ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

নওগাঁয় ‘পাঁচ টাকা’র মসজিদ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহানবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে প্রথম যে মসজিদ নির্মাণ করেন তার নাম মসজিদে কুবা। এটিকে বলা হয় ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ।

মুসলমানদের ইমানি চেতনায় উজ্জীবিত করার জন্য তখনকার সব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাজ মসজিদভিত্তিক সংঘটিত হতো। তাই মসজিদ মুসলমানদের নবজাগরণের প্রতীক। মুসলিম শাসকদের ইসলামি স্থাপত্বের মাঝে মসজিদের প্রতি আলাদা আগ্রহ লক্ষ করা যায়।

মুসলমানরা প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি ইরান, পারস্য, ইরাক মিসর ইত্যাদি নগরে ইসলাম প্রচার করার জন্য প্রবেশ করেন এবং উন্নত সভ্যতার সঙ্গে পরিচিত হন। তার ঐতিহাসিক নমুনা বিভিন্ন দেশে ইসলামি স্থাপত্বের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

উমাইয়া শাসন আমলে দামেস্কে প্রথম নকশার আদলে দামেস্ক মসজিদ স্থাপন করা হয়। এটিকে অনুসরণ করে পরে সুন্দর সুন্দর অনেক মসজিদ নির্মিত হয়েছে। তখনকার মুসলিম স্থাপত্বে গম্বুজ, মিনার খিলান, বুরুজ মিহরাব, মোজাইক ও মার্বেল নকশার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

মুসলিম স্থাপত্ব শৈলীতে এসব রীতি ধীরে ধীরে মুসলমানদের সক্রিয় রীতিতে দাঁড়িয়ে যায়। যা দেখে সহজেই চেনা যায় এটি মুসলিম স্থাপত্ব। যা অন্যান্য ধর্মের স্থাপত্ব থেকে আলাদা। এমন একটি ইসলামি স্থাপত্বের ঐতিহাসিক নিদশর্ন কুসুম্বা মসজিদ। পাঁচ টাকার নোটে এ মসজিদের ছবি রয়েছে বিধায় স্থানীয় লোকের কাছে এটি পাঁচ টাকার মসজিদ নামে পরিচিত।

নওগাঁ জেলার কুসুম্বা গ্রামে প্রাচীন এ মসজিদের অবস্থান।

১৫৫৮ (খ্রি.) আফগান শাসক গিয়াস উদ্দীন বাহাদুর শাহের আমলে জনৈক সোলাইমান এ মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট প্রস্থ ৪২ ফুট এবং ওপরে দুই সারিতে ৬টি গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের চার কোণে খাঁজ কাটা ৪টি স্তম্ভ ও প্রবেশদ্বারে সুদর্শন তিনটি খিলান রয়েছে। মসজিদের ইটের দেওয়ালের উভয় পাশ পাথর দ্বারা আবৃত।

মসজিদের গায়ে খুদাই করে বিভিন্ন লতা পাতার কারুকার্য এর সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। দেখে যেন মনে হয় শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি।

মিনারের এক পাশে একটি উঁচু আসন রয়েছে। ধারণা করা হয় তৎকালীন বিচারকরা এখানে বসে বিচার কাজ পরিচালনা করতেন। মসজিদের কার্নিশ বিভিন্ন কারুকার্যে সজ্জিত। মসিজদের সম্মুখ ভাগে প্রায় ৭৭ বিঘা জমির ওপর রয়েছে বিশাল জলাশয় এবং দৃষ্টিনন্দন ঘাট। যা দর্শানর্থীদের মুগ্ধ করে। দূরদূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক এসে এখানে গোসল করেন।

মসজিদের এক পাশে রান্নার জন্য সিড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সিডের দুই সারিতে ৩০টি চুলা রয়েছে। অনেকেই মান্নত করে এখানে রান্নাবান্না করে লোকজনকে খাওয়ান। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এটি সংস্কার করে।

প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন এ মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে এবং তাদের এটি বিমোহিত করে থাকে। প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এ মসজিদ মুসলমানদের ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। এ মসজিদের অলংকরণ, মনোমুগ্ধ করা ডিজাইন মুসলমানদের উন্নত রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ।

লেখক : পরিচালক, কিশোর কথা আইডিয়াল মাদ্রাসা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নওগাঁয় ‘পাঁচ টাকা’র মসজিদ

আপডেট সময় ০৭:০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহানবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে প্রথম যে মসজিদ নির্মাণ করেন তার নাম মসজিদে কুবা। এটিকে বলা হয় ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ।

মুসলমানদের ইমানি চেতনায় উজ্জীবিত করার জন্য তখনকার সব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাজ মসজিদভিত্তিক সংঘটিত হতো। তাই মসজিদ মুসলমানদের নবজাগরণের প্রতীক। মুসলিম শাসকদের ইসলামি স্থাপত্বের মাঝে মসজিদের প্রতি আলাদা আগ্রহ লক্ষ করা যায়।

মুসলমানরা প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি ইরান, পারস্য, ইরাক মিসর ইত্যাদি নগরে ইসলাম প্রচার করার জন্য প্রবেশ করেন এবং উন্নত সভ্যতার সঙ্গে পরিচিত হন। তার ঐতিহাসিক নমুনা বিভিন্ন দেশে ইসলামি স্থাপত্বের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

উমাইয়া শাসন আমলে দামেস্কে প্রথম নকশার আদলে দামেস্ক মসজিদ স্থাপন করা হয়। এটিকে অনুসরণ করে পরে সুন্দর সুন্দর অনেক মসজিদ নির্মিত হয়েছে। তখনকার মুসলিম স্থাপত্বে গম্বুজ, মিনার খিলান, বুরুজ মিহরাব, মোজাইক ও মার্বেল নকশার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

মুসলিম স্থাপত্ব শৈলীতে এসব রীতি ধীরে ধীরে মুসলমানদের সক্রিয় রীতিতে দাঁড়িয়ে যায়। যা দেখে সহজেই চেনা যায় এটি মুসলিম স্থাপত্ব। যা অন্যান্য ধর্মের স্থাপত্ব থেকে আলাদা। এমন একটি ইসলামি স্থাপত্বের ঐতিহাসিক নিদশর্ন কুসুম্বা মসজিদ। পাঁচ টাকার নোটে এ মসজিদের ছবি রয়েছে বিধায় স্থানীয় লোকের কাছে এটি পাঁচ টাকার মসজিদ নামে পরিচিত।

নওগাঁ জেলার কুসুম্বা গ্রামে প্রাচীন এ মসজিদের অবস্থান।

১৫৫৮ (খ্রি.) আফগান শাসক গিয়াস উদ্দীন বাহাদুর শাহের আমলে জনৈক সোলাইমান এ মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট প্রস্থ ৪২ ফুট এবং ওপরে দুই সারিতে ৬টি গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের চার কোণে খাঁজ কাটা ৪টি স্তম্ভ ও প্রবেশদ্বারে সুদর্শন তিনটি খিলান রয়েছে। মসজিদের ইটের দেওয়ালের উভয় পাশ পাথর দ্বারা আবৃত।

মসজিদের গায়ে খুদাই করে বিভিন্ন লতা পাতার কারুকার্য এর সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। দেখে যেন মনে হয় শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি।

মিনারের এক পাশে একটি উঁচু আসন রয়েছে। ধারণা করা হয় তৎকালীন বিচারকরা এখানে বসে বিচার কাজ পরিচালনা করতেন। মসজিদের কার্নিশ বিভিন্ন কারুকার্যে সজ্জিত। মসিজদের সম্মুখ ভাগে প্রায় ৭৭ বিঘা জমির ওপর রয়েছে বিশাল জলাশয় এবং দৃষ্টিনন্দন ঘাট। যা দর্শানর্থীদের মুগ্ধ করে। দূরদূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক এসে এখানে গোসল করেন।

মসজিদের এক পাশে রান্নার জন্য সিড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সিডের দুই সারিতে ৩০টি চুলা রয়েছে। অনেকেই মান্নত করে এখানে রান্নাবান্না করে লোকজনকে খাওয়ান। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এটি সংস্কার করে।

প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন এ মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে এবং তাদের এটি বিমোহিত করে থাকে। প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এ মসজিদ মুসলমানদের ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। এ মসজিদের অলংকরণ, মনোমুগ্ধ করা ডিজাইন মুসলমানদের উন্নত রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ।

লেখক : পরিচালক, কিশোর কথা আইডিয়াল মাদ্রাসা