আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
করোনার চাপে পিষ্ট জনজীবন, সরকার করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। একদিকে জনস্বাস্থ্যের হুমকি, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অন্যদিকে জীবিকার সঙ্কট দেখা দিচ্ছে, দারিদ্র্য বাড়ছে, বাড়ছে বেকারত্ব, মানুষ হাঁসফাঁস করে উঠছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে, করোনার যে সঙ্কট, সেই সঙ্কটের এখন সূচনা মাত্র। সামনে আরো কঠিন দিন আছে।
শুধু অর্থনীতিবিদ নয়, সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সামনে একটি ভয়ার্ত সময় অপেক্ষা করছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও কতগুলো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে, যে বাস্তবতাগুলো আমাদের জন্য হবে ভয়ঙ্কর। একদিকে জনস্বাস্থ্যের হুমকি, একদিকে অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ প্রথম এরকম একটি বড় ধরনের আর্থসামাজিক এবং পূর্ণাংগ সঙ্কটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা সঙ্কট যত দীর্ঘায়িত হবে ততই আমাদের দেশে নানা সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করবে।
যে সঙ্কটগুলো বাংলাদেশে তীব্র আকার ধারণ করবে সেগুলোর দিকে একটু দৃষ্টি দেয়া যাক:
১. অসহিষ্ণুতা বাড়বে
করোনার সঙ্কটের মধ্যে দেশে বেকারত্ব তৈরি হয়েছে। মানুষের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠছে। অনেক জায়গায় ত্রাণের ট্রাক লুট করা হচ্ছে। মানুষ গাড়ি ঘিরে ধরছে। ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে মানুষ এবং দিন যত গড়াবে এই অসহিষ্ণুতা তত বাড়বে। ক্ষুদ্ধ্ব মানুষ তার অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তা বন্ধ করবে, আন্দোলন-ভাংচুর করবে, লুট করবে। এই ধরণের প্রবণতাগুলো বেড়ে যাবে এবং এর ফলে একটি আতঙ্কের রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই এই ঘটনাগুলো ঘটবে।
২. মানবতা, মানবিক মূল্যবোধ কমে যাবে
করোনার সময়ে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি দেখা যাচ্ছে, তা হলো- মানবিক সঙ্কট। করোনায় আক্রান্ত মাকে ফেলে রেখে আসা হয়েছে, আত্মীয়স্বজন দূরে সরে গেছে, পরিবারকে একঘরে করা হয়েছে, করোনার মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করেনি তার পরিবার। এই অমানবিক, হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে আসছে। করোনার সঙ্কট যত বাড়বে তত আমাদের মানবিকতা, মানবিক মূল্যবোধ কমে যাবে। আমরা ক্রমেই অমানবিক হয়ে উঠবো, মানুষের প্রতি নূন্যতম দরদ দেখানো, ভালোবাসা দেখানো বন্ধ হয়ে যাবে। বরং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে আমরা এক আত্মকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে তুলবো। যে সমাজে শুধু আমরা নিজের ভালোটাই বুঝবো। এমনকি আমরা নিজের বেঁচে থাকার জন্য মা-বোন-ভাই বা নিকটাত্মীয়কেও আমরা উপেক্ষা করতে কার্পণ্য করবো না। এরকম একটি অমানবিক সমাজ কখনো কল্যাণকামী সমাজ হতে পারে না।
৩. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে
ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা শোনা যাচ্ছে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ছিনতাই হচ্ছে। নানারকম অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি সামনে যত গড়াবে তত বাজে অবস্থা সৃষ্টি হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি দিক হচ্ছে যে, করোনায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ আক্রান্ত হচ্ছে এবং এই আক্রন্তের সংখ্যা আরো বাড়তে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার মতো লোকবলের সঙ্কট দেখা দেবে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরণের সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিজ্ঞানীরা।
৪. পারিবারিক সহিংসতা বাড়বে
করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরে থাকার কারণে ইতিমধ্যে পারিবারিক সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন বেড়েছে এবং পরবর্তী সময়ে এটা আরো বাড়বে। কারণ অভাব-অনটনের সঙ্গে এই পারিবারিক সহিংসতার একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বিবাহ বিচ্ছেদ এবং সহিংসতার ঘটনা বাড়তে থাকবে।
৫. শিশু-কিশোরদের মানসিক বিপর্যয় ঘটবে
করোনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। ঘরবন্দি হয়ে আছে শিশু-কিশোররা। তারা কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল নির্ভর হয়ে পড়ছে। এর ফলে তাদের মানসিক বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটার একটি দীর্ঘ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
করোনার কারণে এই সবকিছু মিলিয়ে একটি ভয়ঙ্কর আগামীর অপেক্ষা করছে সকলে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























