লাশের কাছে আসেনি কেউ, দাফন করলো পুলিশ

138

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ফরিদপুরের আইভি আক্তারের (২২) লাশ দাফন নিয়ে চলে নানা বিপত্তি। স্বামীর বাড়ি রাজবাড়ীতে লাশটি নিয়ে যাওয়া হলে স্থানীয়রা লাশ দাফনে বাধা প্রদান করেন। পরে আইভির বাবার বাড়িতে লাশ আনা হলে সেখানেও ঘটে এই ঘটনা।

স্থানীয়রা প্রবল আপত্তি জানায় তাদের এলাকায় লাশ দাফনে। স্থানীয় এলাকাবাসী তো নয়ই, লাশের কাছে আসেনি আইভির স্বজনেরাও। কিন্তু লাশ দাফনে কেউ এগিয়ে না এলেও খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ। থানার ওসি মোর্শেদুল আলমের নেতৃত্বে আইভির লাশটি দাফন করা হয়।

জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামের আদেল মিয়ার কন্যা আইভি আক্তারের বিয়ে হয় পাশ্ববর্তী রাজবাড়ী জেলায়। গত এপ্রিল মাসে রাজবাড়ীতে স্বামীর বাড়ীতে অবস্থানকালীন সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয় আইভি। ২০ এপ্রিল আইভির স্বামী বাবুল শেখ ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে তাকে ভর্তি করান। এরপর আইভি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৩ মে রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আইভি।

তাকে দাফনের জন্য স্বামীর বাড়ি রাজবাড়ী জেলায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার লোকজন লাশ দাফনে বাধা প্রদান করে। স্থানীয়দের প্রবল বাধার মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে আইভির লাশ তার বাবার বাড়ি ফরিদপুরের দয়রামপুর গ্রামে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এখানেও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে লাশটি দাফনে।

আইভির লাশটি দ্রুত নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয়রা চাপ সৃষ্টি করলে বেশ অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় আইভির স্বজনদের। এ সময় কোতয়ালী থানা পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কোতয়ালী থানার ওসি মোর্শেদুল আলম স্থানীয়দের বুঝিয়ে লাশটি দাফনের ব্যবস্থা করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয়রা কেউই লাশটি দাফনে এগিয়ে আসেনি। পরে ওসির নেতৃত্বে এক এসআই ও ৪ কনস্টেবল আইভির লাশটি দাফন করেন।

কোতয়ালী থানার ওসি মোর্শেদুল আলম জানান, আইভি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে থাকা তার স্বামী ও তার দেবর-ননদেরা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি। রাজবাড়ীর লোকজন তাদের বাড়িতে উঠতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে তারা আইভির বাবার বাড়িতে চলে আসে। সেখানেই তারা ছিলেন। যদিও আইভির বাবা আদেল মিয়ার বাড়িটি লকডাউন করা হয়। সেই সময় থেকে তাদের খাদ্য সামগ্রীসহ সব ধরনের সহায়তা করে পুলিশ। আইভি মারা যাবার পর স্বামীর বাড়ি রাজবাড়ীতে লাশটি নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে লাশ দাফনে বাধা দেওয়া হয়। পরে ফরিদপুরে লাশটি আনা হলে একই ধরনের সমস্যায় পড়েন। পরে তিনি এবং এসআই আনোয়ারসহ ৪ কনস্টেবল আইভির লাশটি রবিবার রাতে দাফন করেন।