ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রার আগেই মহাসড়কে দুর্ভোগ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদযাত্রা শুরুর আগেই মহাসড়কগুলোতে শুরু হয়ে গেছে ভয়াবহ যানজট। টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে দেশের মহাসড়কগুলো। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে যান। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা, দাউদকান্দি সেতুতে টোল আদায়ে বিলম্ব আর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরি সংকটে মহাসড়কে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। উত্তরাঞ্চলের পথে সিরাজগঞ্জে সড়ক সংস্কারের কারণে যানজট নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের পূর্ব, উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো মহাসড়কে সুখবর নেই। সব মিলিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় ঈদে ঘরমুখো মানুষ। যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জোর দিয়ে বলছেন যে কোনো মূল্যে ঈদযাত্রা নিরবচ্ছিন্ন করা হবে।

আজ শুক্রবার থেকে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলা শহরমুখী যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ বাড়বে। সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে রাজধানীসহ বড় বড় শহরমুখী কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়বে। সঙ্গে যদি প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করে তাহলে মহাসড়কের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভাবার বাইরে। এ পরিস্থিতিতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের একমাত্র ভরসা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ঘোষণা।

সড়কের খানাখন্দ, অবৈধ পার্কিং আর উন্নয়ন কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গত কয়েকদিন ধরেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এ তিন মহাসড়কে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মেঘনা-গোমতী সেতু থেকে যানজট দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেতুর পণ্যবাহী যানের টোল আদায়ে দেরির কারণে এ যানজটের একটি অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ করেছে সাধারণ যাত্রী ও চালকরা। বুধবার রাতে মেঘনা-গোমতী সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাস বিকল হয়ে মাঝ পথে আটকে যায়। যার ফলে মহাসড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় থেকেই যানজটের শুরু হয়। যা গতকাল সারাদিন একই অবস্থায় ছিল। সেতুর অপর পাশে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, মহাসড়কের চার লেনের গাড়িগুলো দুই লেনে দুই সেতুতে ধীর গতিতে প্রবেশ করতে সময় লেগে যায়। তার ওপরে রয়েছে গাড়ির অতিরিক্ত চাপ। যানজট নিরসনে আমরা আপ্রাণ চেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। খানাখন্দ মেরামত শুরু করা হয়েছে। কিন্তু এই সংস্কার কাজের কারণেই মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির দাঁড়িয়ে থাকছে যানবাহনগুলো। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে। এলেঙ্গা থেকে যানজট শুরু হয়ে করটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত যানজট থাকছে।

যানজটের কারণে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সড়কটির যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভোর ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের ধেরুয়া রেলক্রসিং এলাকায় একটি ট্রাকের এক্সেল ভেঙে বিকল হয়ে যায়। এ ছাড়া একই এলাকায় আরো তিনটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ওই মহাসড়কে সব ধরনের গাড়ি চলাচল প্রায় থেমে যায়, সৃষ্টি হয় যানজট। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় গাড়ি সরানো হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। তবে গাড়ি চলাচল শুরু হলেও গাড়ির গতি আর বাড়েনি।

সফিপুর, মৌচাক, চন্দ্রাসহ বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া কোনাবাড়ি ও কালিয়াকৈর এলাকায় রাস্তা সংস্কার কাজ চলায়ও গাড়ি চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। এর প্রভাব জয়দেবপুর-চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস সড়কেও।

এদিকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে শুধু মহাসড়ক নয়, আঞ্চলিক সড়কেরও বেহাল অবস্থা। প্রতিটি সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঢাকা-বগুড়া ও বগুড়া-নগরবাড়ী এবং হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে থেমে থেমে চলছে যানজট।

সিরাজগঞ্জ জেলার হাটিকুমরুল মোড়, উল্লাপাড়া, চান্দাইকোনা-ঘুড়কা ও হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়কের মহিষলুটি-খালকুলা মহাসড়কের বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণ প্রবল বৃষ্টিতে উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা, উত্তরবঙ্গ, রাজশাহী ও খুলনার দিকে প্রতিদিন প্রায় ১৫-১৬ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের ছুটিতে সড়ক-মহাসড়কে গাড়ির চাপ আরো বেড়ে যায়। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী জানান, মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলায় ঢাকা-বগুড়া ও বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের কিছু পয়েন্টে মাঝে মধ্যে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে।

অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির দিকে যেমন যানজট তেমনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে শুরু করে বন্দরের মদনপুর হয়ে শিমরাইল সাইনবোর্ড পর্যন্ত গত বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ না হলেও সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে মাত্রাতিরিক্ত যানজট ছিল। এতে কর্মব্যস্ত মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক যাত্রী হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়েছে। কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া শিমরাইল থেকে কাঁচপুর ও মদনপুর এলাকায় দুটি সিগন্যাল পার হয়ে আসতে হয়েছে। ফলে যানজট আরো দীর্ঘ হয়েছে।

এদিকে এই মহাসড়কগুলো দিয়ে যারা ঈদে বাড়ি যাবেন না তারাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে এসে। ফেরি সংকট, অকেজো পন্টুন, পদ্মা নদীতে তীব্র সে াতসহ কারণের কোনো শেষ নেই। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সমস্যার কারণে অতিরিক্ত টাকাসহ ফেরি পার হতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকট থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী পরিবহনের দুটি সারি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে যানবাহনও। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পারাপার হতে আসা সাধারণ মানুষ।

ট্রাক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেরি ঘাট থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় নামক স্থানে প্রথমে আটকা থাকতে হয়। ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গাড়ির সারি মহাসড়কের ৪ কিলোমিটারের কম হলে গোয়ালন্দ মোড় থেকে ছেড়ে আসতে হয়। এখানে এসে আবার ফেরি পারের জন্য ২-৩ দিন সিরিয়ালে থাকতে হয়।
তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক অপু বলেন, ঈদের আগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৯-২০টি ছোট-বড় ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করবে। প্রাকৃতিক বড় কোনো সমস্যা না হলে ঈদে গাড়ি ও গবাদি পশু পারাপারে কোনো সমস্যা হবে না।

মানবকণ্ঠের কুমিল্লা, দাউদকান্দি, গোয়ালন্দ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদযাত্রার আগেই মহাসড়কে দুর্ভোগ

আপডেট সময় ১০:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদযাত্রা শুরুর আগেই মহাসড়কগুলোতে শুরু হয়ে গেছে ভয়াবহ যানজট। টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে দেশের মহাসড়কগুলো। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে যান। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা, দাউদকান্দি সেতুতে টোল আদায়ে বিলম্ব আর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরি সংকটে মহাসড়কে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। উত্তরাঞ্চলের পথে সিরাজগঞ্জে সড়ক সংস্কারের কারণে যানজট নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের পূর্ব, উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো মহাসড়কে সুখবর নেই। সব মিলিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় ঈদে ঘরমুখো মানুষ। যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জোর দিয়ে বলছেন যে কোনো মূল্যে ঈদযাত্রা নিরবচ্ছিন্ন করা হবে।

আজ শুক্রবার থেকে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলা শহরমুখী যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ বাড়বে। সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে রাজধানীসহ বড় বড় শহরমুখী কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়বে। সঙ্গে যদি প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করে তাহলে মহাসড়কের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভাবার বাইরে। এ পরিস্থিতিতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের একমাত্র ভরসা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ঘোষণা।

সড়কের খানাখন্দ, অবৈধ পার্কিং আর উন্নয়ন কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গত কয়েকদিন ধরেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এ তিন মহাসড়কে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মেঘনা-গোমতী সেতু থেকে যানজট দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেতুর পণ্যবাহী যানের টোল আদায়ে দেরির কারণে এ যানজটের একটি অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ করেছে সাধারণ যাত্রী ও চালকরা। বুধবার রাতে মেঘনা-গোমতী সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাস বিকল হয়ে মাঝ পথে আটকে যায়। যার ফলে মহাসড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় থেকেই যানজটের শুরু হয়। যা গতকাল সারাদিন একই অবস্থায় ছিল। সেতুর অপর পাশে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, মহাসড়কের চার লেনের গাড়িগুলো দুই লেনে দুই সেতুতে ধীর গতিতে প্রবেশ করতে সময় লেগে যায়। তার ওপরে রয়েছে গাড়ির অতিরিক্ত চাপ। যানজট নিরসনে আমরা আপ্রাণ চেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। খানাখন্দ মেরামত শুরু করা হয়েছে। কিন্তু এই সংস্কার কাজের কারণেই মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির দাঁড়িয়ে থাকছে যানবাহনগুলো। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে। এলেঙ্গা থেকে যানজট শুরু হয়ে করটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত যানজট থাকছে।

যানজটের কারণে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সড়কটির যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভোর ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের ধেরুয়া রেলক্রসিং এলাকায় একটি ট্রাকের এক্সেল ভেঙে বিকল হয়ে যায়। এ ছাড়া একই এলাকায় আরো তিনটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ওই মহাসড়কে সব ধরনের গাড়ি চলাচল প্রায় থেমে যায়, সৃষ্টি হয় যানজট। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় গাড়ি সরানো হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। তবে গাড়ি চলাচল শুরু হলেও গাড়ির গতি আর বাড়েনি।

সফিপুর, মৌচাক, চন্দ্রাসহ বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া কোনাবাড়ি ও কালিয়াকৈর এলাকায় রাস্তা সংস্কার কাজ চলায়ও গাড়ি চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। এর প্রভাব জয়দেবপুর-চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস সড়কেও।

এদিকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে শুধু মহাসড়ক নয়, আঞ্চলিক সড়কেরও বেহাল অবস্থা। প্রতিটি সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঢাকা-বগুড়া ও বগুড়া-নগরবাড়ী এবং হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে থেমে থেমে চলছে যানজট।

সিরাজগঞ্জ জেলার হাটিকুমরুল মোড়, উল্লাপাড়া, চান্দাইকোনা-ঘুড়কা ও হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়কের মহিষলুটি-খালকুলা মহাসড়কের বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণ প্রবল বৃষ্টিতে উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা, উত্তরবঙ্গ, রাজশাহী ও খুলনার দিকে প্রতিদিন প্রায় ১৫-১৬ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের ছুটিতে সড়ক-মহাসড়কে গাড়ির চাপ আরো বেড়ে যায়। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী জানান, মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলায় ঢাকা-বগুড়া ও বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের কিছু পয়েন্টে মাঝে মধ্যে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে।

অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির দিকে যেমন যানজট তেমনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে শুরু করে বন্দরের মদনপুর হয়ে শিমরাইল সাইনবোর্ড পর্যন্ত গত বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ না হলেও সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে মাত্রাতিরিক্ত যানজট ছিল। এতে কর্মব্যস্ত মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক যাত্রী হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়েছে। কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া শিমরাইল থেকে কাঁচপুর ও মদনপুর এলাকায় দুটি সিগন্যাল পার হয়ে আসতে হয়েছে। ফলে যানজট আরো দীর্ঘ হয়েছে।

এদিকে এই মহাসড়কগুলো দিয়ে যারা ঈদে বাড়ি যাবেন না তারাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে এসে। ফেরি সংকট, অকেজো পন্টুন, পদ্মা নদীতে তীব্র সে াতসহ কারণের কোনো শেষ নেই। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সমস্যার কারণে অতিরিক্ত টাকাসহ ফেরি পার হতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকট থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী পরিবহনের দুটি সারি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে যানবাহনও। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পারাপার হতে আসা সাধারণ মানুষ।

ট্রাক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেরি ঘাট থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় নামক স্থানে প্রথমে আটকা থাকতে হয়। ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গাড়ির সারি মহাসড়কের ৪ কিলোমিটারের কম হলে গোয়ালন্দ মোড় থেকে ছেড়ে আসতে হয়। এখানে এসে আবার ফেরি পারের জন্য ২-৩ দিন সিরিয়ালে থাকতে হয়।
তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক অপু বলেন, ঈদের আগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৯-২০টি ছোট-বড় ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করবে। প্রাকৃতিক বড় কোনো সমস্যা না হলে ঈদে গাড়ি ও গবাদি পশু পারাপারে কোনো সমস্যা হবে না।

মানবকণ্ঠের কুমিল্লা, দাউদকান্দি, গোয়ালন্দ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।