথম দিক থেকেই ছিল। এছাড়া, পানি তারাগুলোর গঠন এবং গ্যালাক্সির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদিকালের গ্যালাক্সির গঠন এবং বিকাশ সম্পর্কে গবেষকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।