ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

মডেল বানানোর প্রলোভনে নারীদের আটকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টিকটক ও শর্টফিল্মের মডেল বানানোর নামে নারীদের ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করতো একটি চক্র। মুক্তিপণ আদায়ের পর এসব নারীর বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখতো। যারা মুক্তিপণ দিতে পারতো না তাদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা। চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী।

মঙ্গলবার রাতে নুরিতা ওরফে সুরাইয়া ওরফে প্রিয়া নামের ওই তরুণীকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবীর। এ সময় থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, দেখতে সুন্দর, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জব করে এবং যাদের অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা আছে- এমন মেয়েদের টার্গেট করে ফাঁদ পাতা হয়। এরপর চক্রের প্রধান নুরিতা ফেসবুকে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। টিকটক ও শর্টফিল্মের অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনে বিভিন্ন জায়গায়। এরপর সেখান থেকে কৌশলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ভাড়া করা ফ্লাটে। হাত-পা বেঁধে করা হয় জিম্মি। পরে পরিবারের কাছে ফোন করে দাবি করা হয় মুক্তিপণ। মুক্তিপণ না পেলে জিম্মি করা নারীদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা।

গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় চক্রটি এক তরুণীকে মডেল বানানোর নামে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার ভাড়া ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর বিবস্ত্র করে তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। তার পরিবার ৮ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরদিন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পের নির্জন স্থানে ফেলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার বিস্তারিত শুনে তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় নুরিতাকে। অভিযানের সময় ফ্ল্যাট থেকে অপর এক তরুণীকে জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকেও একইভাবে ওখানে এনে জিম্মি করা হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে নুরিতার অন্যতম সহযোগী মারুফ আহমেদ সৌরভ ওরফে ওয়াসিম (৩০)। এ ঘটনায় ভিকটিম নুরিতা ও মারুফ আহমেদসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন পূর্বে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল নুরিতা। কিন্তু জামিনে বের হয়ে সে একই কাজ শুরু করে। নুরিতাসহ তার সহযোগীরা বেশিদিন এক জায়গায় অবস্থান করে না। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ১/২ মাসের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে অপকর্ম করে অন্যত্র চলে যায়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, নুরিতার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। পিতার নাম আলমগীর ফকির। মডেল হওয়ার আশায় সেও একদিন ঢাকায় পাড়ি জমায়। প্রায় ৫ বছর পূর্বে নুরিতার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নুরিতা আশুলিয়া থানায় বর্তমান পার্টনার মারুফ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

সেই মামলায় মারুফ জামিনে আসার পর নুরিতা স্বেচ্ছায় মারুফের সঙ্গে যোগ দিয়ে এভাবে নারীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের পথ বেছে নেয়। একজন নারী হওয়ায় সহজেই অন্য নারীদের বশে আনতে পারতো নুরিতা। এ কারণে এক সময় দলের প্রধান হয়ে উঠে।

ওসি আরও জানান, চক্রটিতে কারা কারা জড়িত, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মডেল বানানোর প্রলোভনে নারীদের আটকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড

আপডেট সময় ১০:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টিকটক ও শর্টফিল্মের মডেল বানানোর নামে নারীদের ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করতো একটি চক্র। মুক্তিপণ আদায়ের পর এসব নারীর বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখতো। যারা মুক্তিপণ দিতে পারতো না তাদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা। চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী।

মঙ্গলবার রাতে নুরিতা ওরফে সুরাইয়া ওরফে প্রিয়া নামের ওই তরুণীকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবীর। এ সময় থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, দেখতে সুন্দর, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জব করে এবং যাদের অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা আছে- এমন মেয়েদের টার্গেট করে ফাঁদ পাতা হয়। এরপর চক্রের প্রধান নুরিতা ফেসবুকে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। টিকটক ও শর্টফিল্মের অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনে বিভিন্ন জায়গায়। এরপর সেখান থেকে কৌশলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ভাড়া করা ফ্লাটে। হাত-পা বেঁধে করা হয় জিম্মি। পরে পরিবারের কাছে ফোন করে দাবি করা হয় মুক্তিপণ। মুক্তিপণ না পেলে জিম্মি করা নারীদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা।

গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় চক্রটি এক তরুণীকে মডেল বানানোর নামে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার ভাড়া ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর বিবস্ত্র করে তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। তার পরিবার ৮ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরদিন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পের নির্জন স্থানে ফেলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার বিস্তারিত শুনে তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় নুরিতাকে। অভিযানের সময় ফ্ল্যাট থেকে অপর এক তরুণীকে জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকেও একইভাবে ওখানে এনে জিম্মি করা হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে নুরিতার অন্যতম সহযোগী মারুফ আহমেদ সৌরভ ওরফে ওয়াসিম (৩০)। এ ঘটনায় ভিকটিম নুরিতা ও মারুফ আহমেদসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন পূর্বে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল নুরিতা। কিন্তু জামিনে বের হয়ে সে একই কাজ শুরু করে। নুরিতাসহ তার সহযোগীরা বেশিদিন এক জায়গায় অবস্থান করে না। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ১/২ মাসের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে অপকর্ম করে অন্যত্র চলে যায়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, নুরিতার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। পিতার নাম আলমগীর ফকির। মডেল হওয়ার আশায় সেও একদিন ঢাকায় পাড়ি জমায়। প্রায় ৫ বছর পূর্বে নুরিতার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নুরিতা আশুলিয়া থানায় বর্তমান পার্টনার মারুফ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

সেই মামলায় মারুফ জামিনে আসার পর নুরিতা স্বেচ্ছায় মারুফের সঙ্গে যোগ দিয়ে এভাবে নারীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের পথ বেছে নেয়। একজন নারী হওয়ায় সহজেই অন্য নারীদের বশে আনতে পারতো নুরিতা। এ কারণে এক সময় দলের প্রধান হয়ে উঠে।

ওসি আরও জানান, চক্রটিতে কারা কারা জড়িত, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।