ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগীরা, ডাক্তারও দেখছে দায়সারাভাবে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। প্রতিটি মানুষের ভেতর বাসা বেঁধেছে মৃত্যু ভয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের হওয়ায় বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধছে মানবদেহে। অথচ সামাজিক নিরাপদ দূরুত্বের কারণে রোগীরা হাসপাতালে যেমন সঠিক চিকিৎসা নিতে পারছেন না, ঠিক তেমনি করোনার ভয়ে ডাক্তাররাও রোগী দেখছেন দায়সারাভাবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কয়েকজন রোগীকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা যায়। তবে বহির্বিভাগে লম্বা লাইনের তেমন কোনো রোগী দেখা যায় নি। অথচ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে প্রতিনিয়ত হাজারের উপরের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এখন যেন এক সুনসান নিরবতা। হাসপাতাল কম্পাউন্ডে নেই ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভ, নেই ক্লিনিকের দালাল, নেই রোগীর আত্মীয় স্বজনের জটলা, নেই নানান রোগে আক্রান্ত বহির্বিভাগের সামনে হাজার খানেক রোগীর লম্বা সিরিয়াল। মাঝে মধ্যে দেখা মেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে এক দুইজন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে ফিরছেন।

সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের সন্ধা রানী বলেন, প্রতি মাসে হাঁটু ও গ্যাস্ট্রিকের কারণে হাসপাতালে আসতে হয়। করোনার কারণে গত এক মাস হাসপাতালে আসি নাই। তবে হাঁটু ব্যথা বেড়ে যাওয়ার ফলে আজ আসছি। তবে ডাক্তাররা আগের মতো যত্ন না করে দেখেই ওষুধের নাম লিখে দিল।

আসমা নামে আরও এক নারী বলেন, আমার ছয় মাসের ছোট বাচ্চা নিয়া হাসপাতালে আসছি সকাল বেলা। ডাক্তার আসছে কিন্তু তারা রোগী দেখতে কেমন কেমন যেন করে। অনেক দূর থেকে রোগী দেখে ওষুধের নাম লিখে দিচ্ছে।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশেদ উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা এবং জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় উপজেলাগুলো থেকে কোনো রোগী আসছে না হাসপাতালে। এছাড়া জরুরি বিভাগে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন এবং রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকদের ডিউটি ভাগ করে দেওয়া হয়েছে করোনা সংক্রমণের কারণে যাতে কোনো চিকিৎসকের করোনা পজেটিভ হলে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে অন্য চিকিৎসক দিয়ে এই সেবা দেওয়া যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগীরা, ডাক্তারও দেখছে দায়সারাভাবে

আপডেট সময় ০৩:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। প্রতিটি মানুষের ভেতর বাসা বেঁধেছে মৃত্যু ভয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের হওয়ায় বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধছে মানবদেহে। অথচ সামাজিক নিরাপদ দূরুত্বের কারণে রোগীরা হাসপাতালে যেমন সঠিক চিকিৎসা নিতে পারছেন না, ঠিক তেমনি করোনার ভয়ে ডাক্তাররাও রোগী দেখছেন দায়সারাভাবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কয়েকজন রোগীকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা যায়। তবে বহির্বিভাগে লম্বা লাইনের তেমন কোনো রোগী দেখা যায় নি। অথচ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে প্রতিনিয়ত হাজারের উপরের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এখন যেন এক সুনসান নিরবতা। হাসপাতাল কম্পাউন্ডে নেই ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভ, নেই ক্লিনিকের দালাল, নেই রোগীর আত্মীয় স্বজনের জটলা, নেই নানান রোগে আক্রান্ত বহির্বিভাগের সামনে হাজার খানেক রোগীর লম্বা সিরিয়াল। মাঝে মধ্যে দেখা মেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে এক দুইজন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে ফিরছেন।

সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের সন্ধা রানী বলেন, প্রতি মাসে হাঁটু ও গ্যাস্ট্রিকের কারণে হাসপাতালে আসতে হয়। করোনার কারণে গত এক মাস হাসপাতালে আসি নাই। তবে হাঁটু ব্যথা বেড়ে যাওয়ার ফলে আজ আসছি। তবে ডাক্তাররা আগের মতো যত্ন না করে দেখেই ওষুধের নাম লিখে দিল।

আসমা নামে আরও এক নারী বলেন, আমার ছয় মাসের ছোট বাচ্চা নিয়া হাসপাতালে আসছি সকাল বেলা। ডাক্তার আসছে কিন্তু তারা রোগী দেখতে কেমন কেমন যেন করে। অনেক দূর থেকে রোগী দেখে ওষুধের নাম লিখে দিচ্ছে।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশেদ উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা এবং জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় উপজেলাগুলো থেকে কোনো রোগী আসছে না হাসপাতালে। এছাড়া জরুরি বিভাগে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন এবং রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকদের ডিউটি ভাগ করে দেওয়া হয়েছে করোনা সংক্রমণের কারণে যাতে কোনো চিকিৎসকের করোনা পজেটিভ হলে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে অন্য চিকিৎসক দিয়ে এই সেবা দেওয়া যায়।