ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ভাসানচরে রোহিঙ্গা কবিরাজ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের আনাচে দেখা যায় কবিরাজ। গ্রাম এলাকার হাটবাজার তো বটেই শহরেও দেখা মেলে কবিরাজদের।

তারা নানা রোগের ওষুধ দিয়ে থাকেন। তবে সুদূর ভাসানচরে দেখা মিললো একজন রোহিঙ্গা কবিরাজের।
ভাসানচর এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাজারের এক নম্বর রোডে দেখা যায় সেই কবিরাজ চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফুটপাতে নানা ওষুধ নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন এই কবিরাজ। তিনিই এই এলাকার একমাত্র কবিরাজ বলে দাবি করলেন। এই কবিরাজের নাম মুজিবুল্লাহ।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ জানালেন তার বয়স ২৭। তিনি কুতুপালংয়েও কবিরাজি চিকিৎসা করতেন। সেখানে ছিলেন ১২ বছর। তবে দ্বিতীয় দফায় ভাসানচরে আশ্রয় নিয়েছেন। কুতুপালং ক্যাম্পে যেমন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করতেন, এখানেও তেমনভাবেই চিকিৎসা করে থাকেন।

কী কী রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের উত্তরে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ বলেন, আমি পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, দাদ, এলার্জি, কান পাকা, পাইলস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। প্রতিদিন ৭/৮ জন রোগী আসে। এতে প্রতিদিন আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

কবিরাজি ওষুধ কোথায় পান জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ কবিরাজ জানান, কুতুপালং থেকে আসার সময় কবিরাজি ওষুধ নিয়ে এসেছি। আর মূলত গাছ-গাছরা থেকেই আমি ওষুধ তৈরি করে থাকি।

তবে কিছু ওষুধ ফুরিয়ে গেলে কীভাবে এই দ্বীপে সেগুলো সংগ্রহ করবেন, সেটা নিয়ে তার কবিরাজ মুজিবুল্লাহর দুশ্চিন্তা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কীভাবে কবিরাজি শিখলেন জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ বলেন, আমার দাদা সিরাজুল হক ছিলেন কবিরাজ। তার কাছ থেকেই কবিরাজি শিখেছি। কিছু বই পত্রিকা পড়েও কবিরাজি শিখেছেন। তবে এই চিকিৎসার জন্য তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই বলেও জানান তিনি।

মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়ও ওষুধ দিয়ে থাকেন কবিরাজ মুজিবুল্লাহ। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই একজন রোগীর দেখা মিললো। এই রোগীর নাম মোহাম্মদ জুবায়ের। রোগী জানালেন তার পায়ে দাদ হয়েছে। কবিরাজকে সেই রোগীকে ওষুধ দিলেন। ওষুধের দাম রাখলেন ৪০ টাকা।

মোহাম্মদ জুবায়ের এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি আজ প্রথম এই কবিরাজের কাছে এসেছেন। অনেক রোগী কবিরাজের চিকিৎসায় ভালো হয়েছেন বলে জানতে পেরে তিনিও চিকিৎসা নিতে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুটি হাসপাতাল ও চারটি কমিউনিটি হাসপাতাল রয়েছে। তারপরেও অনেকেই নিচ্ছেন মুজিবুল্লাহর কবিরাজি চিকিৎসা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভাসানচরে রোহিঙ্গা কবিরাজ

আপডেট সময় ০৫:৪০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের আনাচে দেখা যায় কবিরাজ। গ্রাম এলাকার হাটবাজার তো বটেই শহরেও দেখা মেলে কবিরাজদের।

তারা নানা রোগের ওষুধ দিয়ে থাকেন। তবে সুদূর ভাসানচরে দেখা মিললো একজন রোহিঙ্গা কবিরাজের।
ভাসানচর এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাজারের এক নম্বর রোডে দেখা যায় সেই কবিরাজ চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফুটপাতে নানা ওষুধ নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন এই কবিরাজ। তিনিই এই এলাকার একমাত্র কবিরাজ বলে দাবি করলেন। এই কবিরাজের নাম মুজিবুল্লাহ।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ জানালেন তার বয়স ২৭। তিনি কুতুপালংয়েও কবিরাজি চিকিৎসা করতেন। সেখানে ছিলেন ১২ বছর। তবে দ্বিতীয় দফায় ভাসানচরে আশ্রয় নিয়েছেন। কুতুপালং ক্যাম্পে যেমন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করতেন, এখানেও তেমনভাবেই চিকিৎসা করে থাকেন।

কী কী রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের উত্তরে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ বলেন, আমি পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, দাদ, এলার্জি, কান পাকা, পাইলস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। প্রতিদিন ৭/৮ জন রোগী আসে। এতে প্রতিদিন আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

কবিরাজি ওষুধ কোথায় পান জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ কবিরাজ জানান, কুতুপালং থেকে আসার সময় কবিরাজি ওষুধ নিয়ে এসেছি। আর মূলত গাছ-গাছরা থেকেই আমি ওষুধ তৈরি করে থাকি।

তবে কিছু ওষুধ ফুরিয়ে গেলে কীভাবে এই দ্বীপে সেগুলো সংগ্রহ করবেন, সেটা নিয়ে তার কবিরাজ মুজিবুল্লাহর দুশ্চিন্তা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কীভাবে কবিরাজি শিখলেন জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ বলেন, আমার দাদা সিরাজুল হক ছিলেন কবিরাজ। তার কাছ থেকেই কবিরাজি শিখেছি। কিছু বই পত্রিকা পড়েও কবিরাজি শিখেছেন। তবে এই চিকিৎসার জন্য তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই বলেও জানান তিনি।

মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়ও ওষুধ দিয়ে থাকেন কবিরাজ মুজিবুল্লাহ। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই একজন রোগীর দেখা মিললো। এই রোগীর নাম মোহাম্মদ জুবায়ের। রোগী জানালেন তার পায়ে দাদ হয়েছে। কবিরাজকে সেই রোগীকে ওষুধ দিলেন। ওষুধের দাম রাখলেন ৪০ টাকা।

মোহাম্মদ জুবায়ের এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি আজ প্রথম এই কবিরাজের কাছে এসেছেন। অনেক রোগী কবিরাজের চিকিৎসায় ভালো হয়েছেন বলে জানতে পেরে তিনিও চিকিৎসা নিতে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুটি হাসপাতাল ও চারটি কমিউনিটি হাসপাতাল রয়েছে। তারপরেও অনেকেই নিচ্ছেন মুজিবুল্লাহর কবিরাজি চিকিৎসা।