আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজের ২৩ দিন পর একটি পুরাতন কবর থেকে মন্টু বেপারী ওরফে মনু বেপারী (৬০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা।
সোমবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরচটাং এলাকার স্থানীয় হাসেম মাদবরের কবর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে গামছা ও বিছানার চাদর প্যাঁচানো ছিল।
নিহত মন্টু বেপারী ওরফে মনু বেপারী চরচটাং গ্রামের মৃত সোনাই বেপারীর ছেলে।
নিখোঁজের ২০ দিন পর পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মনু বেপারীর বোন মিনারা বেগম।
নিহতের ভাতিজা রবিন বেপারী ও পালং মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছর পূর্বে মন্টু বেপারী ওরফে মনু বেপারীর প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে তিনি একই এলাকার মৃত সিরাজ মোল্লার স্ত্রী রুদ্রকর ইউনিয়নের হাসেম খানের মেয়ে খাদিজা বেগমকে বিয়ে করেন। গত ১ বছর যাবত তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ৬ মাস পূর্বে খাদিজা বেগম তাকে ডিভোর্স দেন। তারপর মনু বেপারীর কাছ থেকে নেওয়া ৭ লাখ টাকা দাবি করে স্ত্রীর বিরুদ্ধে শরীয়তপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। গত ২৭ মার্চ মনু বেপারী নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের স্বজন ও স্থানীয়রা বারবার পুলিশকে ফোন করলেও তারা আসেনি। পরে তারা বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বাড়ির পাশের ৩-৪ বছর আগে মারা যাওয়া হাসেম মাদবরের কবরের এক পাশে নতুন মাটি দেখতে পান। সেখানে তারা মাটি খুঁড়ে মনু বেপারীর গামছা ও চাদর মোড়ানে লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
নিহতের মেয়ে মিম আক্তার বলেন, আমার মা মারা যাওয়ার পর একই এলাকার মৃত সিরাজ মোল্লার স্ত্রীকে আমার বাবা গরু-বাছুর জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা দিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ওই নারী আমার বাবাকে ডিভোর্স দেন। আমার বাবা ৭ সাত লাখ টাকার জন্য শরীয়তপুর আদালতে মামলা করেন। সেজন্যই আমার বাবাকে হত্যা করে আরেকজনের কবরের ভেতরে লাশ লুকিয়ে রাখে।
নিহতের বোন মিনারা বেগম বলেন, আমার ভাই সুখের আশায় জায়গা জমি বিক্রি করে বিয়ে করেছিল; কিন্তু তার খারাপ চরিত্রের স্ত্রীর কারণে সে বাঁচতে পারল না । আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সুধাংশু বলেন, আমি বিষয়টি গতকাল থেকে তদন্ত শুরু করেছি। লোকজন লাশ দেখে আমাদের খবর দিলে আমরা তার লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, তদন্ত অব্যাহত আছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















