ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগীরা, ডাক্তারও দেখছে দায়সারাভাবে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। প্রতিটি মানুষের ভেতর বাসা বেঁধেছে মৃত্যু ভয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের হওয়ায় বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধছে মানবদেহে। অথচ সামাজিক নিরাপদ দূরুত্বের কারণে রোগীরা হাসপাতালে যেমন সঠিক চিকিৎসা নিতে পারছেন না, ঠিক তেমনি করোনার ভয়ে ডাক্তাররাও রোগী দেখছেন দায়সারাভাবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কয়েকজন রোগীকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা যায়। তবে বহির্বিভাগে লম্বা লাইনের তেমন কোনো রোগী দেখা যায় নি। অথচ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে প্রতিনিয়ত হাজারের উপরের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এখন যেন এক সুনসান নিরবতা। হাসপাতাল কম্পাউন্ডে নেই ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভ, নেই ক্লিনিকের দালাল, নেই রোগীর আত্মীয় স্বজনের জটলা, নেই নানান রোগে আক্রান্ত বহির্বিভাগের সামনে হাজার খানেক রোগীর লম্বা সিরিয়াল। মাঝে মধ্যে দেখা মেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে এক দুইজন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে ফিরছেন।

সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের সন্ধা রানী বলেন, প্রতি মাসে হাঁটু ও গ্যাস্ট্রিকের কারণে হাসপাতালে আসতে হয়। করোনার কারণে গত এক মাস হাসপাতালে আসি নাই। তবে হাঁটু ব্যথা বেড়ে যাওয়ার ফলে আজ আসছি। তবে ডাক্তাররা আগের মতো যত্ন না করে দেখেই ওষুধের নাম লিখে দিল।

আসমা নামে আরও এক নারী বলেন, আমার ছয় মাসের ছোট বাচ্চা নিয়া হাসপাতালে আসছি সকাল বেলা। ডাক্তার আসছে কিন্তু তারা রোগী দেখতে কেমন কেমন যেন করে। অনেক দূর থেকে রোগী দেখে ওষুধের নাম লিখে দিচ্ছে।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশেদ উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা এবং জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় উপজেলাগুলো থেকে কোনো রোগী আসছে না হাসপাতালে। এছাড়া জরুরি বিভাগে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন এবং রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকদের ডিউটি ভাগ করে দেওয়া হয়েছে করোনা সংক্রমণের কারণে যাতে কোনো চিকিৎসকের করোনা পজেটিভ হলে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে অন্য চিকিৎসক দিয়ে এই সেবা দেওয়া যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগীরা, ডাক্তারও দেখছে দায়সারাভাবে

আপডেট সময় ০৩:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। প্রতিটি মানুষের ভেতর বাসা বেঁধেছে মৃত্যু ভয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের হওয়ায় বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধছে মানবদেহে। অথচ সামাজিক নিরাপদ দূরুত্বের কারণে রোগীরা হাসপাতালে যেমন সঠিক চিকিৎসা নিতে পারছেন না, ঠিক তেমনি করোনার ভয়ে ডাক্তাররাও রোগী দেখছেন দায়সারাভাবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কয়েকজন রোগীকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা যায়। তবে বহির্বিভাগে লম্বা লাইনের তেমন কোনো রোগী দেখা যায় নি। অথচ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে প্রতিনিয়ত হাজারের উপরের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এখন যেন এক সুনসান নিরবতা। হাসপাতাল কম্পাউন্ডে নেই ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভ, নেই ক্লিনিকের দালাল, নেই রোগীর আত্মীয় স্বজনের জটলা, নেই নানান রোগে আক্রান্ত বহির্বিভাগের সামনে হাজার খানেক রোগীর লম্বা সিরিয়াল। মাঝে মধ্যে দেখা মেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে এক দুইজন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে ফিরছেন।

সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের সন্ধা রানী বলেন, প্রতি মাসে হাঁটু ও গ্যাস্ট্রিকের কারণে হাসপাতালে আসতে হয়। করোনার কারণে গত এক মাস হাসপাতালে আসি নাই। তবে হাঁটু ব্যথা বেড়ে যাওয়ার ফলে আজ আসছি। তবে ডাক্তাররা আগের মতো যত্ন না করে দেখেই ওষুধের নাম লিখে দিল।

আসমা নামে আরও এক নারী বলেন, আমার ছয় মাসের ছোট বাচ্চা নিয়া হাসপাতালে আসছি সকাল বেলা। ডাক্তার আসছে কিন্তু তারা রোগী দেখতে কেমন কেমন যেন করে। অনেক দূর থেকে রোগী দেখে ওষুধের নাম লিখে দিচ্ছে।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশেদ উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা এবং জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় উপজেলাগুলো থেকে কোনো রোগী আসছে না হাসপাতালে। এছাড়া জরুরি বিভাগে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন এবং রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকদের ডিউটি ভাগ করে দেওয়া হয়েছে করোনা সংক্রমণের কারণে যাতে কোনো চিকিৎসকের করোনা পজেটিভ হলে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে অন্য চিকিৎসক দিয়ে এই সেবা দেওয়া যায়।