ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

৩০ বছরে হত্যার শিকার ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

১৯৯০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই বিগত ৩০ বছরে বিশ্বে ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ হত্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাচার করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এ কথা জানান।

গত দশকে ৬৫টি দেশে বা অঞ্চলে ৪৪ হাজারের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ অবৈধ শিকারীদের হাতে মারা গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কচ্ছপ ধরা বা এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ ও এই সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজিতে প্রকাশ হয়েছে।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণাপত্রের সহ-লেখক জেসি সেনকো বলেন, সংখ্যাটি অনেক বেশি হলেও প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এতে প্রকৃত দৃশ্য ফুটে উঠছে না। কারণ যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা কঠিন। সাধারণত খাবার হিসেবে, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে, প্রত্নবস্তু, সাজসজ্জা বা গহনা হিসেবে বিক্রির জন্য সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকার করা হয়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, কচ্ছপ শিকার ও পাচার একটি বৈশ্বিক অবৈধ বন্যপ্রাণী বাজারের অংশ। প্রতি বছর সেখানে অন্তত ২ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের কচ্ছপ বা কচ্ছপ-পণ্য বেচাকেনা হয়। অবৈধ কচ্ছপ শিকারের মাত্রা বুঝতে গবেষকরা ২০৯টির বেশি বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালের নিবন্ধ, মিডিয়া রিপোর্ট, প্রশ্নাবলী এবং সংরক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদন পরীক্ষা করেছেন। এতে দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে অন্তত ৪৩ হাজার কচ্ছপ পাচার করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটিও ব্যাপকভাবে অবমূল্যায়িত বলে মনে করেন জেসি সেনকো।

সম্প্রতি গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মাদাগাস্কার হচ্ছে সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকারের হটস্পট। সবচেয়ে বেশি কচ্ছপ পাচার হয় ভিয়েতনাম থেকে এবং চীন-জাপান হলো অবৈধ কচ্ছপ পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। এ প্রসঙ্গে জেসি সেনকো আরও বলেন, উচ্চ আয়ের দেশগুলো বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে যতদিন চাইবে, উন্নয়নশীল দেশগুলো ততদিন অবৈধ কচ্ছপ সরবরাহ চালিয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩০ বছরে হত্যার শিকার ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ

আপডেট সময় ১১:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

১৯৯০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই বিগত ৩০ বছরে বিশ্বে ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ হত্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাচার করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এ কথা জানান।

গত দশকে ৬৫টি দেশে বা অঞ্চলে ৪৪ হাজারের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ অবৈধ শিকারীদের হাতে মারা গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কচ্ছপ ধরা বা এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ ও এই সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজিতে প্রকাশ হয়েছে।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণাপত্রের সহ-লেখক জেসি সেনকো বলেন, সংখ্যাটি অনেক বেশি হলেও প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এতে প্রকৃত দৃশ্য ফুটে উঠছে না। কারণ যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা কঠিন। সাধারণত খাবার হিসেবে, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে, প্রত্নবস্তু, সাজসজ্জা বা গহনা হিসেবে বিক্রির জন্য সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকার করা হয়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, কচ্ছপ শিকার ও পাচার একটি বৈশ্বিক অবৈধ বন্যপ্রাণী বাজারের অংশ। প্রতি বছর সেখানে অন্তত ২ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের কচ্ছপ বা কচ্ছপ-পণ্য বেচাকেনা হয়। অবৈধ কচ্ছপ শিকারের মাত্রা বুঝতে গবেষকরা ২০৯টির বেশি বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালের নিবন্ধ, মিডিয়া রিপোর্ট, প্রশ্নাবলী এবং সংরক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদন পরীক্ষা করেছেন। এতে দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে অন্তত ৪৩ হাজার কচ্ছপ পাচার করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটিও ব্যাপকভাবে অবমূল্যায়িত বলে মনে করেন জেসি সেনকো।

সম্প্রতি গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মাদাগাস্কার হচ্ছে সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকারের হটস্পট। সবচেয়ে বেশি কচ্ছপ পাচার হয় ভিয়েতনাম থেকে এবং চীন-জাপান হলো অবৈধ কচ্ছপ পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। এ প্রসঙ্গে জেসি সেনকো আরও বলেন, উচ্চ আয়ের দেশগুলো বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে যতদিন চাইবে, উন্নয়নশীল দেশগুলো ততদিন অবৈধ কচ্ছপ সরবরাহ চালিয়ে যাবে।