ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অনলাইন ভ্যাট রিটার্নে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা : এনবিআর চেয়ারম্যান সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল: তাসনিম জারা ইসরায়েলের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্ব চুক্তি স্থগিত চায় তিন দেশ ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার, সংসদে রুমিন ফারহানা মার্কিন অবরোধ ভেঙে দক্ষিণের বন্দরে ইরানি জাহাজ দেড় মাসের শিশুকে নিয়েই কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সিন্ডিকেটের কাছে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী এপ্রিলের ২০ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২২২ কোটি ডলার কলেজছাত্র ইকবাল হত্যাকাণ্ডে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, দুই নারীর কারাদণ্ড

মারা গেছেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে নিঃসঙ্গ’ মানুষ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:   

ব্রাজিলের একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি মারা গেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ বলা হত। কারণ তিনি একা একা কাটিয়েছেন জীবনের ২৬টি বছর।

বলিভিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত তানারু আদিবাসী এলাকার রন্দোনিয়ায় বসবাস ছিল তার। ১৯৯৫ সালে তার পরিবারের সাতজন সদস্যের মধ্যে ছয়জনকেই হত্যা করা হয়। এরপর পুরোপুরি একাকি হয়ে যান তিনি। এর আগে ১৯৭০ সালে তার সম্প্রদায়ের অন্য সদস্যদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ব্রাজিলের সংবিধান অনুযায়ী আদিবাসীরা তাদের পূর্বপুরুষের অঞ্চলের মালিক হয়ে থাকেন। ফলে কেউ যদি এসব অঞ্চল দখল করতে চায় তাহলে সেসব আদিবাসীদের হত্যা করা হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের এ ব্যক্তির নাম কি ছিল সেটিও জানা যায়নি।

এই ব্যক্তিকে ম্যান অব হোল বা গর্তমানবও বলা হতো। কারণ তিনি গর্ত খুঁড়তেন। বন্য প্রাণী ধরার জন্য বা নিজে লুকিয়ে থাকার জন্য এসব গর্ত খুঁড়তেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ওই ব্যক্তির মরদেহ তার কুঁড়ে ঘরের পাশে পাওয়া যায়। আশপাশে অপ্রীতিকর কোনো কিছু দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই মারা গেছেন তিনি এবং তার বয়স ৬০ এর কাছাকাছি ছিল। তবুও তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়না তদন্ত করা হবে।

এদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ এ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৯৯৬ সাল থেকে তার ওপর নজর রাখত ব্রাজিলের আদিবাসী সংস্থা।

২০১৮ সালে ব্রাজিলের আদিবাসী সংস্থা তার একটি ছবি তুলতে সমর্থ হয়। তখন তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয় সংস্থাটির কর্মীদের। এরপর আর তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে তার তৈরিকৃত কুঁড়ে ঘর ও বিভিন্ন গর্তের সন্ধান পান তারা।

ব্রাজিলে এখনো ২৪০টি আদিবাসী সম্প্রদায় আছে। কিন্তু মাইনার, কৃষকসহ অন্যন্যরা তাদের অঞ্চল দখল করার চেষ্টা চালায়। এ কারণে এসব সম্প্রদায় সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

অনলাইন ভ্যাট রিটার্নে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা : এনবিআর চেয়ারম্যান

মারা গেছেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে নিঃসঙ্গ’ মানুষ

আপডেট সময় ১০:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:   

ব্রাজিলের একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি মারা গেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ বলা হত। কারণ তিনি একা একা কাটিয়েছেন জীবনের ২৬টি বছর।

বলিভিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত তানারু আদিবাসী এলাকার রন্দোনিয়ায় বসবাস ছিল তার। ১৯৯৫ সালে তার পরিবারের সাতজন সদস্যের মধ্যে ছয়জনকেই হত্যা করা হয়। এরপর পুরোপুরি একাকি হয়ে যান তিনি। এর আগে ১৯৭০ সালে তার সম্প্রদায়ের অন্য সদস্যদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ব্রাজিলের সংবিধান অনুযায়ী আদিবাসীরা তাদের পূর্বপুরুষের অঞ্চলের মালিক হয়ে থাকেন। ফলে কেউ যদি এসব অঞ্চল দখল করতে চায় তাহলে সেসব আদিবাসীদের হত্যা করা হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের এ ব্যক্তির নাম কি ছিল সেটিও জানা যায়নি।

এই ব্যক্তিকে ম্যান অব হোল বা গর্তমানবও বলা হতো। কারণ তিনি গর্ত খুঁড়তেন। বন্য প্রাণী ধরার জন্য বা নিজে লুকিয়ে থাকার জন্য এসব গর্ত খুঁড়তেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ওই ব্যক্তির মরদেহ তার কুঁড়ে ঘরের পাশে পাওয়া যায়। আশপাশে অপ্রীতিকর কোনো কিছু দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই মারা গেছেন তিনি এবং তার বয়স ৬০ এর কাছাকাছি ছিল। তবুও তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়না তদন্ত করা হবে।

এদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ এ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৯৯৬ সাল থেকে তার ওপর নজর রাখত ব্রাজিলের আদিবাসী সংস্থা।

২০১৮ সালে ব্রাজিলের আদিবাসী সংস্থা তার একটি ছবি তুলতে সমর্থ হয়। তখন তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয় সংস্থাটির কর্মীদের। এরপর আর তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে তার তৈরিকৃত কুঁড়ে ঘর ও বিভিন্ন গর্তের সন্ধান পান তারা।

ব্রাজিলে এখনো ২৪০টি আদিবাসী সম্প্রদায় আছে। কিন্তু মাইনার, কৃষকসহ অন্যন্যরা তাদের অঞ্চল দখল করার চেষ্টা চালায়। এ কারণে এসব সম্প্রদায় সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।