ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

আমি ঘর থেকে বের হব না, আপনি?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। ভয়াবহ এই ভাইরাসটির সংক্রমণের হাত থেকে বাদ যায়নি আমাদের বাংলাদেশও। মার্চ মাসের ৮ তারিখে সর্বপ্রথম করোনা শনাক্তের কথা ঘোষণা করে রোগতত্ত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগ।

আর এই হিসেবে ভাইরাসটির সংক্রমণের ২ মাস সময় পার হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে ভাইরাসটি সংক্রমণের ‘পিক টাইম’ বলে ঘোষণা করছে চলতি মাসকে। এই সকল বিবেচনায় আমি ঘর থেকে বের হচ্ছি না। কিন্তু আপনি?

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির কারণে আপনি, আমি, আমরা সবাই এখন গৃহবন্দী। গৃহবন্দী এখন পুরো বিশ্ব। সেইসাথে আর্থ-সামাজিক সংকট তো নতুন কিছু নয়। এই ক্ষতি ধনী, দরিদ্র থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, নিন্মমধ্যবিত্ত সবার। আপনি যেমন ক্ষতিতে, ঠিক তেমনি ক্ষতিতে আছে আপনার পাশের মানুষটি কিংবা আপনার প্রতিবেশী। শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী সবাই এখন আর্থ-সামাজিক সংকটে। কিন্তু দুর্যোগের এই সময়ে, আমাদের একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। মাথায় রাখতে হবে, বেঁচে থাকলে একদিন সব হবে।

যদি বেঁচে থাকি, তবে নতুন করে জীবন শুরু করা যাবে। যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস) আসলে আমরা কি করি? সবাই আশ্রয় কেন্দ্রের সন্ধান করি, বাঁচার তাগিদে কিংবা আকুলতায় সেখানে আশ্রয় নেই। এক্ষণ আমরা ঠিক এমন দুর্যোগের মধ্যেই বাস করছি। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এতো বিস্তৃত পরিসরে বৈশ্বিক দুর্যোগ এই প্রথম। আর তাই আমরা এর ক্ষতি অনুধাবন করতে পারছি না। তাছাড়া করোনা ভাইরাস কিংবা এর ভয়াবহতা সম্পর্কেও আমাদের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আর তাই অদৃশ্য এই শত্রু সর্বক্ষণ আমাদের পিছনে তাঁরা করে বেড়াচ্ছে।

বাঙালি, বাংলাদেশি হিসেবে বহু প্রতিকুল পরিবেশের সাথে (শত্রুর) লড়াই করার ইতিহাস আমাদের রয়েছে। কিন্তু এই শত্রু তো অদৃশ্য, হয়তো একেও আমরা মোকাবেলা করতে পারব। কিন্তু এর জন্য দরকার একটু ঘরে থাকার, আর কিছু দিন সামাজিক দূরত্ব ও কয়েকবার সাবান দিয়ে হাত ধুঁয়ার মতো সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলার। সামনেই ঈদ, জনরোষ ও ব্যবসায়িক চাপ নানা কারণেই সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককেই মার্কেট খুলে দেওয়া নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা গেছে। লক্ষ্য করা গেছে জামা কিনতে আপনজন ও প্রিয়জনদের নিরুৎসাহিত করতে। আবার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়। একবার ভাবেন তো এই একটি বৎসর নতুন জামা পড়ে ঈদ যদি না-ই করি তাতে কি এমন ক্ষতি হবে আমাদের। অদৃশ্য শত্রুর সাথে কেন বীরত্ব দেখাব? কেন শুধু জামার জন্য নিজের পরিবার, পরিচিতজনদের ঝুঁকিতে ফেলব? কেন সৃষ্টিজগতের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণী হয়েও বোকার মত আচরণ করব? বেঁচে থাকলে আমাদের জীবনে অনেক ঈদ আসবে, অনেক উৎসব আসবে, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে শোভিত হয়ে আসবে অনেক বসন্ত। তখন না হয় আপনি, আমি, আমরা সবাই মিলে উৎসব করব। সবাই মিলে আবার হৈ হুল্লোড় করব। সবাই মিলে তৈরি করব আনন্দের বিশাল স্রোত কিংবা আনন্দের ঝর্ণাধারা।
আর আর্থ-সামাজিক ক্ষতির কথা ভাবছেন? ভুলে যাবেন না কয়েক দশক আগেও আমরা একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ছিলাম। পৃথিবীর অসংখ্য দেশ বাংলাদেশের নামই জানত না। আমরা কি ঘুরে দাঁড়াইনি? করোনা শেষে আবার দাঁড়াব। আমরা সবাই মিলে, একসাথে কাঁধে কাঁধ রেখে নতুন করে গড়ে তুলব আমাদের অর্থনীতি। আপনি, আমি আমরা সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে দূর করব আমাদের সকল আর্থ-সামাজিক সংকট। যদি বেঁচে থাকি গুনগুণ করে আবার গাইব গান। যদি বেঁচে থাকি কবি সুকান্তের সাথে কোরাস করে বলব, …সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

আমি ঘর থেকে বের হব না, আপনি?

আপডেট সময় ১২:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। ভয়াবহ এই ভাইরাসটির সংক্রমণের হাত থেকে বাদ যায়নি আমাদের বাংলাদেশও। মার্চ মাসের ৮ তারিখে সর্বপ্রথম করোনা শনাক্তের কথা ঘোষণা করে রোগতত্ত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগ।

আর এই হিসেবে ভাইরাসটির সংক্রমণের ২ মাস সময় পার হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে ভাইরাসটি সংক্রমণের ‘পিক টাইম’ বলে ঘোষণা করছে চলতি মাসকে। এই সকল বিবেচনায় আমি ঘর থেকে বের হচ্ছি না। কিন্তু আপনি?

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির কারণে আপনি, আমি, আমরা সবাই এখন গৃহবন্দী। গৃহবন্দী এখন পুরো বিশ্ব। সেইসাথে আর্থ-সামাজিক সংকট তো নতুন কিছু নয়। এই ক্ষতি ধনী, দরিদ্র থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, নিন্মমধ্যবিত্ত সবার। আপনি যেমন ক্ষতিতে, ঠিক তেমনি ক্ষতিতে আছে আপনার পাশের মানুষটি কিংবা আপনার প্রতিবেশী। শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী সবাই এখন আর্থ-সামাজিক সংকটে। কিন্তু দুর্যোগের এই সময়ে, আমাদের একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। মাথায় রাখতে হবে, বেঁচে থাকলে একদিন সব হবে।

যদি বেঁচে থাকি, তবে নতুন করে জীবন শুরু করা যাবে। যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস) আসলে আমরা কি করি? সবাই আশ্রয় কেন্দ্রের সন্ধান করি, বাঁচার তাগিদে কিংবা আকুলতায় সেখানে আশ্রয় নেই। এক্ষণ আমরা ঠিক এমন দুর্যোগের মধ্যেই বাস করছি। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এতো বিস্তৃত পরিসরে বৈশ্বিক দুর্যোগ এই প্রথম। আর তাই আমরা এর ক্ষতি অনুধাবন করতে পারছি না। তাছাড়া করোনা ভাইরাস কিংবা এর ভয়াবহতা সম্পর্কেও আমাদের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আর তাই অদৃশ্য এই শত্রু সর্বক্ষণ আমাদের পিছনে তাঁরা করে বেড়াচ্ছে।

বাঙালি, বাংলাদেশি হিসেবে বহু প্রতিকুল পরিবেশের সাথে (শত্রুর) লড়াই করার ইতিহাস আমাদের রয়েছে। কিন্তু এই শত্রু তো অদৃশ্য, হয়তো একেও আমরা মোকাবেলা করতে পারব। কিন্তু এর জন্য দরকার একটু ঘরে থাকার, আর কিছু দিন সামাজিক দূরত্ব ও কয়েকবার সাবান দিয়ে হাত ধুঁয়ার মতো সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলার। সামনেই ঈদ, জনরোষ ও ব্যবসায়িক চাপ নানা কারণেই সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককেই মার্কেট খুলে দেওয়া নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা গেছে। লক্ষ্য করা গেছে জামা কিনতে আপনজন ও প্রিয়জনদের নিরুৎসাহিত করতে। আবার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়। একবার ভাবেন তো এই একটি বৎসর নতুন জামা পড়ে ঈদ যদি না-ই করি তাতে কি এমন ক্ষতি হবে আমাদের। অদৃশ্য শত্রুর সাথে কেন বীরত্ব দেখাব? কেন শুধু জামার জন্য নিজের পরিবার, পরিচিতজনদের ঝুঁকিতে ফেলব? কেন সৃষ্টিজগতের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণী হয়েও বোকার মত আচরণ করব? বেঁচে থাকলে আমাদের জীবনে অনেক ঈদ আসবে, অনেক উৎসব আসবে, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে শোভিত হয়ে আসবে অনেক বসন্ত। তখন না হয় আপনি, আমি, আমরা সবাই মিলে উৎসব করব। সবাই মিলে আবার হৈ হুল্লোড় করব। সবাই মিলে তৈরি করব আনন্দের বিশাল স্রোত কিংবা আনন্দের ঝর্ণাধারা।
আর আর্থ-সামাজিক ক্ষতির কথা ভাবছেন? ভুলে যাবেন না কয়েক দশক আগেও আমরা একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ছিলাম। পৃথিবীর অসংখ্য দেশ বাংলাদেশের নামই জানত না। আমরা কি ঘুরে দাঁড়াইনি? করোনা শেষে আবার দাঁড়াব। আমরা সবাই মিলে, একসাথে কাঁধে কাঁধ রেখে নতুন করে গড়ে তুলব আমাদের অর্থনীতি। আপনি, আমি আমরা সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে দূর করব আমাদের সকল আর্থ-সামাজিক সংকট। যদি বেঁচে থাকি গুনগুণ করে আবার গাইব গান। যদি বেঁচে থাকি কবি সুকান্তের সাথে কোরাস করে বলব, …সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।