ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

নওগাঁয় ‘পাঁচ টাকা’র মসজিদ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহানবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে প্রথম যে মসজিদ নির্মাণ করেন তার নাম মসজিদে কুবা। এটিকে বলা হয় ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ।

মুসলমানদের ইমানি চেতনায় উজ্জীবিত করার জন্য তখনকার সব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাজ মসজিদভিত্তিক সংঘটিত হতো। তাই মসজিদ মুসলমানদের নবজাগরণের প্রতীক। মুসলিম শাসকদের ইসলামি স্থাপত্বের মাঝে মসজিদের প্রতি আলাদা আগ্রহ লক্ষ করা যায়।

মুসলমানরা প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি ইরান, পারস্য, ইরাক মিসর ইত্যাদি নগরে ইসলাম প্রচার করার জন্য প্রবেশ করেন এবং উন্নত সভ্যতার সঙ্গে পরিচিত হন। তার ঐতিহাসিক নমুনা বিভিন্ন দেশে ইসলামি স্থাপত্বের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

উমাইয়া শাসন আমলে দামেস্কে প্রথম নকশার আদলে দামেস্ক মসজিদ স্থাপন করা হয়। এটিকে অনুসরণ করে পরে সুন্দর সুন্দর অনেক মসজিদ নির্মিত হয়েছে। তখনকার মুসলিম স্থাপত্বে গম্বুজ, মিনার খিলান, বুরুজ মিহরাব, মোজাইক ও মার্বেল নকশার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

মুসলিম স্থাপত্ব শৈলীতে এসব রীতি ধীরে ধীরে মুসলমানদের সক্রিয় রীতিতে দাঁড়িয়ে যায়। যা দেখে সহজেই চেনা যায় এটি মুসলিম স্থাপত্ব। যা অন্যান্য ধর্মের স্থাপত্ব থেকে আলাদা। এমন একটি ইসলামি স্থাপত্বের ঐতিহাসিক নিদশর্ন কুসুম্বা মসজিদ। পাঁচ টাকার নোটে এ মসজিদের ছবি রয়েছে বিধায় স্থানীয় লোকের কাছে এটি পাঁচ টাকার মসজিদ নামে পরিচিত।

নওগাঁ জেলার কুসুম্বা গ্রামে প্রাচীন এ মসজিদের অবস্থান।

১৫৫৮ (খ্রি.) আফগান শাসক গিয়াস উদ্দীন বাহাদুর শাহের আমলে জনৈক সোলাইমান এ মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট প্রস্থ ৪২ ফুট এবং ওপরে দুই সারিতে ৬টি গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের চার কোণে খাঁজ কাটা ৪টি স্তম্ভ ও প্রবেশদ্বারে সুদর্শন তিনটি খিলান রয়েছে। মসজিদের ইটের দেওয়ালের উভয় পাশ পাথর দ্বারা আবৃত।

মসজিদের গায়ে খুদাই করে বিভিন্ন লতা পাতার কারুকার্য এর সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। দেখে যেন মনে হয় শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি।

মিনারের এক পাশে একটি উঁচু আসন রয়েছে। ধারণা করা হয় তৎকালীন বিচারকরা এখানে বসে বিচার কাজ পরিচালনা করতেন। মসজিদের কার্নিশ বিভিন্ন কারুকার্যে সজ্জিত। মসিজদের সম্মুখ ভাগে প্রায় ৭৭ বিঘা জমির ওপর রয়েছে বিশাল জলাশয় এবং দৃষ্টিনন্দন ঘাট। যা দর্শানর্থীদের মুগ্ধ করে। দূরদূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক এসে এখানে গোসল করেন।

মসজিদের এক পাশে রান্নার জন্য সিড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সিডের দুই সারিতে ৩০টি চুলা রয়েছে। অনেকেই মান্নত করে এখানে রান্নাবান্না করে লোকজনকে খাওয়ান। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এটি সংস্কার করে।

প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন এ মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে এবং তাদের এটি বিমোহিত করে থাকে। প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এ মসজিদ মুসলমানদের ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। এ মসজিদের অলংকরণ, মনোমুগ্ধ করা ডিজাইন মুসলমানদের উন্নত রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ।

লেখক : পরিচালক, কিশোর কথা আইডিয়াল মাদ্রাসা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

নওগাঁয় ‘পাঁচ টাকা’র মসজিদ

আপডেট সময় ০৭:০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহানবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে প্রথম যে মসজিদ নির্মাণ করেন তার নাম মসজিদে কুবা। এটিকে বলা হয় ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ।

মুসলমানদের ইমানি চেতনায় উজ্জীবিত করার জন্য তখনকার সব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাজ মসজিদভিত্তিক সংঘটিত হতো। তাই মসজিদ মুসলমানদের নবজাগরণের প্রতীক। মুসলিম শাসকদের ইসলামি স্থাপত্বের মাঝে মসজিদের প্রতি আলাদা আগ্রহ লক্ষ করা যায়।

মুসলমানরা প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি ইরান, পারস্য, ইরাক মিসর ইত্যাদি নগরে ইসলাম প্রচার করার জন্য প্রবেশ করেন এবং উন্নত সভ্যতার সঙ্গে পরিচিত হন। তার ঐতিহাসিক নমুনা বিভিন্ন দেশে ইসলামি স্থাপত্বের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

উমাইয়া শাসন আমলে দামেস্কে প্রথম নকশার আদলে দামেস্ক মসজিদ স্থাপন করা হয়। এটিকে অনুসরণ করে পরে সুন্দর সুন্দর অনেক মসজিদ নির্মিত হয়েছে। তখনকার মুসলিম স্থাপত্বে গম্বুজ, মিনার খিলান, বুরুজ মিহরাব, মোজাইক ও মার্বেল নকশার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

মুসলিম স্থাপত্ব শৈলীতে এসব রীতি ধীরে ধীরে মুসলমানদের সক্রিয় রীতিতে দাঁড়িয়ে যায়। যা দেখে সহজেই চেনা যায় এটি মুসলিম স্থাপত্ব। যা অন্যান্য ধর্মের স্থাপত্ব থেকে আলাদা। এমন একটি ইসলামি স্থাপত্বের ঐতিহাসিক নিদশর্ন কুসুম্বা মসজিদ। পাঁচ টাকার নোটে এ মসজিদের ছবি রয়েছে বিধায় স্থানীয় লোকের কাছে এটি পাঁচ টাকার মসজিদ নামে পরিচিত।

নওগাঁ জেলার কুসুম্বা গ্রামে প্রাচীন এ মসজিদের অবস্থান।

১৫৫৮ (খ্রি.) আফগান শাসক গিয়াস উদ্দীন বাহাদুর শাহের আমলে জনৈক সোলাইমান এ মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট প্রস্থ ৪২ ফুট এবং ওপরে দুই সারিতে ৬টি গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের চার কোণে খাঁজ কাটা ৪টি স্তম্ভ ও প্রবেশদ্বারে সুদর্শন তিনটি খিলান রয়েছে। মসজিদের ইটের দেওয়ালের উভয় পাশ পাথর দ্বারা আবৃত।

মসজিদের গায়ে খুদাই করে বিভিন্ন লতা পাতার কারুকার্য এর সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। দেখে যেন মনে হয় শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি।

মিনারের এক পাশে একটি উঁচু আসন রয়েছে। ধারণা করা হয় তৎকালীন বিচারকরা এখানে বসে বিচার কাজ পরিচালনা করতেন। মসজিদের কার্নিশ বিভিন্ন কারুকার্যে সজ্জিত। মসিজদের সম্মুখ ভাগে প্রায় ৭৭ বিঘা জমির ওপর রয়েছে বিশাল জলাশয় এবং দৃষ্টিনন্দন ঘাট। যা দর্শানর্থীদের মুগ্ধ করে। দূরদূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক এসে এখানে গোসল করেন।

মসজিদের এক পাশে রান্নার জন্য সিড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সিডের দুই সারিতে ৩০টি চুলা রয়েছে। অনেকেই মান্নত করে এখানে রান্নাবান্না করে লোকজনকে খাওয়ান। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এটি সংস্কার করে।

প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন এ মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে এবং তাদের এটি বিমোহিত করে থাকে। প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এ মসজিদ মুসলমানদের ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। এ মসজিদের অলংকরণ, মনোমুগ্ধ করা ডিজাইন মুসলমানদের উন্নত রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ।

লেখক : পরিচালক, কিশোর কথা আইডিয়াল মাদ্রাসা