ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মডেল বানানোর প্রলোভনে নারীদের আটকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টিকটক ও শর্টফিল্মের মডেল বানানোর নামে নারীদের ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করতো একটি চক্র। মুক্তিপণ আদায়ের পর এসব নারীর বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখতো। যারা মুক্তিপণ দিতে পারতো না তাদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা। চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী।

মঙ্গলবার রাতে নুরিতা ওরফে সুরাইয়া ওরফে প্রিয়া নামের ওই তরুণীকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবীর। এ সময় থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, দেখতে সুন্দর, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জব করে এবং যাদের অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা আছে- এমন মেয়েদের টার্গেট করে ফাঁদ পাতা হয়। এরপর চক্রের প্রধান নুরিতা ফেসবুকে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। টিকটক ও শর্টফিল্মের অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনে বিভিন্ন জায়গায়। এরপর সেখান থেকে কৌশলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ভাড়া করা ফ্লাটে। হাত-পা বেঁধে করা হয় জিম্মি। পরে পরিবারের কাছে ফোন করে দাবি করা হয় মুক্তিপণ। মুক্তিপণ না পেলে জিম্মি করা নারীদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা।

গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় চক্রটি এক তরুণীকে মডেল বানানোর নামে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার ভাড়া ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর বিবস্ত্র করে তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। তার পরিবার ৮ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরদিন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পের নির্জন স্থানে ফেলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার বিস্তারিত শুনে তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় নুরিতাকে। অভিযানের সময় ফ্ল্যাট থেকে অপর এক তরুণীকে জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকেও একইভাবে ওখানে এনে জিম্মি করা হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে নুরিতার অন্যতম সহযোগী মারুফ আহমেদ সৌরভ ওরফে ওয়াসিম (৩০)। এ ঘটনায় ভিকটিম নুরিতা ও মারুফ আহমেদসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন পূর্বে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল নুরিতা। কিন্তু জামিনে বের হয়ে সে একই কাজ শুরু করে। নুরিতাসহ তার সহযোগীরা বেশিদিন এক জায়গায় অবস্থান করে না। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ১/২ মাসের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে অপকর্ম করে অন্যত্র চলে যায়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, নুরিতার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। পিতার নাম আলমগীর ফকির। মডেল হওয়ার আশায় সেও একদিন ঢাকায় পাড়ি জমায়। প্রায় ৫ বছর পূর্বে নুরিতার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নুরিতা আশুলিয়া থানায় বর্তমান পার্টনার মারুফ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

সেই মামলায় মারুফ জামিনে আসার পর নুরিতা স্বেচ্ছায় মারুফের সঙ্গে যোগ দিয়ে এভাবে নারীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের পথ বেছে নেয়। একজন নারী হওয়ায় সহজেই অন্য নারীদের বশে আনতে পারতো নুরিতা। এ কারণে এক সময় দলের প্রধান হয়ে উঠে।

ওসি আরও জানান, চক্রটিতে কারা কারা জড়িত, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মডেল বানানোর প্রলোভনে নারীদের আটকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড

আপডেট সময় ১০:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টিকটক ও শর্টফিল্মের মডেল বানানোর নামে নারীদের ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করতো একটি চক্র। মুক্তিপণ আদায়ের পর এসব নারীর বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখতো। যারা মুক্তিপণ দিতে পারতো না তাদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা। চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী।

মঙ্গলবার রাতে নুরিতা ওরফে সুরাইয়া ওরফে প্রিয়া নামের ওই তরুণীকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবীর। এ সময় থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, দেখতে সুন্দর, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জব করে এবং যাদের অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা আছে- এমন মেয়েদের টার্গেট করে ফাঁদ পাতা হয়। এরপর চক্রের প্রধান নুরিতা ফেসবুকে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। টিকটক ও শর্টফিল্মের অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনে বিভিন্ন জায়গায়। এরপর সেখান থেকে কৌশলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ভাড়া করা ফ্লাটে। হাত-পা বেঁধে করা হয় জিম্মি। পরে পরিবারের কাছে ফোন করে দাবি করা হয় মুক্তিপণ। মুক্তিপণ না পেলে জিম্মি করা নারীদের দিয়ে জোর করে করানো হতো দেহব্যবসা।

গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় চক্রটি এক তরুণীকে মডেল বানানোর নামে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার ভাড়া ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর বিবস্ত্র করে তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। তার পরিবার ৮ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরদিন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পের নির্জন স্থানে ফেলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার বিস্তারিত শুনে তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় নুরিতাকে। অভিযানের সময় ফ্ল্যাট থেকে অপর এক তরুণীকে জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকেও একইভাবে ওখানে এনে জিম্মি করা হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে নুরিতার অন্যতম সহযোগী মারুফ আহমেদ সৌরভ ওরফে ওয়াসিম (৩০)। এ ঘটনায় ভিকটিম নুরিতা ও মারুফ আহমেদসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন পূর্বে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল নুরিতা। কিন্তু জামিনে বের হয়ে সে একই কাজ শুরু করে। নুরিতাসহ তার সহযোগীরা বেশিদিন এক জায়গায় অবস্থান করে না। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ১/২ মাসের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে অপকর্ম করে অন্যত্র চলে যায়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, নুরিতার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। পিতার নাম আলমগীর ফকির। মডেল হওয়ার আশায় সেও একদিন ঢাকায় পাড়ি জমায়। প্রায় ৫ বছর পূর্বে নুরিতার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নুরিতা আশুলিয়া থানায় বর্তমান পার্টনার মারুফ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

সেই মামলায় মারুফ জামিনে আসার পর নুরিতা স্বেচ্ছায় মারুফের সঙ্গে যোগ দিয়ে এভাবে নারীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের পথ বেছে নেয়। একজন নারী হওয়ায় সহজেই অন্য নারীদের বশে আনতে পারতো নুরিতা। এ কারণে এক সময় দলের প্রধান হয়ে উঠে।

ওসি আরও জানান, চক্রটিতে কারা কারা জড়িত, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।