ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ছিনতাইয়ের অভিযোগ করলে আবরারের অবস্থা হবে, হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ২০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে মোতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের হত্যাকাণ্ডের শিকার আবরার ফাহাদের মতো অবস্থা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় ভুক্তভোগীকে।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোতিহার হলে ছাত্রলীগের ওই নেতার রুমে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ভাস্কর সাহা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও মোতিহার হলের ১৩২ নম্বর রুমে বাস করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সামছুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। মোতিহার হলের ১৫৯ নম্বর রুমে থাকেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে সামছুল ইসলাম জানান, তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি মোবাইল সার্ভিসিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন ও পরিবার চালান। গত সোমবার (১৫ আগস্ট) মোতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা তাকে ফোন দিয়ে দেখা করার কথা বলেন। তিনি গেলে ভাস্কর চাঁদা দাবি করের। তারপর টাকার জন্য প্রতিনিয়ত ফোন দিতে থাকেন মানসিকভাবে টর্চার করেন। অর্থ দিতে অক্ষম হওয়ায় শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ভাস্কর সাহা নিজ রুমে ডেকে নিয়ে আমার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে আনুমানিক ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেন ও আরও ৬ হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের জানানোর কথা বললে তাকে রড এবং স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক মারা হয়। এছাড়া কাউকে জানালে আবরারের যে অবস্থা হয়েছে তেমন হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। রাত ১১টার মধ্যে আরও ৬ হাজার টাকা না দিলে হল থেকে বের করার হুমকি পান তিনি। অভিযোগের শেষে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেন।

মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মোতিহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা বলেন, তার সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি জানি, সে আমার হলে মোবাইল সার্ভিসিং করে। মোবাইল ঠিক করার জন্য আমার দুই ছোট ভাই তাকে ফোন দেওয়ার কথা বলে। পরে সে বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, বিষয়টা আমরা দেখছি। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। ভাস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ছিনতাইয়ের অভিযোগ করলে আবরারের অবস্থা হবে, হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

আপডেট সময় ১২:০০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ২০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে মোতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের হত্যাকাণ্ডের শিকার আবরার ফাহাদের মতো অবস্থা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় ভুক্তভোগীকে।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোতিহার হলে ছাত্রলীগের ওই নেতার রুমে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ভাস্কর সাহা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও মোতিহার হলের ১৩২ নম্বর রুমে বাস করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সামছুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। মোতিহার হলের ১৫৯ নম্বর রুমে থাকেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে সামছুল ইসলাম জানান, তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি মোবাইল সার্ভিসিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন ও পরিবার চালান। গত সোমবার (১৫ আগস্ট) মোতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা তাকে ফোন দিয়ে দেখা করার কথা বলেন। তিনি গেলে ভাস্কর চাঁদা দাবি করের। তারপর টাকার জন্য প্রতিনিয়ত ফোন দিতে থাকেন মানসিকভাবে টর্চার করেন। অর্থ দিতে অক্ষম হওয়ায় শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ভাস্কর সাহা নিজ রুমে ডেকে নিয়ে আমার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে আনুমানিক ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেন ও আরও ৬ হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের জানানোর কথা বললে তাকে রড এবং স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক মারা হয়। এছাড়া কাউকে জানালে আবরারের যে অবস্থা হয়েছে তেমন হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। রাত ১১টার মধ্যে আরও ৬ হাজার টাকা না দিলে হল থেকে বের করার হুমকি পান তিনি। অভিযোগের শেষে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেন।

মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মোতিহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা বলেন, তার সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি জানি, সে আমার হলে মোবাইল সার্ভিসিং করে। মোবাইল ঠিক করার জন্য আমার দুই ছোট ভাই তাকে ফোন দেওয়ার কথা বলে। পরে সে বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, বিষয়টা আমরা দেখছি। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। ভাস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।