ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

শামিকে ‘পাকিস্তানি চর’ বলে ভারতীয় সমর্থকদের গালাগাল

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

আইসিসি আয়োজিত কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতকে হারানোর গেরো খুলেছে পাকিস্তান। কাল ভারতের বিপক্ষে ১৩তম বিশ্বকাপ ম্যাচে শাহিন আফ্রিদির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার পর নির্ভার ব্যাটিংয়ে মোহাম্মদ শামি-বুমরাহদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বাবর-রিজওয়ান।

কিন্তু চিরশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটের এমন হতাশাজনক হার মানতে পারছেন না ভারতীয় সমর্থকরা। বাবর-রিজওয়ানদের এমন জয়ে তাই মুণ্ডুপাত চলছে পুরো ভারত দলের। ম্যাচে বাজে খেলার দায়ে খেলোয়াড়দের সরাসরি আক্রমণও করছে ভারতীয় সমর্থকরা। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন ভারতীয় মুসলিম পেসার মোহাম্মদ শামি। তাকে পাকিস্তানি, গুপ্তচর থেকে শুরু করে তাকে ধর্মীয় ভাবেও আক্রমণ করছে উগ্র সমর্থকরা।

রবিবার পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিপক্ষে উইকেট তো দূরে কথা সুযোগও তৈরি করতে পারেননি কোনো ভারতীয় বোলার। সবাই ছিলো ওভারপ্রতি ৭ রানেরও বেশি খরুচে। এর মাঝে মোহাম্মদ শামি দিয়েছেন ওভারপ্রতি ১১.২১ করে রান। তার ওপর শেষের দিকে তার ৫ বলে ১৭ রান নিয়েই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেন রিজওয়ান। তাই ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষোভটা তার দিকে একটু বেশি।

শামিকে পাকিস্তানি চর বলেও আক্রমণ করছে অনেক উগ্র সমর্থক।

‘বলির পাঠা’ বনে যাওয়া মোহাম্মদ শামির ইনস্টাগ্রামে ম্যাচ শেষে হামলে পড়ে উগ্র সমর্থকরা। কয়েকজন তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে প্রকাশ অযোগ্য ভাষায় গালাগাল করেন। কেউ তাকে বলেছেন, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড়।’ কেউ দিচ্ছেন বাজে ভাষায় গালি। একজন আবার সব কিছু ছাড়িয়ে সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে লিখেছেন, ‘কালো মুসলিম।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে শামির প্রতি এই বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের শেষ এখানেই নয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় এক সমর্থক এনেছেন ম্যাচ পাতানোর মতো বড় অভিযোগ। তিনি লেখেন, ‘মহারাজ, নিজের জাতভাইদের জেতানোর জন্য পাকিস্তান থেকে কত টাকা খেয়েছ? অন্তত একটু লজ্জা দেখাও।’ কয়েকজন তাকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

তবে শুধু মুসলিম পেসার মোহাম্মদ শামিই নয়। আক্রমণের শিকার হচ্ছেন প্রায় সবাই। এর মাঝে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকেও ছাড়ছেন না অনেকে। ম্যাচ শেষে বিরাটের হাসি মুখে রিজওয়ানকে জড়িয়ে নেওয়াকে অত্যন্ত হীন কাজ হিসেবে দেখছে ভারতীয় সমর্থকরা। তারা মনে করেন এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করার জন্য লজ্জা থাকা উচিত ছিল বিরাট কোহলির।

বিশ্ব ক্রিকেট যখন ‘ব্লাক লাইভস ম্যাটার’ নিয়ে অনেক বেশি দৃঢ় তখন ভারতের মুসলিম ক্রিকেটারকে বানানো হচ্ছে বলির পাঠা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতি সহ আঘাত হানা হচ্ছে তার সাধারণ জীবনেও। আক্রমণের শিকার শামির পাশে কোনো ভারতীয় খেলোয়াড় না দাড়ালেও সাংবাদিকরা থাকছেন পাশে। মোহাম্মদ শামির পক্ষে তারাও ফিরতি টুইট করে জানিয়ে দিচ্ছেন গতবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর অন্যতম রুপকার ছিলেন শামিই। অনেকে আবার এমন অবস্থায় কোহলিদের চুপ থাকা নিয়েও করেছেন কঠোর সমালোচনা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার মহিলা ক্রীড়া

শামিকে ‘পাকিস্তানি চর’ বলে ভারতীয় সমর্থকদের গালাগাল

আপডেট সময় ০৭:৩০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

আইসিসি আয়োজিত কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতকে হারানোর গেরো খুলেছে পাকিস্তান। কাল ভারতের বিপক্ষে ১৩তম বিশ্বকাপ ম্যাচে শাহিন আফ্রিদির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার পর নির্ভার ব্যাটিংয়ে মোহাম্মদ শামি-বুমরাহদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বাবর-রিজওয়ান।

কিন্তু চিরশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটের এমন হতাশাজনক হার মানতে পারছেন না ভারতীয় সমর্থকরা। বাবর-রিজওয়ানদের এমন জয়ে তাই মুণ্ডুপাত চলছে পুরো ভারত দলের। ম্যাচে বাজে খেলার দায়ে খেলোয়াড়দের সরাসরি আক্রমণও করছে ভারতীয় সমর্থকরা। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন ভারতীয় মুসলিম পেসার মোহাম্মদ শামি। তাকে পাকিস্তানি, গুপ্তচর থেকে শুরু করে তাকে ধর্মীয় ভাবেও আক্রমণ করছে উগ্র সমর্থকরা।

রবিবার পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিপক্ষে উইকেট তো দূরে কথা সুযোগও তৈরি করতে পারেননি কোনো ভারতীয় বোলার। সবাই ছিলো ওভারপ্রতি ৭ রানেরও বেশি খরুচে। এর মাঝে মোহাম্মদ শামি দিয়েছেন ওভারপ্রতি ১১.২১ করে রান। তার ওপর শেষের দিকে তার ৫ বলে ১৭ রান নিয়েই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেন রিজওয়ান। তাই ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষোভটা তার দিকে একটু বেশি।

শামিকে পাকিস্তানি চর বলেও আক্রমণ করছে অনেক উগ্র সমর্থক।

‘বলির পাঠা’ বনে যাওয়া মোহাম্মদ শামির ইনস্টাগ্রামে ম্যাচ শেষে হামলে পড়ে উগ্র সমর্থকরা। কয়েকজন তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে প্রকাশ অযোগ্য ভাষায় গালাগাল করেন। কেউ তাকে বলেছেন, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড়।’ কেউ দিচ্ছেন বাজে ভাষায় গালি। একজন আবার সব কিছু ছাড়িয়ে সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে লিখেছেন, ‘কালো মুসলিম।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে শামির প্রতি এই বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের শেষ এখানেই নয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় এক সমর্থক এনেছেন ম্যাচ পাতানোর মতো বড় অভিযোগ। তিনি লেখেন, ‘মহারাজ, নিজের জাতভাইদের জেতানোর জন্য পাকিস্তান থেকে কত টাকা খেয়েছ? অন্তত একটু লজ্জা দেখাও।’ কয়েকজন তাকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

তবে শুধু মুসলিম পেসার মোহাম্মদ শামিই নয়। আক্রমণের শিকার হচ্ছেন প্রায় সবাই। এর মাঝে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকেও ছাড়ছেন না অনেকে। ম্যাচ শেষে বিরাটের হাসি মুখে রিজওয়ানকে জড়িয়ে নেওয়াকে অত্যন্ত হীন কাজ হিসেবে দেখছে ভারতীয় সমর্থকরা। তারা মনে করেন এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করার জন্য লজ্জা থাকা উচিত ছিল বিরাট কোহলির।

বিশ্ব ক্রিকেট যখন ‘ব্লাক লাইভস ম্যাটার’ নিয়ে অনেক বেশি দৃঢ় তখন ভারতের মুসলিম ক্রিকেটারকে বানানো হচ্ছে বলির পাঠা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতি সহ আঘাত হানা হচ্ছে তার সাধারণ জীবনেও। আক্রমণের শিকার শামির পাশে কোনো ভারতীয় খেলোয়াড় না দাড়ালেও সাংবাদিকরা থাকছেন পাশে। মোহাম্মদ শামির পক্ষে তারাও ফিরতি টুইট করে জানিয়ে দিচ্ছেন গতবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর অন্যতম রুপকার ছিলেন শামিই। অনেকে আবার এমন অবস্থায় কোহলিদের চুপ থাকা নিয়েও করেছেন কঠোর সমালোচনা।