ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,অনেক ক্ষেত্রে কেবল অনিবন্ধিত অভিবাসী হওয়ার সন্দেহের ভিত্তিতে মানুষকে নজরদারি,

গ্রেফতার করা হচ্ছে। হাসপাতাল, গির্জা, মসজিদ, আদালত, বাজার, স্কুল এমনকি নিজ নিজ বাড়িতেও সহিংসভাবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মিনিয়াপোলিস শহরে প্রায় ৩ হাজার ভারী অস্ত্রধারী ও মুখোশধারী ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা বিপজ্জনক অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এতে কখনও কখনও আইন মেনে চলা মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড (৩৭) নামে এক মার্কিন নাগরিক ও তিন সন্তানের জননী নিহত হওয়ার পর শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরিস্থিতির জন্য “চরম বামপন্থী উসকানিদাতা” এবং স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতাকে দায়ী করে অভিযানকে সমর্থন জানান।

ভলকার টুর্ক দাবি করেন, মার্কিন অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ করছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি তাৎক্ষণিকভাবে জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি না করেন, তবে এমন শক্তি প্রয়োগ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিবাসন কার্যক্রমে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তিদের সময়মতো আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যার একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালে ৩০টি মৃত্যুর ঘটনা এবং এ বছর এ পর্যন্ত ছয়টি মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

টুর্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী এবং শরণার্থীদের নিয়মিত অবমাননাকে নিন্দা করেছেন, যা তাদেরকে অপরাধী বা সমাজের উপর বোঝা হিসেবে চিত্রিত করে, বলেছেন যে এটি তাদের “জেনোফোবিক শত্রুতা এবং নির্যাতনের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন টুর্ক। তার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে আইসিই হেফাজতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের

আপডেট সময় ০৮:৫০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,অনেক ক্ষেত্রে কেবল অনিবন্ধিত অভিবাসী হওয়ার সন্দেহের ভিত্তিতে মানুষকে নজরদারি,

গ্রেফতার করা হচ্ছে। হাসপাতাল, গির্জা, মসজিদ, আদালত, বাজার, স্কুল এমনকি নিজ নিজ বাড়িতেও সহিংসভাবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মিনিয়াপোলিস শহরে প্রায় ৩ হাজার ভারী অস্ত্রধারী ও মুখোশধারী ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা বিপজ্জনক অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এতে কখনও কখনও আইন মেনে চলা মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড (৩৭) নামে এক মার্কিন নাগরিক ও তিন সন্তানের জননী নিহত হওয়ার পর শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরিস্থিতির জন্য “চরম বামপন্থী উসকানিদাতা” এবং স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতাকে দায়ী করে অভিযানকে সমর্থন জানান।

ভলকার টুর্ক দাবি করেন, মার্কিন অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ করছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি তাৎক্ষণিকভাবে জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি না করেন, তবে এমন শক্তি প্রয়োগ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিবাসন কার্যক্রমে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তিদের সময়মতো আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যার একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালে ৩০টি মৃত্যুর ঘটনা এবং এ বছর এ পর্যন্ত ছয়টি মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

টুর্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী এবং শরণার্থীদের নিয়মিত অবমাননাকে নিন্দা করেছেন, যা তাদেরকে অপরাধী বা সমাজের উপর বোঝা হিসেবে চিত্রিত করে, বলেছেন যে এটি তাদের “জেনোফোবিক শত্রুতা এবং নির্যাতনের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন টুর্ক। তার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে আইসিই হেফাজতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।