ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

রাজধানীতে বাড়ছে প্রযুক্তি পণ্যের বেচাকেনা

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সব বিপণিবিতান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ঈদের আগে বিপণিবিতানগুলোর কার্যক্রম আবারও চালুর সুযোগ দেওয়া হয়। এরইমধ্যে দেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে ক্রেতাদের সমাগম ও বেচাকেনা বাড়ছে।

১০ মে থেকে ফের কার্যক্রম শুরু করেছে রাজধানীর প্রযুক্তি পণ্য বিক্রির বড় দুই বাজার এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টার এবং আগারগাঁও এর বিসিএস কম্পিউটার সিটি। প্রতিদিনই এসব শপিং সেন্টারে আসা ক্রেতার সংখ্যা এবং প্রযুক্তি পণ্যের বেচাকেনা বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বিসিএস কম্পিউটার সিটির ইউনিভার্সাল কম্পিউটার শপের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রথম দিন তেমন গ্রাহক ছিল না। তবে দিনদিন গ্রাহক বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেচাকেনা অনেক কম। কিন্তু দিনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সেটি একটি ভালো দিক। ঈদ আসতে আসতে হয়তো আরও বাড়বে।’

কী ধরনের গ্রাহক বেশি আসছেন এবং তারা কী ধরনের পণ্য কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের বেশিরভাগই তরুণ। অনেকে আছেন বিভিন্ন অফিসের করপোরেট ক্লায়েন্ট। গ্রাহকরা মোটামুটি সব ধরনের পণ্যই কিনছেন যেমন পুরো ডেস্কটপ সেটআপ বা ল্যাপটপ। তবে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশই বেশি বিক্রি হচ্ছে; যেমন মাউস, কিবোর্ড, র‍্যাম, রাউটার, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি।’

মিরপুর থেকে আগারগাঁওয়ে প্রযুক্তি পণ্য কিনতে আসা ইমরান উদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে কিবোর্ড নষ্ট হয়ে যায়। এরথেকে বাসার কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারছি না। মার্কেট খোলার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ কিনতে এলাম।’

এদিকে শপিং সেন্টার চালু হওয়ার প্রথম দিনই মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টারে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল বলে জানান ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি এবং মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টারের সভাপতি তৌফিক এহেসান।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনই গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী এবং আনসার বাহিনীকেও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। আসলে তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মেরামত বা পুরনো ডিভাইস নষ্ট হলে নতুন প্রয়োজন হয়। এমনও সামান্য কিছু যন্ত্রাংশ আছে, যার জন্য পুরো সিস্টেম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে। যেমন ডেস্কটপ কম্পিউটারের সামান্য একটি মাউস বা কিবোর্ড নষ্ট হলেই আর সেটি ব্যবহার করা যায় না। এদিকে ঈদের পর বন্ধ হলে আবার কবে মার্কেট খুলবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাই সব মিলিয়ে এখন মার্কেট খোলা থাকায় গ্রাহকদের একটা চাপ আছে। আবার বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, ঈদের সময় অনেকেই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ বা একটু উচ্চমূল্যের ডিভাইস কেনেন। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ ক্রেতারা।’

গ্রাহকদের ভিড় থাকলেও শপিং সেন্টারে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে বলেও দাবি করেন এ ব্যবসায়ী নেতা। তৌফিক এহেসান বলেন, ‘মার্কেটে ঢুকতেই জীবাণুনাশক বুথের ভেতর হয়ে যেতে হবে। এরপর দোকানেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমরা জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছি। যে দোকানে ১০ জন গ্রাহক প্রবেশ করতে পারে, সেখানে ৫ জন প্রবেশ করতে দিচ্ছি। আবার যেখানে ১০ জন সেলসম্যান একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেখানে ৫ জন সেলসম্যানের কাজ করতে হচ্ছে।’

এদিকে প্রযুক্তি পণ্যের কেনাবেচাকে বেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি শাহিদ উল মুনির। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘এখন যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তার বেশিরভাগই তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর। তাই এ খাত ইতোমধ্যে জরুরি সেবা হিসেবে নিজের স্থান অর্জন করেছে। এসময় এ ধরনের শপিং সেন্টার খোলা এবং সেখানে বেচাকেনা হওয়া খুবই ইতিবাচক। এতে ব্যবসায়ীরা একটা ভরসা পেলেন। আমরাও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনার পরিবেশ নিশ্চিত করছি। এ সময় প্রযুক্তির বড় একটি অবদান রয়েছে। এ জন্য প্রযুক্তি পণ্যের বাজারের কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

রাজধানীতে বাড়ছে প্রযুক্তি পণ্যের বেচাকেনা

আপডেট সময় ১১:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সব বিপণিবিতান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ঈদের আগে বিপণিবিতানগুলোর কার্যক্রম আবারও চালুর সুযোগ দেওয়া হয়। এরইমধ্যে দেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে ক্রেতাদের সমাগম ও বেচাকেনা বাড়ছে।

১০ মে থেকে ফের কার্যক্রম শুরু করেছে রাজধানীর প্রযুক্তি পণ্য বিক্রির বড় দুই বাজার এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টার এবং আগারগাঁও এর বিসিএস কম্পিউটার সিটি। প্রতিদিনই এসব শপিং সেন্টারে আসা ক্রেতার সংখ্যা এবং প্রযুক্তি পণ্যের বেচাকেনা বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বিসিএস কম্পিউটার সিটির ইউনিভার্সাল কম্পিউটার শপের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রথম দিন তেমন গ্রাহক ছিল না। তবে দিনদিন গ্রাহক বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেচাকেনা অনেক কম। কিন্তু দিনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সেটি একটি ভালো দিক। ঈদ আসতে আসতে হয়তো আরও বাড়বে।’

কী ধরনের গ্রাহক বেশি আসছেন এবং তারা কী ধরনের পণ্য কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের বেশিরভাগই তরুণ। অনেকে আছেন বিভিন্ন অফিসের করপোরেট ক্লায়েন্ট। গ্রাহকরা মোটামুটি সব ধরনের পণ্যই কিনছেন যেমন পুরো ডেস্কটপ সেটআপ বা ল্যাপটপ। তবে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশই বেশি বিক্রি হচ্ছে; যেমন মাউস, কিবোর্ড, র‍্যাম, রাউটার, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি।’

মিরপুর থেকে আগারগাঁওয়ে প্রযুক্তি পণ্য কিনতে আসা ইমরান উদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে কিবোর্ড নষ্ট হয়ে যায়। এরথেকে বাসার কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারছি না। মার্কেট খোলার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ কিনতে এলাম।’

এদিকে শপিং সেন্টার চালু হওয়ার প্রথম দিনই মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টারে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল বলে জানান ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি এবং মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টারের সভাপতি তৌফিক এহেসান।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনই গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী এবং আনসার বাহিনীকেও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। আসলে তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মেরামত বা পুরনো ডিভাইস নষ্ট হলে নতুন প্রয়োজন হয়। এমনও সামান্য কিছু যন্ত্রাংশ আছে, যার জন্য পুরো সিস্টেম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে। যেমন ডেস্কটপ কম্পিউটারের সামান্য একটি মাউস বা কিবোর্ড নষ্ট হলেই আর সেটি ব্যবহার করা যায় না। এদিকে ঈদের পর বন্ধ হলে আবার কবে মার্কেট খুলবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাই সব মিলিয়ে এখন মার্কেট খোলা থাকায় গ্রাহকদের একটা চাপ আছে। আবার বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, ঈদের সময় অনেকেই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ বা একটু উচ্চমূল্যের ডিভাইস কেনেন। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ ক্রেতারা।’

গ্রাহকদের ভিড় থাকলেও শপিং সেন্টারে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে বলেও দাবি করেন এ ব্যবসায়ী নেতা। তৌফিক এহেসান বলেন, ‘মার্কেটে ঢুকতেই জীবাণুনাশক বুথের ভেতর হয়ে যেতে হবে। এরপর দোকানেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমরা জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছি। যে দোকানে ১০ জন গ্রাহক প্রবেশ করতে পারে, সেখানে ৫ জন প্রবেশ করতে দিচ্ছি। আবার যেখানে ১০ জন সেলসম্যান একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেখানে ৫ জন সেলসম্যানের কাজ করতে হচ্ছে।’

এদিকে প্রযুক্তি পণ্যের কেনাবেচাকে বেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি শাহিদ উল মুনির। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘এখন যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তার বেশিরভাগই তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর। তাই এ খাত ইতোমধ্যে জরুরি সেবা হিসেবে নিজের স্থান অর্জন করেছে। এসময় এ ধরনের শপিং সেন্টার খোলা এবং সেখানে বেচাকেনা হওয়া খুবই ইতিবাচক। এতে ব্যবসায়ীরা একটা ভরসা পেলেন। আমরাও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনার পরিবেশ নিশ্চিত করছি। এ সময় প্রযুক্তির বড় একটি অবদান রয়েছে। এ জন্য প্রযুক্তি পণ্যের বাজারের কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।’