ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

কুমিল্লা পলিটেকনিকে ‘গুপ্ত’ বলায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৩২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ‘গুপ্ত’ বলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনে দেয়াল লিখন নিয়ে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় রাতে ‘গুপ্ত’ বলাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ছাত্রশিবিরের ২০ জন এবং ছাত্রদলের ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

এ সময় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- মেকানিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. জাফর ইকবাল, সাংবাদিক খালিদ, আবু রজিন, শুভ, মারুফ, তুহিন প্রমুখ।

আহত আবু রজিন বলেন, অধ্যক্ষ স্যার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উস্কে দিয়েছে। ওরা আমাকে অধ্যক্ষের রুম থেকে মারতে মারতে বাইরে নিয়ে আসে। আমার অন্য সহকর্মীদের ওপর হামলা করে। একজন স্যারের ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ছাত্রদলকে ইন্ধন দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এখানে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আমার কক্ষে হামলা হয়েছে এবং আমরা এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি। জাফর স্যারের ওপর হামলা হয়েছে কিনা আমি জানি না। আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি নিরাপত্তার জন্য।

ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা মহানগর সেক্রেটারি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত বলেন, ছাত্রদলের হামলায় ছাত্রশিবির এবং সাধারণ ছাত্র মিলিয়ে ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে তাদের দেখতে গিয়েছি। গুরুতর আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলরা সেখানে তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমন হোসেন বলেন, দেয়াল লিখন নিয়ে দিনে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। রাতে ভিন্ন একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এখানে তাদের কারা গুপ্ত বলেছে আমরা জানি না। হামলায় আমাদের ১২ জন ছাত্রদল কর্মী আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জুবায়ের আলম জিলানী বলেন, গুপ্ত বলাকে কেন্দ্র করে পলিটেকনিক্যাল কলেজে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা সেখানের নেতাদের বলেছি।

রাত ১০টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের এএসপি মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, পলিটেকনিকে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার কারণগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে রয়েছি। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা পলিটেকনিকে ‘গুপ্ত’ বলায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৩২

আপডেট সময় ১০:৪৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ‘গুপ্ত’ বলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনে দেয়াল লিখন নিয়ে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় রাতে ‘গুপ্ত’ বলাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ছাত্রশিবিরের ২০ জন এবং ছাত্রদলের ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

এ সময় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- মেকানিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. জাফর ইকবাল, সাংবাদিক খালিদ, আবু রজিন, শুভ, মারুফ, তুহিন প্রমুখ।

আহত আবু রজিন বলেন, অধ্যক্ষ স্যার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উস্কে দিয়েছে। ওরা আমাকে অধ্যক্ষের রুম থেকে মারতে মারতে বাইরে নিয়ে আসে। আমার অন্য সহকর্মীদের ওপর হামলা করে। একজন স্যারের ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ছাত্রদলকে ইন্ধন দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এখানে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আমার কক্ষে হামলা হয়েছে এবং আমরা এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি। জাফর স্যারের ওপর হামলা হয়েছে কিনা আমি জানি না। আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি নিরাপত্তার জন্য।

ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা মহানগর সেক্রেটারি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত বলেন, ছাত্রদলের হামলায় ছাত্রশিবির এবং সাধারণ ছাত্র মিলিয়ে ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে তাদের দেখতে গিয়েছি। গুরুতর আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলরা সেখানে তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমন হোসেন বলেন, দেয়াল লিখন নিয়ে দিনে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। রাতে ভিন্ন একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এখানে তাদের কারা গুপ্ত বলেছে আমরা জানি না। হামলায় আমাদের ১২ জন ছাত্রদল কর্মী আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জুবায়ের আলম জিলানী বলেন, গুপ্ত বলাকে কেন্দ্র করে পলিটেকনিক্যাল কলেজে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা সেখানের নেতাদের বলেছি।

রাত ১০টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের এএসপি মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, পলিটেকনিকে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার কারণগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে রয়েছি। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।