ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মারা গেছেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে নিঃসঙ্গ’ মানুষ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:   

ব্রাজিলের একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি মারা গেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ বলা হত। কারণ তিনি একা একা কাটিয়েছেন জীবনের ২৬টি বছর।

বলিভিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত তানারু আদিবাসী এলাকার রন্দোনিয়ায় বসবাস ছিল তার। ১৯৯৫ সালে তার পরিবারের সাতজন সদস্যের মধ্যে ছয়জনকেই হত্যা করা হয়। এরপর পুরোপুরি একাকি হয়ে যান তিনি। এর আগে ১৯৭০ সালে তার সম্প্রদায়ের অন্য সদস্যদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ব্রাজিলের সংবিধান অনুযায়ী আদিবাসীরা তাদের পূর্বপুরুষের অঞ্চলের মালিক হয়ে থাকেন। ফলে কেউ যদি এসব অঞ্চল দখল করতে চায় তাহলে সেসব আদিবাসীদের হত্যা করা হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের এ ব্যক্তির নাম কি ছিল সেটিও জানা যায়নি।

এই ব্যক্তিকে ম্যান অব হোল বা গর্তমানবও বলা হতো। কারণ তিনি গর্ত খুঁড়তেন। বন্য প্রাণী ধরার জন্য বা নিজে লুকিয়ে থাকার জন্য এসব গর্ত খুঁড়তেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ওই ব্যক্তির মরদেহ তার কুঁড়ে ঘরের পাশে পাওয়া যায়। আশপাশে অপ্রীতিকর কোনো কিছু দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই মারা গেছেন তিনি এবং তার বয়স ৬০ এর কাছাকাছি ছিল। তবুও তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়না তদন্ত করা হবে।

এদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ এ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৯৯৬ সাল থেকে তার ওপর নজর রাখত ব্রাজিলের আদিবাসী সংস্থা।

২০১৮ সালে ব্রাজিলের আদিবাসী সংস্থা তার একটি ছবি তুলতে সমর্থ হয়। তখন তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয় সংস্থাটির কর্মীদের। এরপর আর তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে তার তৈরিকৃত কুঁড়ে ঘর ও বিভিন্ন গর্তের সন্ধান পান তারা।

ব্রাজিলে এখনো ২৪০টি আদিবাসী সম্প্রদায় আছে। কিন্তু মাইনার, কৃষকসহ অন্যন্যরা তাদের অঞ্চল দখল করার চেষ্টা চালায়। এ কারণে এসব সম্প্রদায় সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মারা গেছেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে নিঃসঙ্গ’ মানুষ

আপডেট সময় ১০:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:   

ব্রাজিলের একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি মারা গেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ বলা হত। কারণ তিনি একা একা কাটিয়েছেন জীবনের ২৬টি বছর।

বলিভিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত তানারু আদিবাসী এলাকার রন্দোনিয়ায় বসবাস ছিল তার। ১৯৯৫ সালে তার পরিবারের সাতজন সদস্যের মধ্যে ছয়জনকেই হত্যা করা হয়। এরপর পুরোপুরি একাকি হয়ে যান তিনি। এর আগে ১৯৭০ সালে তার সম্প্রদায়ের অন্য সদস্যদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ব্রাজিলের সংবিধান অনুযায়ী আদিবাসীরা তাদের পূর্বপুরুষের অঞ্চলের মালিক হয়ে থাকেন। ফলে কেউ যদি এসব অঞ্চল দখল করতে চায় তাহলে সেসব আদিবাসীদের হত্যা করা হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের এ ব্যক্তির নাম কি ছিল সেটিও জানা যায়নি।

এই ব্যক্তিকে ম্যান অব হোল বা গর্তমানবও বলা হতো। কারণ তিনি গর্ত খুঁড়তেন। বন্য প্রাণী ধরার জন্য বা নিজে লুকিয়ে থাকার জন্য এসব গর্ত খুঁড়তেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ওই ব্যক্তির মরদেহ তার কুঁড়ে ঘরের পাশে পাওয়া যায়। আশপাশে অপ্রীতিকর কোনো কিছু দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই মারা গেছেন তিনি এবং তার বয়স ৬০ এর কাছাকাছি ছিল। তবুও তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়না তদন্ত করা হবে।

এদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ এ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৯৯৬ সাল থেকে তার ওপর নজর রাখত ব্রাজিলের আদিবাসী সংস্থা।

২০১৮ সালে ব্রাজিলের আদিবাসী সংস্থা তার একটি ছবি তুলতে সমর্থ হয়। তখন তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয় সংস্থাটির কর্মীদের। এরপর আর তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে তার তৈরিকৃত কুঁড়ে ঘর ও বিভিন্ন গর্তের সন্ধান পান তারা।

ব্রাজিলে এখনো ২৪০টি আদিবাসী সম্প্রদায় আছে। কিন্তু মাইনার, কৃষকসহ অন্যন্যরা তাদের অঞ্চল দখল করার চেষ্টা চালায়। এ কারণে এসব সম্প্রদায় সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।