ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সারাদিন পাশেই ছিলেন খুনি, বুঝতে পারেননি বশির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বশির উদ্দিনের (৫৫) ভ্যানে করে সারাদিন ঘুরে বেড়িয়েছেন তার পূর্বপরিচিত রঞ্জু মন্ডল। দুজন গল্প করেছেন, একসঙ্গে চা পান করেছেন। বশির ভাবতেও পারেননি এই রঞ্জুর হাতেই তার প্রাণ যাবে।

কুষ্টিয়ার ভ্যানচালক বশির উদ্দিন হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার রঞ্জু মন্ডল পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার চরগোপালপুর-মিটন সড়কের পাশে ধানক্ষেত থেকে বশির উদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাড়ি পাশের উপজেলা কুমারখালীর সাঁওতা গ্রামে।

পরে এ ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। তারা প্রথমে বশিরের ভ্যানটি উদ্ধার করে সদর উপেেজলার নগর মোহাম্মদপুর গ্রামে আনজেরা নামে এক গৃহবধূর বাড়ি থেকে। আনজেরা পুলিশকে জানান, তার চাচাতো ভাই রঞ্জু রাতে ভ্যানটি রেখে গেছেন। পরে মঙ্গলবার রাতে সাঁওতা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক হন রঞ্জু।

বুধবার দুপরে পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান আটক রঞ্জুর বরাত দিয়ে বলেন, নিহত বশির ও রঞ্জুর শ্বশুরবাড়ি একই এলাকায়। এই সূত্র ধরে দুজনের পরিচয়। রঞ্জু নিজের মায়ের খোঁজ-খবর রাখতেন না, ভরণ-পোষণও দিতেন। তিনি বেশিরভাগ সময় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। বশিরের বিষয়টি ভালো লাগেনি। তিনি প্রায়ই মাকে ভরণপোষণ দেওয়ার জন্য রঞ্জুকে অনুরোধ করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হন রঞ্জু। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। এই ক্ষোভ থেকে বশিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রঞ্জু। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৪ আগস্ট সকালে ২০০ টাকা দিয়ে বশিরের ভ্যান ভাড়া করেন রঞ্জু। তিনি সারাদিন বশিরকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করেন। একসঙ্গে চা-ও পান করেন। এক ফাঁকে বিআরবি ক্যাবলস’র কাছে ইট কেনা-বেচার দোকানের সামনে এসে প্রস্রাব করার কথা বলে ভ্যান থেকে নেমে কৌশলে একটি ইট নিয়ে লুঙ্গির আড়ালে রেখে পুনরায় ভ্যানে ওঠেন। পরে রাত ১০টার দিকে চরপাড়া মাঠের মধ্যে বাথরুমে যাবেন বলে বশিরকে ভ্যান থামাতে বলেন। তার কথায় ভ্যান থামালে রঞ্জু লুঙ্গির ভেতর থেকে ইট বের করে বশিরের মাথার মাঝখানে সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই বশিল মারা যান। পরে রঞ্জু মৃতদেহটি রাস্তার পাশের ধান ক্ষেতে রেখে ভ্যান নিয়ে চলে যান। রঞ্জু সদর উপজেলার মেটন গ্রামের সালামত মন্ডলের ছেলে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারাদিন পাশেই ছিলেন খুনি, বুঝতে পারেননি বশির

আপডেট সময় ০৬:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বশির উদ্দিনের (৫৫) ভ্যানে করে সারাদিন ঘুরে বেড়িয়েছেন তার পূর্বপরিচিত রঞ্জু মন্ডল। দুজন গল্প করেছেন, একসঙ্গে চা পান করেছেন। বশির ভাবতেও পারেননি এই রঞ্জুর হাতেই তার প্রাণ যাবে।

কুষ্টিয়ার ভ্যানচালক বশির উদ্দিন হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার রঞ্জু মন্ডল পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার চরগোপালপুর-মিটন সড়কের পাশে ধানক্ষেত থেকে বশির উদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাড়ি পাশের উপজেলা কুমারখালীর সাঁওতা গ্রামে।

পরে এ ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। তারা প্রথমে বশিরের ভ্যানটি উদ্ধার করে সদর উপেেজলার নগর মোহাম্মদপুর গ্রামে আনজেরা নামে এক গৃহবধূর বাড়ি থেকে। আনজেরা পুলিশকে জানান, তার চাচাতো ভাই রঞ্জু রাতে ভ্যানটি রেখে গেছেন। পরে মঙ্গলবার রাতে সাঁওতা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক হন রঞ্জু।

বুধবার দুপরে পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান আটক রঞ্জুর বরাত দিয়ে বলেন, নিহত বশির ও রঞ্জুর শ্বশুরবাড়ি একই এলাকায়। এই সূত্র ধরে দুজনের পরিচয়। রঞ্জু নিজের মায়ের খোঁজ-খবর রাখতেন না, ভরণ-পোষণও দিতেন। তিনি বেশিরভাগ সময় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। বশিরের বিষয়টি ভালো লাগেনি। তিনি প্রায়ই মাকে ভরণপোষণ দেওয়ার জন্য রঞ্জুকে অনুরোধ করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হন রঞ্জু। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। এই ক্ষোভ থেকে বশিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রঞ্জু। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৪ আগস্ট সকালে ২০০ টাকা দিয়ে বশিরের ভ্যান ভাড়া করেন রঞ্জু। তিনি সারাদিন বশিরকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করেন। একসঙ্গে চা-ও পান করেন। এক ফাঁকে বিআরবি ক্যাবলস’র কাছে ইট কেনা-বেচার দোকানের সামনে এসে প্রস্রাব করার কথা বলে ভ্যান থেকে নেমে কৌশলে একটি ইট নিয়ে লুঙ্গির আড়ালে রেখে পুনরায় ভ্যানে ওঠেন। পরে রাত ১০টার দিকে চরপাড়া মাঠের মধ্যে বাথরুমে যাবেন বলে বশিরকে ভ্যান থামাতে বলেন। তার কথায় ভ্যান থামালে রঞ্জু লুঙ্গির ভেতর থেকে ইট বের করে বশিরের মাথার মাঝখানে সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই বশিল মারা যান। পরে রঞ্জু মৃতদেহটি রাস্তার পাশের ধান ক্ষেতে রেখে ভ্যান নিয়ে চলে যান। রঞ্জু সদর উপজেলার মেটন গ্রামের সালামত মন্ডলের ছেলে।