ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা বা অনিয়মের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী ‘খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে’ সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ ৩ জন তিনদিনের রিমান্ডে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বন্দর অবরোধ বিপজ্জনক পদক্ষেপ: চীন কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে ‘কৃষক কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী

চীনে মিলল কাঁটায় ঢাকা ডাইনোসর

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ডাইনোসর মানেই বিশাল দেহ আর ভয়ংকর চেহারা—এমন ধারণাই সবার। কিন্তু এবার চীনে পাওয়া গেল এক ভিন্ন রকম ডাইনোসরের জীবাশ্ম। তার শরীরজুড়ে ছিল সজারুর মতো ফাঁপা কাঁটা। এমন বৈশিষ্ট্য আগে কোনো ডাইনোসরের মধ্যে দেখা যায়নি।

চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের শিয়াওউজিয়াজি গ্রামের কাছে এই জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরটির নাম দিয়েছেন হাওলং ডোঙ্গি। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আর্লি ক্রিটেশিয়াস যুগে এটি পৃথিবীতে বাস করত।

এই জীবাশ্মটি একটি অল্পবয়সী ডাইনোসরের। এত ভালোভাবে সংরক্ষিত যে এর কোষ পর্যন্ত দেখা গেছে। গবেষকেরা এক্স-রে স্ক্যান ও অতি পাতলা অংশ কেটে উচ্চক্ষমতার মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করেন। তারা নিশ্চিত হন, কাঁটাগুলো হাড়ের অংশ নয়, বরং চামড়ার অংশ ছিল।

হাওলং ডোঙ্গি ইগুয়ানোডন্টিয়া গোষ্ঠীর সদস্য। এরা ছিল তৃণভোজী ডাইনোসর। তাদের ঠোঁট ছিল চঞ্চুর মতো এবং পেছনের পা ছিল শক্তিশালী। ‘ইগুয়ানোডন্টিয়া’ শব্দের অর্থ ‘ইগুয়ানার দাঁত’, কারণ তাদের দাঁত আধুনিক ইগুয়ানার মতো ছিল। এই গোষ্ঠী প্রথম চিহ্নিত হয় ১৮২২ সালে।

গবেষকদের মতে, সেই সময়ে চীনে ছোট আকারের মাংসাশী ডাইনোসরও ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এই ফাঁপা কাঁটা শিকারিদের ভয় দেখাতে বা দূরে রাখতে কাজে লাগত। অনেকটা আজকের সজারুর কাঁটার মতো। এছাড়া কাঁটাগুলো শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এমনকি আশপাশের নড়াচড়া টের পেতেও ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে এটি যেহেতু অল্পবয়সী ডাইনোসর, বড় হলে কাঁটা থাকত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও জীবাশ্ম মিললে এই রহস্যের সমাধান হতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী

চীনে মিলল কাঁটায় ঢাকা ডাইনোসর

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ডাইনোসর মানেই বিশাল দেহ আর ভয়ংকর চেহারা—এমন ধারণাই সবার। কিন্তু এবার চীনে পাওয়া গেল এক ভিন্ন রকম ডাইনোসরের জীবাশ্ম। তার শরীরজুড়ে ছিল সজারুর মতো ফাঁপা কাঁটা। এমন বৈশিষ্ট্য আগে কোনো ডাইনোসরের মধ্যে দেখা যায়নি।

চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের শিয়াওউজিয়াজি গ্রামের কাছে এই জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরটির নাম দিয়েছেন হাওলং ডোঙ্গি। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আর্লি ক্রিটেশিয়াস যুগে এটি পৃথিবীতে বাস করত।

এই জীবাশ্মটি একটি অল্পবয়সী ডাইনোসরের। এত ভালোভাবে সংরক্ষিত যে এর কোষ পর্যন্ত দেখা গেছে। গবেষকেরা এক্স-রে স্ক্যান ও অতি পাতলা অংশ কেটে উচ্চক্ষমতার মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করেন। তারা নিশ্চিত হন, কাঁটাগুলো হাড়ের অংশ নয়, বরং চামড়ার অংশ ছিল।

হাওলং ডোঙ্গি ইগুয়ানোডন্টিয়া গোষ্ঠীর সদস্য। এরা ছিল তৃণভোজী ডাইনোসর। তাদের ঠোঁট ছিল চঞ্চুর মতো এবং পেছনের পা ছিল শক্তিশালী। ‘ইগুয়ানোডন্টিয়া’ শব্দের অর্থ ‘ইগুয়ানার দাঁত’, কারণ তাদের দাঁত আধুনিক ইগুয়ানার মতো ছিল। এই গোষ্ঠী প্রথম চিহ্নিত হয় ১৮২২ সালে।

গবেষকদের মতে, সেই সময়ে চীনে ছোট আকারের মাংসাশী ডাইনোসরও ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এই ফাঁপা কাঁটা শিকারিদের ভয় দেখাতে বা দূরে রাখতে কাজে লাগত। অনেকটা আজকের সজারুর কাঁটার মতো। এছাড়া কাঁটাগুলো শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এমনকি আশপাশের নড়াচড়া টের পেতেও ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে এটি যেহেতু অল্পবয়সী ডাইনোসর, বড় হলে কাঁটা থাকত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও জীবাশ্ম মিললে এই রহস্যের সমাধান হতে পারে।