ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

সব দোষই কি শেখ হাসিনার!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের যে খবর এসেছে বাস্তবে তাঁর চেয়ে বেশি সংখ্যায় সংক্রমিত হয়েছে। কারণ করোনাভাইরাসের পরীক্ষার রেজাল্ট পেতে সময় লাগে। এছাড়া নতুন নতুন যে সন স্থানে সে সব স্থানে দক্ষ কর্মীদের পরীক্ষার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্রিফিং অনুসারে ঢাকা মহানগরীতেই করোনাভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৭৮০ জন, ঢাকা জেলায় ১১৫ জন, গাজীপুরে ৩২৫ জন আর নারায়ণগঞ্জে ১,০২১ জন। ঢাকার সাভারে গতকালই আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন শ্রমিক। সারা বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮৬ জন, যা ৫,৭১১ জনের পরীক্ষা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। উপরের এগুলো সরকারের দেওয়া তথ্য। এর বাইরেও অনেক কথা থেকে যায় সেটা একটু আলোচনায় এনে দেখা যেতে পারে।

আমরা বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর দেখেছি যে, অনেকেই তথ্য গোপন করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ডাক্তার সহ বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্য কর্মীকে করোনা সংক্রমণে ফেলেছেন। অনেকে রোগ ধরা পড়ার পরেও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিদেশ থেকে এসেও পাসপোর্টে দেওয়া ঠিকানায় না থেকে অন্যখানে অবস্থান করছেন যাতে তাকে কোয়ারেন্টিনে না রাখা যায়। জনসাধারণকে ঘরে রাখার কাজে রাস্তায় থেকে প্রায় হাজার খানেক পুলিশ সদস্য ইতোমধ্যেই সংক্রমিত হয়েছেন। সংক্রমিত হয়েছেন ব্যাঙ্ক কর্মী, জরুরী পণ্য সরবরাহে নিয়োজিত অনেক পেশার আর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

ঈদ উপলক্ষে সুপার মার্কেট খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ প্রচণ্ড। সরকার বলেছেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে মার্কেট দিনের বেলায় খোলা যায়। কেউ কেউ খোলার পক্ষে থাকলেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন। কেউ বলছেন খুলবে, কেউ বলছেন খুলবে না সুপার মার্কেট, এই ঈদকে সামনে রেখে। কারণ বেচাকেনায় দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তবে একটা অবাক করা তথ্য এসেছে গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের থেকে। তাঁদের অনেকের সত্যি বিদেশি অর্ডার আছে। কিন্তু অনেকেরই বিদেশি অর্ডার নেই বা বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু সবাই সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার টাকা নিতে চান। তাই পাইকারী হারে গার্মেন্টস খুলে তারা তাঁদের ব্যাংকেই ঋণের কিস্তি জমা দিতে চান, শ্রমিকদের বেতন তাঁদের কাছে মুখ্য নয়। যারা এমন অসৎ উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস খুলেছেন তাঁরা তাঁদের কারখানায় মিনিমাম স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই শ্রমিকদের কাজে লাগাচ্ছেন। ফলে সেখানে সংক্রমণের তথ্য গোপন করা হচ্ছে।

সব পেশার সকল মানুষ যেমন ভাল না তেমনি সব পেশার সকল মানুষও খারাপ না। তাই অভাবী কারখানা শ্রমিকেরা যখন তাঁদের বকেয়া বেতনের দাবিতে মিছিল সংগ্রাম করছে তখন শিল্প পুলিশ তাঁদের উপর নির্মম, নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারছেন না। এতেই অনুমান করা যায় যে বিশ্ব মানে কিছু গার্মেন্টস বা অন্য কিছু শিল্প কারখানা যেমন স্বাস্থ্য বিধি মেনে কারখানা চালাচ্ছেন, বেতন দিচ্ছেন, তেমনি কিছু কারখানা যে বেতন দিচ্ছে না তাঁর প্রমাণ এই শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল।

মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের প্রকাশিত হার দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে করোনার সংক্রমণ নাগালের বাইরে চলে গেছে। শুধু সংক্রমণের হারের কারণ নয়, বাংলাদেশে যখন করোনার পিক সিজন শুরু হলো, তখনই সামাজিক সংক্রমণ ঠেকানোর যে কঠোরতা আরোপ করা উচিত ছিল তার বিপরীত অবস্থায় আমরা গেছি। শারীরিক দূরত্ব বা সামাজিক মেলামেশার ব্যাপারে আমরা শিথিলতা করেছি। গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে, শপিং মল খুলে দেওয়া হচ্ছে, দোকান পাট খোলা হয়েছে। কার্যত সামাজিক দূরত্বের বা লকডাউনের চিহ্নমাত্র নেই। এর ফলে করোনা পরিস্থিতিতে একটি ভয়াবহ পরিণতির দিকে বাংলাদেশ যাচ্ছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টার যে ফলাফল সেটিও আতঙ্কজনক ও উদ্বেগজনক। গত এক দিনে ৫ হাজার ৭১১ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শতকরা হারে যদি আমরা দেখি তাহলে দেখবো যে ১৩.৭৬ হারে মানুষ করোনায় শনাক্ত হয়েছে।এ পর্যন্ত মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৩৫২ জনের। তাতেই যদি আমরা হিসেব করে দেখি যে, ১১.৭০ হারে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই জনস্বাস্থ্যের সংকট যদি বাংলাদেশে থাকে, তাহলে আমাদের সার্বিক অবস্থা একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে।

বিভিন্ন পেশাজীবীদের এই একচোখা আচরণে যদি আমাদের দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ইউরোপ আমেরিকার মত ভয়াবহ রূপ নেয় তখন সবাই সরকারকে, শেখ হাসিনাকে দোষ দেবেন তাতে সন্দেহ নেই। কারণ তাঁদের হাতে আছে বামাতি, জামাতি আর দেশি বিদেশী সোশ্যাল মিডিয়া। এই অবস্থা অনুমান করে ভারতীয় একটা সিনেমার কাহিনী মনে পড়ে, যা আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থার সাথে খুব প্রাসঙ্গিক।

বিপত্নীক জ্যাকি শ্রফের দুই মেয়ে। একজনের বয়স ১৮ আরেকজন ১৬। বড় মেয়েটি প্রেমে পড়েছে এক দুষ্টু ছেলের সাথে। বড় মেয়ে ঐ ছেলের সাথেই বিয়ে করবে। মেয়েটি তাঁর বাবা জ্যাকি শ্রফকে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানালো। জ্যাকি শ্রফ বললেন যে, তাঁর জানা মতে ছেলেটি পারিবারিকভাবেই খুব খারাপ। সেখানে তাই বিয়ে করা ঠিক হবে না। মেয়ে জ্যাকি শ্রফকে হুমকি দিয়ে বলল সে সাবালিকা, এই বিয়ে না দিলে সে থানায় পুলিশের কাছে যাবে। অগত্যা জ্যাকি শ্রফ ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেয়েকে বিয়ে দিলেন। বিয়ের পরে মেয়ে ৩ মাস আর বাবার বাড়িতে ফিরলো না। ৩ মাস পরে একদিন জ্যাকি শ্রফ বাইরে থেকে এসে বাসায় ঢুকেই দেখেন তাঁর বড় মেয়ে একটা ছেড়া জামা পরে বসে আছে। সারা শরীরে চরম নির্যাতনের চিহ্ন। বাবাকে দেখেই মেয়ে হাউ মাউ করে কেঁদে বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলতে লাগলো, তুমি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছো, সব দোষ তোমার। আমি তো ছোট ছিলাম, আমি ভুল করে, জিদ করে অন্যায় আবদার করতেই পারি, তুমি কেন কঠোর হলে না। জ্যাকি শ্রফ মেয়ের থানায় পুলিশের কাছে যাবার হুমকির কথা না তুলে চুপ করে গেলেন। আসলে তিনি তো বাবা, তাই।

দেশে আগামীতে করোনা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিলে শেখ হাসিনার অবস্থাও জ্যাকি শ্রফের মত হবে বলে অনুমান করা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

সব দোষই কি শেখ হাসিনার!

আপডেট সময় ০৮:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের যে খবর এসেছে বাস্তবে তাঁর চেয়ে বেশি সংখ্যায় সংক্রমিত হয়েছে। কারণ করোনাভাইরাসের পরীক্ষার রেজাল্ট পেতে সময় লাগে। এছাড়া নতুন নতুন যে সন স্থানে সে সব স্থানে দক্ষ কর্মীদের পরীক্ষার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্রিফিং অনুসারে ঢাকা মহানগরীতেই করোনাভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৭৮০ জন, ঢাকা জেলায় ১১৫ জন, গাজীপুরে ৩২৫ জন আর নারায়ণগঞ্জে ১,০২১ জন। ঢাকার সাভারে গতকালই আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন শ্রমিক। সারা বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮৬ জন, যা ৫,৭১১ জনের পরীক্ষা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। উপরের এগুলো সরকারের দেওয়া তথ্য। এর বাইরেও অনেক কথা থেকে যায় সেটা একটু আলোচনায় এনে দেখা যেতে পারে।

আমরা বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর দেখেছি যে, অনেকেই তথ্য গোপন করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ডাক্তার সহ বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্য কর্মীকে করোনা সংক্রমণে ফেলেছেন। অনেকে রোগ ধরা পড়ার পরেও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিদেশ থেকে এসেও পাসপোর্টে দেওয়া ঠিকানায় না থেকে অন্যখানে অবস্থান করছেন যাতে তাকে কোয়ারেন্টিনে না রাখা যায়। জনসাধারণকে ঘরে রাখার কাজে রাস্তায় থেকে প্রায় হাজার খানেক পুলিশ সদস্য ইতোমধ্যেই সংক্রমিত হয়েছেন। সংক্রমিত হয়েছেন ব্যাঙ্ক কর্মী, জরুরী পণ্য সরবরাহে নিয়োজিত অনেক পেশার আর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

ঈদ উপলক্ষে সুপার মার্কেট খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ প্রচণ্ড। সরকার বলেছেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে মার্কেট দিনের বেলায় খোলা যায়। কেউ কেউ খোলার পক্ষে থাকলেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন। কেউ বলছেন খুলবে, কেউ বলছেন খুলবে না সুপার মার্কেট, এই ঈদকে সামনে রেখে। কারণ বেচাকেনায় দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তবে একটা অবাক করা তথ্য এসেছে গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের থেকে। তাঁদের অনেকের সত্যি বিদেশি অর্ডার আছে। কিন্তু অনেকেরই বিদেশি অর্ডার নেই বা বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু সবাই সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার টাকা নিতে চান। তাই পাইকারী হারে গার্মেন্টস খুলে তারা তাঁদের ব্যাংকেই ঋণের কিস্তি জমা দিতে চান, শ্রমিকদের বেতন তাঁদের কাছে মুখ্য নয়। যারা এমন অসৎ উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস খুলেছেন তাঁরা তাঁদের কারখানায় মিনিমাম স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই শ্রমিকদের কাজে লাগাচ্ছেন। ফলে সেখানে সংক্রমণের তথ্য গোপন করা হচ্ছে।

সব পেশার সকল মানুষ যেমন ভাল না তেমনি সব পেশার সকল মানুষও খারাপ না। তাই অভাবী কারখানা শ্রমিকেরা যখন তাঁদের বকেয়া বেতনের দাবিতে মিছিল সংগ্রাম করছে তখন শিল্প পুলিশ তাঁদের উপর নির্মম, নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারছেন না। এতেই অনুমান করা যায় যে বিশ্ব মানে কিছু গার্মেন্টস বা অন্য কিছু শিল্প কারখানা যেমন স্বাস্থ্য বিধি মেনে কারখানা চালাচ্ছেন, বেতন দিচ্ছেন, তেমনি কিছু কারখানা যে বেতন দিচ্ছে না তাঁর প্রমাণ এই শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল।

মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের প্রকাশিত হার দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে করোনার সংক্রমণ নাগালের বাইরে চলে গেছে। শুধু সংক্রমণের হারের কারণ নয়, বাংলাদেশে যখন করোনার পিক সিজন শুরু হলো, তখনই সামাজিক সংক্রমণ ঠেকানোর যে কঠোরতা আরোপ করা উচিত ছিল তার বিপরীত অবস্থায় আমরা গেছি। শারীরিক দূরত্ব বা সামাজিক মেলামেশার ব্যাপারে আমরা শিথিলতা করেছি। গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে, শপিং মল খুলে দেওয়া হচ্ছে, দোকান পাট খোলা হয়েছে। কার্যত সামাজিক দূরত্বের বা লকডাউনের চিহ্নমাত্র নেই। এর ফলে করোনা পরিস্থিতিতে একটি ভয়াবহ পরিণতির দিকে বাংলাদেশ যাচ্ছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টার যে ফলাফল সেটিও আতঙ্কজনক ও উদ্বেগজনক। গত এক দিনে ৫ হাজার ৭১১ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শতকরা হারে যদি আমরা দেখি তাহলে দেখবো যে ১৩.৭৬ হারে মানুষ করোনায় শনাক্ত হয়েছে।এ পর্যন্ত মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৩৫২ জনের। তাতেই যদি আমরা হিসেব করে দেখি যে, ১১.৭০ হারে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই জনস্বাস্থ্যের সংকট যদি বাংলাদেশে থাকে, তাহলে আমাদের সার্বিক অবস্থা একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে।

বিভিন্ন পেশাজীবীদের এই একচোখা আচরণে যদি আমাদের দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ইউরোপ আমেরিকার মত ভয়াবহ রূপ নেয় তখন সবাই সরকারকে, শেখ হাসিনাকে দোষ দেবেন তাতে সন্দেহ নেই। কারণ তাঁদের হাতে আছে বামাতি, জামাতি আর দেশি বিদেশী সোশ্যাল মিডিয়া। এই অবস্থা অনুমান করে ভারতীয় একটা সিনেমার কাহিনী মনে পড়ে, যা আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থার সাথে খুব প্রাসঙ্গিক।

বিপত্নীক জ্যাকি শ্রফের দুই মেয়ে। একজনের বয়স ১৮ আরেকজন ১৬। বড় মেয়েটি প্রেমে পড়েছে এক দুষ্টু ছেলের সাথে। বড় মেয়ে ঐ ছেলের সাথেই বিয়ে করবে। মেয়েটি তাঁর বাবা জ্যাকি শ্রফকে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানালো। জ্যাকি শ্রফ বললেন যে, তাঁর জানা মতে ছেলেটি পারিবারিকভাবেই খুব খারাপ। সেখানে তাই বিয়ে করা ঠিক হবে না। মেয়ে জ্যাকি শ্রফকে হুমকি দিয়ে বলল সে সাবালিকা, এই বিয়ে না দিলে সে থানায় পুলিশের কাছে যাবে। অগত্যা জ্যাকি শ্রফ ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেয়েকে বিয়ে দিলেন। বিয়ের পরে মেয়ে ৩ মাস আর বাবার বাড়িতে ফিরলো না। ৩ মাস পরে একদিন জ্যাকি শ্রফ বাইরে থেকে এসে বাসায় ঢুকেই দেখেন তাঁর বড় মেয়ে একটা ছেড়া জামা পরে বসে আছে। সারা শরীরে চরম নির্যাতনের চিহ্ন। বাবাকে দেখেই মেয়ে হাউ মাউ করে কেঁদে বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলতে লাগলো, তুমি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছো, সব দোষ তোমার। আমি তো ছোট ছিলাম, আমি ভুল করে, জিদ করে অন্যায় আবদার করতেই পারি, তুমি কেন কঠোর হলে না। জ্যাকি শ্রফ মেয়ের থানায় পুলিশের কাছে যাবার হুমকির কথা না তুলে চুপ করে গেলেন। আসলে তিনি তো বাবা, তাই।

দেশে আগামীতে করোনা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিলে শেখ হাসিনার অবস্থাও জ্যাকি শ্রফের মত হবে বলে অনুমান করা যায়।