ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

চীনে মিলল কাঁটায় ঢাকা ডাইনোসর

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ডাইনোসর মানেই বিশাল দেহ আর ভয়ংকর চেহারা—এমন ধারণাই সবার। কিন্তু এবার চীনে পাওয়া গেল এক ভিন্ন রকম ডাইনোসরের জীবাশ্ম। তার শরীরজুড়ে ছিল সজারুর মতো ফাঁপা কাঁটা। এমন বৈশিষ্ট্য আগে কোনো ডাইনোসরের মধ্যে দেখা যায়নি।

চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের শিয়াওউজিয়াজি গ্রামের কাছে এই জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরটির নাম দিয়েছেন হাওলং ডোঙ্গি। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আর্লি ক্রিটেশিয়াস যুগে এটি পৃথিবীতে বাস করত।

এই জীবাশ্মটি একটি অল্পবয়সী ডাইনোসরের। এত ভালোভাবে সংরক্ষিত যে এর কোষ পর্যন্ত দেখা গেছে। গবেষকেরা এক্স-রে স্ক্যান ও অতি পাতলা অংশ কেটে উচ্চক্ষমতার মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করেন। তারা নিশ্চিত হন, কাঁটাগুলো হাড়ের অংশ নয়, বরং চামড়ার অংশ ছিল।

হাওলং ডোঙ্গি ইগুয়ানোডন্টিয়া গোষ্ঠীর সদস্য। এরা ছিল তৃণভোজী ডাইনোসর। তাদের ঠোঁট ছিল চঞ্চুর মতো এবং পেছনের পা ছিল শক্তিশালী। ‘ইগুয়ানোডন্টিয়া’ শব্দের অর্থ ‘ইগুয়ানার দাঁত’, কারণ তাদের দাঁত আধুনিক ইগুয়ানার মতো ছিল। এই গোষ্ঠী প্রথম চিহ্নিত হয় ১৮২২ সালে।

গবেষকদের মতে, সেই সময়ে চীনে ছোট আকারের মাংসাশী ডাইনোসরও ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এই ফাঁপা কাঁটা শিকারিদের ভয় দেখাতে বা দূরে রাখতে কাজে লাগত। অনেকটা আজকের সজারুর কাঁটার মতো। এছাড়া কাঁটাগুলো শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এমনকি আশপাশের নড়াচড়া টের পেতেও ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে এটি যেহেতু অল্পবয়সী ডাইনোসর, বড় হলে কাঁটা থাকত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও জীবাশ্ম মিললে এই রহস্যের সমাধান হতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

চীনে মিলল কাঁটায় ঢাকা ডাইনোসর

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ডাইনোসর মানেই বিশাল দেহ আর ভয়ংকর চেহারা—এমন ধারণাই সবার। কিন্তু এবার চীনে পাওয়া গেল এক ভিন্ন রকম ডাইনোসরের জীবাশ্ম। তার শরীরজুড়ে ছিল সজারুর মতো ফাঁপা কাঁটা। এমন বৈশিষ্ট্য আগে কোনো ডাইনোসরের মধ্যে দেখা যায়নি।

চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের শিয়াওউজিয়াজি গ্রামের কাছে এই জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরটির নাম দিয়েছেন হাওলং ডোঙ্গি। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আর্লি ক্রিটেশিয়াস যুগে এটি পৃথিবীতে বাস করত।

এই জীবাশ্মটি একটি অল্পবয়সী ডাইনোসরের। এত ভালোভাবে সংরক্ষিত যে এর কোষ পর্যন্ত দেখা গেছে। গবেষকেরা এক্স-রে স্ক্যান ও অতি পাতলা অংশ কেটে উচ্চক্ষমতার মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করেন। তারা নিশ্চিত হন, কাঁটাগুলো হাড়ের অংশ নয়, বরং চামড়ার অংশ ছিল।

হাওলং ডোঙ্গি ইগুয়ানোডন্টিয়া গোষ্ঠীর সদস্য। এরা ছিল তৃণভোজী ডাইনোসর। তাদের ঠোঁট ছিল চঞ্চুর মতো এবং পেছনের পা ছিল শক্তিশালী। ‘ইগুয়ানোডন্টিয়া’ শব্দের অর্থ ‘ইগুয়ানার দাঁত’, কারণ তাদের দাঁত আধুনিক ইগুয়ানার মতো ছিল। এই গোষ্ঠী প্রথম চিহ্নিত হয় ১৮২২ সালে।

গবেষকদের মতে, সেই সময়ে চীনে ছোট আকারের মাংসাশী ডাইনোসরও ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এই ফাঁপা কাঁটা শিকারিদের ভয় দেখাতে বা দূরে রাখতে কাজে লাগত। অনেকটা আজকের সজারুর কাঁটার মতো। এছাড়া কাঁটাগুলো শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এমনকি আশপাশের নড়াচড়া টের পেতেও ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে এটি যেহেতু অল্পবয়সী ডাইনোসর, বড় হলে কাঁটা থাকত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও জীবাশ্ম মিললে এই রহস্যের সমাধান হতে পারে।