ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী পূর্বাচলে হবে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র : আইজিপি এবছর ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নাইজেরিয়ায় স্কুলে হামলায় ৩ জন নিহত, শিক্ষার্থীসহ নিখোঁজ ৩৭

ভাসানচরে রোহিঙ্গা কবিরাজ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের আনাচে দেখা যায় কবিরাজ। গ্রাম এলাকার হাটবাজার তো বটেই শহরেও দেখা মেলে কবিরাজদের।

তারা নানা রোগের ওষুধ দিয়ে থাকেন। তবে সুদূর ভাসানচরে দেখা মিললো একজন রোহিঙ্গা কবিরাজের।
ভাসানচর এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাজারের এক নম্বর রোডে দেখা যায় সেই কবিরাজ চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফুটপাতে নানা ওষুধ নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন এই কবিরাজ। তিনিই এই এলাকার একমাত্র কবিরাজ বলে দাবি করলেন। এই কবিরাজের নাম মুজিবুল্লাহ।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ জানালেন তার বয়স ২৭। তিনি কুতুপালংয়েও কবিরাজি চিকিৎসা করতেন। সেখানে ছিলেন ১২ বছর। তবে দ্বিতীয় দফায় ভাসানচরে আশ্রয় নিয়েছেন। কুতুপালং ক্যাম্পে যেমন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করতেন, এখানেও তেমনভাবেই চিকিৎসা করে থাকেন।

কী কী রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের উত্তরে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ বলেন, আমি পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, দাদ, এলার্জি, কান পাকা, পাইলস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। প্রতিদিন ৭/৮ জন রোগী আসে। এতে প্রতিদিন আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

কবিরাজি ওষুধ কোথায় পান জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ কবিরাজ জানান, কুতুপালং থেকে আসার সময় কবিরাজি ওষুধ নিয়ে এসেছি। আর মূলত গাছ-গাছরা থেকেই আমি ওষুধ তৈরি করে থাকি।

তবে কিছু ওষুধ ফুরিয়ে গেলে কীভাবে এই দ্বীপে সেগুলো সংগ্রহ করবেন, সেটা নিয়ে তার কবিরাজ মুজিবুল্লাহর দুশ্চিন্তা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কীভাবে কবিরাজি শিখলেন জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ বলেন, আমার দাদা সিরাজুল হক ছিলেন কবিরাজ। তার কাছ থেকেই কবিরাজি শিখেছি। কিছু বই পত্রিকা পড়েও কবিরাজি শিখেছেন। তবে এই চিকিৎসার জন্য তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই বলেও জানান তিনি।

মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়ও ওষুধ দিয়ে থাকেন কবিরাজ মুজিবুল্লাহ। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই একজন রোগীর দেখা মিললো। এই রোগীর নাম মোহাম্মদ জুবায়ের। রোগী জানালেন তার পায়ে দাদ হয়েছে। কবিরাজকে সেই রোগীকে ওষুধ দিলেন। ওষুধের দাম রাখলেন ৪০ টাকা।

মোহাম্মদ জুবায়ের এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি আজ প্রথম এই কবিরাজের কাছে এসেছেন। অনেক রোগী কবিরাজের চিকিৎসায় ভালো হয়েছেন বলে জানতে পেরে তিনিও চিকিৎসা নিতে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুটি হাসপাতাল ও চারটি কমিউনিটি হাসপাতাল রয়েছে। তারপরেও অনেকেই নিচ্ছেন মুজিবুল্লাহর কবিরাজি চিকিৎসা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ভাসানচরে রোহিঙ্গা কবিরাজ

আপডেট সময় ০৫:৪০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের আনাচে দেখা যায় কবিরাজ। গ্রাম এলাকার হাটবাজার তো বটেই শহরেও দেখা মেলে কবিরাজদের।

তারা নানা রোগের ওষুধ দিয়ে থাকেন। তবে সুদূর ভাসানচরে দেখা মিললো একজন রোহিঙ্গা কবিরাজের।
ভাসানচর এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাজারের এক নম্বর রোডে দেখা যায় সেই কবিরাজ চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফুটপাতে নানা ওষুধ নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন এই কবিরাজ। তিনিই এই এলাকার একমাত্র কবিরাজ বলে দাবি করলেন। এই কবিরাজের নাম মুজিবুল্লাহ।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ জানালেন তার বয়স ২৭। তিনি কুতুপালংয়েও কবিরাজি চিকিৎসা করতেন। সেখানে ছিলেন ১২ বছর। তবে দ্বিতীয় দফায় ভাসানচরে আশ্রয় নিয়েছেন। কুতুপালং ক্যাম্পে যেমন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করতেন, এখানেও তেমনভাবেই চিকিৎসা করে থাকেন।

কী কী রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের উত্তরে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ বলেন, আমি পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, দাদ, এলার্জি, কান পাকা, পাইলস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। প্রতিদিন ৭/৮ জন রোগী আসে। এতে প্রতিদিন আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

কবিরাজি ওষুধ কোথায় পান জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ কবিরাজ জানান, কুতুপালং থেকে আসার সময় কবিরাজি ওষুধ নিয়ে এসেছি। আর মূলত গাছ-গাছরা থেকেই আমি ওষুধ তৈরি করে থাকি।

তবে কিছু ওষুধ ফুরিয়ে গেলে কীভাবে এই দ্বীপে সেগুলো সংগ্রহ করবেন, সেটা নিয়ে তার কবিরাজ মুজিবুল্লাহর দুশ্চিন্তা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কীভাবে কবিরাজি শিখলেন জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ বলেন, আমার দাদা সিরাজুল হক ছিলেন কবিরাজ। তার কাছ থেকেই কবিরাজি শিখেছি। কিছু বই পত্রিকা পড়েও কবিরাজি শিখেছেন। তবে এই চিকিৎসার জন্য তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই বলেও জানান তিনি।

মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়ও ওষুধ দিয়ে থাকেন কবিরাজ মুজিবুল্লাহ। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই একজন রোগীর দেখা মিললো। এই রোগীর নাম মোহাম্মদ জুবায়ের। রোগী জানালেন তার পায়ে দাদ হয়েছে। কবিরাজকে সেই রোগীকে ওষুধ দিলেন। ওষুধের দাম রাখলেন ৪০ টাকা।

মোহাম্মদ জুবায়ের এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি আজ প্রথম এই কবিরাজের কাছে এসেছেন। অনেক রোগী কবিরাজের চিকিৎসায় ভালো হয়েছেন বলে জানতে পেরে তিনিও চিকিৎসা নিতে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুটি হাসপাতাল ও চারটি কমিউনিটি হাসপাতাল রয়েছে। তারপরেও অনেকেই নিচ্ছেন মুজিবুল্লাহর কবিরাজি চিকিৎসা।