ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট দোষারোপের সময় নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার-রাতযাপন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করবে এবি পার্টি বিরোধী দলের ওয়াকআউট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

ছেলের অত্যাচার সইতে না পেরে থানায় অভিযোগ মায়ের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদকাসক্ত ছেলের অসহনীয় অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এক মা।

নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার ধুলজুড়ি গ্রামের পিয়ার আলীর স্ত্রী চায়না বেগম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী চায়না বেগম। এছাড়াও তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বুধবার দুপুরে উপজেলার ধুলজুড়ি গ্রামে ভুক্তভোগী চায়না বেগমের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছেলে রাজু মোল্লা (১৮) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। অভিযুক্ত রাজু মোল্লা নেশার টাকার জন্য তার মা, বৃদ্ধ বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার চালিয়ে আসছিলেন। বুধবার দুপুরে নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মা-বাবাকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুসি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকিও দেন। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

ভুক্তভোগী চায়না বেগমের বাবা অলিয়ার সরদার (৭২) বলেন, রাজু মোল্লা নেশায় আসক্ত হয়ে টাকার জন্য আমার মেয়ে ও জামাইকে মারধর করে। বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী চায়না বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ছেলে আমার গর্ভজাত হলেও তার অত্যাচারে আজ আমরা অতিষ্ঠ। সে অত্যন্ত চরিত্রহীন ও লোভী হয়ে পড়েছে। নেশার ঘোরে সে যেকোনো সময় আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। পরিবারের মান-সম্মান ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় আমি তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, আমি আজই থানায় যোগদান করেছি। ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম রায়হানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর

ছেলের অত্যাচার সইতে না পেরে থানায় অভিযোগ মায়ের

আপডেট সময় ১১:১৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদকাসক্ত ছেলের অসহনীয় অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এক মা।

নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার ধুলজুড়ি গ্রামের পিয়ার আলীর স্ত্রী চায়না বেগম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী চায়না বেগম। এছাড়াও তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বুধবার দুপুরে উপজেলার ধুলজুড়ি গ্রামে ভুক্তভোগী চায়না বেগমের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছেলে রাজু মোল্লা (১৮) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। অভিযুক্ত রাজু মোল্লা নেশার টাকার জন্য তার মা, বৃদ্ধ বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার চালিয়ে আসছিলেন। বুধবার দুপুরে নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মা-বাবাকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুসি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকিও দেন। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

ভুক্তভোগী চায়না বেগমের বাবা অলিয়ার সরদার (৭২) বলেন, রাজু মোল্লা নেশায় আসক্ত হয়ে টাকার জন্য আমার মেয়ে ও জামাইকে মারধর করে। বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী চায়না বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ছেলে আমার গর্ভজাত হলেও তার অত্যাচারে আজ আমরা অতিষ্ঠ। সে অত্যন্ত চরিত্রহীন ও লোভী হয়ে পড়েছে। নেশার ঘোরে সে যেকোনো সময় আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। পরিবারের মান-সম্মান ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় আমি তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, আমি আজই থানায় যোগদান করেছি। ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম রায়হানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।