ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে রক্ষা করেছেন: মির্জা ফখরুল শ্রমিকের রক্তই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখবে: দুলু সামাজিক দলাদলির জেরে মসজিদের দেওয়াল ভেঙে তিনজনকে কুপিয়ে জখম পর্যায়ক্রমে সব কল-কারখানা চালু করা হবে: তারেক রহমান দেশে এখনো ন্যূনতম মজুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি : রিজভী তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে আনতেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’: আমিনুল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সিংহভাগই শ্রমজীবী : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০ এনসিপির সঙ্গে আলোচনা না করেই জামায়াত সাদিক কায়েমকে মেয়রপ্রার্থী করল?:রাশেদ খান হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

শামিকে ‘পাকিস্তানি চর’ বলে ভারতীয় সমর্থকদের গালাগাল

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

আইসিসি আয়োজিত কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতকে হারানোর গেরো খুলেছে পাকিস্তান। কাল ভারতের বিপক্ষে ১৩তম বিশ্বকাপ ম্যাচে শাহিন আফ্রিদির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার পর নির্ভার ব্যাটিংয়ে মোহাম্মদ শামি-বুমরাহদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বাবর-রিজওয়ান।

কিন্তু চিরশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটের এমন হতাশাজনক হার মানতে পারছেন না ভারতীয় সমর্থকরা। বাবর-রিজওয়ানদের এমন জয়ে তাই মুণ্ডুপাত চলছে পুরো ভারত দলের। ম্যাচে বাজে খেলার দায়ে খেলোয়াড়দের সরাসরি আক্রমণও করছে ভারতীয় সমর্থকরা। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন ভারতীয় মুসলিম পেসার মোহাম্মদ শামি। তাকে পাকিস্তানি, গুপ্তচর থেকে শুরু করে তাকে ধর্মীয় ভাবেও আক্রমণ করছে উগ্র সমর্থকরা।

রবিবার পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিপক্ষে উইকেট তো দূরে কথা সুযোগও তৈরি করতে পারেননি কোনো ভারতীয় বোলার। সবাই ছিলো ওভারপ্রতি ৭ রানেরও বেশি খরুচে। এর মাঝে মোহাম্মদ শামি দিয়েছেন ওভারপ্রতি ১১.২১ করে রান। তার ওপর শেষের দিকে তার ৫ বলে ১৭ রান নিয়েই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেন রিজওয়ান। তাই ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষোভটা তার দিকে একটু বেশি।

শামিকে পাকিস্তানি চর বলেও আক্রমণ করছে অনেক উগ্র সমর্থক।

‘বলির পাঠা’ বনে যাওয়া মোহাম্মদ শামির ইনস্টাগ্রামে ম্যাচ শেষে হামলে পড়ে উগ্র সমর্থকরা। কয়েকজন তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে প্রকাশ অযোগ্য ভাষায় গালাগাল করেন। কেউ তাকে বলেছেন, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড়।’ কেউ দিচ্ছেন বাজে ভাষায় গালি। একজন আবার সব কিছু ছাড়িয়ে সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে লিখেছেন, ‘কালো মুসলিম।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে শামির প্রতি এই বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের শেষ এখানেই নয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় এক সমর্থক এনেছেন ম্যাচ পাতানোর মতো বড় অভিযোগ। তিনি লেখেন, ‘মহারাজ, নিজের জাতভাইদের জেতানোর জন্য পাকিস্তান থেকে কত টাকা খেয়েছ? অন্তত একটু লজ্জা দেখাও।’ কয়েকজন তাকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

তবে শুধু মুসলিম পেসার মোহাম্মদ শামিই নয়। আক্রমণের শিকার হচ্ছেন প্রায় সবাই। এর মাঝে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকেও ছাড়ছেন না অনেকে। ম্যাচ শেষে বিরাটের হাসি মুখে রিজওয়ানকে জড়িয়ে নেওয়াকে অত্যন্ত হীন কাজ হিসেবে দেখছে ভারতীয় সমর্থকরা। তারা মনে করেন এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করার জন্য লজ্জা থাকা উচিত ছিল বিরাট কোহলির।

বিশ্ব ক্রিকেট যখন ‘ব্লাক লাইভস ম্যাটার’ নিয়ে অনেক বেশি দৃঢ় তখন ভারতের মুসলিম ক্রিকেটারকে বানানো হচ্ছে বলির পাঠা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতি সহ আঘাত হানা হচ্ছে তার সাধারণ জীবনেও। আক্রমণের শিকার শামির পাশে কোনো ভারতীয় খেলোয়াড় না দাড়ালেও সাংবাদিকরা থাকছেন পাশে। মোহাম্মদ শামির পক্ষে তারাও ফিরতি টুইট করে জানিয়ে দিচ্ছেন গতবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর অন্যতম রুপকার ছিলেন শামিই। অনেকে আবার এমন অবস্থায় কোহলিদের চুপ থাকা নিয়েও করেছেন কঠোর সমালোচনা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শামিকে ‘পাকিস্তানি চর’ বলে ভারতীয় সমর্থকদের গালাগাল

আপডেট সময় ০৭:৩০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

আইসিসি আয়োজিত কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতকে হারানোর গেরো খুলেছে পাকিস্তান। কাল ভারতের বিপক্ষে ১৩তম বিশ্বকাপ ম্যাচে শাহিন আফ্রিদির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার পর নির্ভার ব্যাটিংয়ে মোহাম্মদ শামি-বুমরাহদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বাবর-রিজওয়ান।

কিন্তু চিরশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটের এমন হতাশাজনক হার মানতে পারছেন না ভারতীয় সমর্থকরা। বাবর-রিজওয়ানদের এমন জয়ে তাই মুণ্ডুপাত চলছে পুরো ভারত দলের। ম্যাচে বাজে খেলার দায়ে খেলোয়াড়দের সরাসরি আক্রমণও করছে ভারতীয় সমর্থকরা। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন ভারতীয় মুসলিম পেসার মোহাম্মদ শামি। তাকে পাকিস্তানি, গুপ্তচর থেকে শুরু করে তাকে ধর্মীয় ভাবেও আক্রমণ করছে উগ্র সমর্থকরা।

রবিবার পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিপক্ষে উইকেট তো দূরে কথা সুযোগও তৈরি করতে পারেননি কোনো ভারতীয় বোলার। সবাই ছিলো ওভারপ্রতি ৭ রানেরও বেশি খরুচে। এর মাঝে মোহাম্মদ শামি দিয়েছেন ওভারপ্রতি ১১.২১ করে রান। তার ওপর শেষের দিকে তার ৫ বলে ১৭ রান নিয়েই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেন রিজওয়ান। তাই ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষোভটা তার দিকে একটু বেশি।

শামিকে পাকিস্তানি চর বলেও আক্রমণ করছে অনেক উগ্র সমর্থক।

‘বলির পাঠা’ বনে যাওয়া মোহাম্মদ শামির ইনস্টাগ্রামে ম্যাচ শেষে হামলে পড়ে উগ্র সমর্থকরা। কয়েকজন তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে প্রকাশ অযোগ্য ভাষায় গালাগাল করেন। কেউ তাকে বলেছেন, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড়।’ কেউ দিচ্ছেন বাজে ভাষায় গালি। একজন আবার সব কিছু ছাড়িয়ে সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে লিখেছেন, ‘কালো মুসলিম।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে শামির প্রতি এই বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের শেষ এখানেই নয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় এক সমর্থক এনেছেন ম্যাচ পাতানোর মতো বড় অভিযোগ। তিনি লেখেন, ‘মহারাজ, নিজের জাতভাইদের জেতানোর জন্য পাকিস্তান থেকে কত টাকা খেয়েছ? অন্তত একটু লজ্জা দেখাও।’ কয়েকজন তাকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

তবে শুধু মুসলিম পেসার মোহাম্মদ শামিই নয়। আক্রমণের শিকার হচ্ছেন প্রায় সবাই। এর মাঝে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকেও ছাড়ছেন না অনেকে। ম্যাচ শেষে বিরাটের হাসি মুখে রিজওয়ানকে জড়িয়ে নেওয়াকে অত্যন্ত হীন কাজ হিসেবে দেখছে ভারতীয় সমর্থকরা। তারা মনে করেন এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করার জন্য লজ্জা থাকা উচিত ছিল বিরাট কোহলির।

বিশ্ব ক্রিকেট যখন ‘ব্লাক লাইভস ম্যাটার’ নিয়ে অনেক বেশি দৃঢ় তখন ভারতের মুসলিম ক্রিকেটারকে বানানো হচ্ছে বলির পাঠা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতি সহ আঘাত হানা হচ্ছে তার সাধারণ জীবনেও। আক্রমণের শিকার শামির পাশে কোনো ভারতীয় খেলোয়াড় না দাড়ালেও সাংবাদিকরা থাকছেন পাশে। মোহাম্মদ শামির পক্ষে তারাও ফিরতি টুইট করে জানিয়ে দিচ্ছেন গতবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর অন্যতম রুপকার ছিলেন শামিই। অনেকে আবার এমন অবস্থায় কোহলিদের চুপ থাকা নিয়েও করেছেন কঠোর সমালোচনা।