ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি হাত–মুখ বেঁধে জামায়াত নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহের মাঝেই চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া মোংলায় চাঁদা না পেয়ে গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার ৩ ১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, তবে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে: দুদু পুলিশের ৩৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করতে হবে’:শিল্পমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে পেটে গুলি লেগেছিল মন্নাস আলীর, ৫৫ বছর পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

৯৯৯-এ কল: ঘর পেলেন নাহার বেগম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পটুয়াখালী পৌরসভার ড্রেনের ওপর ঝুপড়িতে বসবাসকারী স্বামী পরিত্যক্তা নাহার বেগমকে ঘর বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। গত কয়েক বছর ধরে ওই নারী তার ছেলেকে নিয়ে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের লাউকাঠী খেয়াঘাট এলাকায় ড্রেনের ওপর বসবাস করে আসছিলেন।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১নং লাউকাঠি আবাসনে নাহার বেগমের হাতে ঘরের চাবি ও কাগজপত্র তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লতিফা জান্নাতী।

নাহার বেগমের অমতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেলেও তার ও সন্তানের কোনো ভরণ-পোষণ দিচ্ছেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। নিজের আট বছরের ছেলেকে নিয়ে বাসায় বাসায় কুরআন শিখিয়ে সেই সম্মানি দিয়ে সংসার পরিচালনা করতেন তিনি।

দীর্ঘ দুই মাস করোনা পরিস্থিতিতে বাসায় বাসায় পড়ানোর কাজ বন্ধ থাকায় দিশেহারা হয়ে গত ২০ এপ্রিল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে তার কষ্টের কথা জানান নাহার।

সেখান থেকে তার কল ও তথ্য পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরীর কাছে পাঠানো হলে তিনি সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে নাহার বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নাহার তার তথ্য ও প্রমাণাদি জমা দিলে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে তাকে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

আনন্দ অশ্রুসিক্ত নয়নে নাহার বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে এখন আর ভিজতে হবে না, আশ্রয় খুঁজতে হবে না। আমরা কৃতজ্ঞ জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। প্রধানমন্ত্রী যেন আবারও ক্ষমতায় যান, সেই দোয়া করি।’

ইউএনও লতিফা জান্নাতী জানান, একজন মা ও ছেলের ড্রেনের ওপর ঝুপড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু সেখানেও তিনি থাকতে পারছেন না। সেটি স্পর্শকাতর বিষয়, সবার হৃদয়ে নাড়া দেয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ১নং লাউকাঠি আবাসনে এই মা-ছেলের বসবাসের জন্য ঘর দেওয়া হলো।

তিনি আরও জানান, ১৭ একর জমিতে স্থাপিত এই আবাসনে ৩০০ পরিবারের বসবাস। সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় ভূমি ও গৃহহীনদের আবাসস্থলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি

৯৯৯-এ কল: ঘর পেলেন নাহার বেগম

আপডেট সময় ১১:২৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পটুয়াখালী পৌরসভার ড্রেনের ওপর ঝুপড়িতে বসবাসকারী স্বামী পরিত্যক্তা নাহার বেগমকে ঘর বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। গত কয়েক বছর ধরে ওই নারী তার ছেলেকে নিয়ে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের লাউকাঠী খেয়াঘাট এলাকায় ড্রেনের ওপর বসবাস করে আসছিলেন।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১নং লাউকাঠি আবাসনে নাহার বেগমের হাতে ঘরের চাবি ও কাগজপত্র তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লতিফা জান্নাতী।

নাহার বেগমের অমতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেলেও তার ও সন্তানের কোনো ভরণ-পোষণ দিচ্ছেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। নিজের আট বছরের ছেলেকে নিয়ে বাসায় বাসায় কুরআন শিখিয়ে সেই সম্মানি দিয়ে সংসার পরিচালনা করতেন তিনি।

দীর্ঘ দুই মাস করোনা পরিস্থিতিতে বাসায় বাসায় পড়ানোর কাজ বন্ধ থাকায় দিশেহারা হয়ে গত ২০ এপ্রিল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে তার কষ্টের কথা জানান নাহার।

সেখান থেকে তার কল ও তথ্য পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরীর কাছে পাঠানো হলে তিনি সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে নাহার বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নাহার তার তথ্য ও প্রমাণাদি জমা দিলে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে তাকে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

আনন্দ অশ্রুসিক্ত নয়নে নাহার বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে এখন আর ভিজতে হবে না, আশ্রয় খুঁজতে হবে না। আমরা কৃতজ্ঞ জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। প্রধানমন্ত্রী যেন আবারও ক্ষমতায় যান, সেই দোয়া করি।’

ইউএনও লতিফা জান্নাতী জানান, একজন মা ও ছেলের ড্রেনের ওপর ঝুপড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু সেখানেও তিনি থাকতে পারছেন না। সেটি স্পর্শকাতর বিষয়, সবার হৃদয়ে নাড়া দেয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ১নং লাউকাঠি আবাসনে এই মা-ছেলের বসবাসের জন্য ঘর দেওয়া হলো।

তিনি আরও জানান, ১৭ একর জমিতে স্থাপিত এই আবাসনে ৩০০ পরিবারের বসবাস। সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় ভূমি ও গৃহহীনদের আবাসস্থলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।